# ঐশী থেকে মুগ্ধ……..

- Author: [মারজানা ফেরদৌস রুবা](https://sonelablog.com/author/marjanaruba2979/)
- Published: 2016-09-23T18:07:27+00:00
- Updated: 2016-09-23T18:09:22+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/), [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%90%e0%a6%b6%e0%a7%80-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%a7/

---

![received_10208728160414003](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/09/received_10208728160414003-233x300.jpeg)

ঐশী রহমান আর ফারদিন হুদা মুগ্ধ, দুটো বাচ্চাই প্রায় একই টাইপ কাজ করেছে। বয়সও তাদের প্রায় একইরকম। খুব সম্ভবত ঐশীরও ছিলো সতেরো আবার মুগ্ধরও সতেরো।  
ছেলেমেয়ে যখন কৈশোর ক্রস করে, তখন তাদের মন থাকে স্পর্শকাতর! স্পর্শকাতর মন তখন আচমকা অনেক ঘটনারই জন্ম দিয়ে ফেলে। ঐশী, মুগ্ধও আচমকা এমন কাজ করেছে, যা সমাজ সংসারকে নাড়িয়ে গেছে।

![photo-1474530829](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/09/photo-1474530829-300x200.jpeg)

কিন্তু তাদের এই অবস্থার পেছনে আসলে দায়ী কারা???

খুব অবাক হওয়ার তো আসলে কিছু নেই আমাদের! যেমন করে চাড়াগাছকে আমরা লালন করেছি, দিনে দিনে বাড়িয়ে তুলেছি তেমনই তো ফল দিবে। এজন্য অবাক হওয়ার তো কিছু নেই! দুঃখ করারও কিছু নেই! বরং প্রস্তুতি নেয়া দরকার আরও ভয়ঙ্কর রূপে আমাদের সামনে আসছে আগামীর দিনগুলো।  
সামাজিক অবক্ষয়ের শুরুটা কিন্তু ঘর হতেই শুরু হয়। ঘরেই মানব শিশু বেড়ে উঠাকালীন সময়ে নৈতিকতার শিক্ষা পায়, মনুষ্যত্ববোধ জাগ্রত হয়। কিন্তু সেখানে যদি এসবের অনুশীলন না করে প্রতিবেশির সাথে বা আত্মীয়ার সাথে পাল্লা দিতে সন্তানকে সোনায় সোহাগা করে রাখা হয় বা সন্তানটির সামনে অন্য সন্তানটিকে হীনচোখে দেখা হয় অথবা অন্যের নায্য অধিকারে অন্যায়ভাবে জবরদখল করে নিজের সন্তানের সুখ আনার নেশা তৈরি হয়, তো কোমলমনে বাচ্চার মানসিক গঠন প্রক্রিয়ায় তা মারাত্মক রেখাপাত করবেই। ফলে সন্তানটি ভীষণরকম আত্মকেন্দ্রিক হয়ে উঠে। একসময় দেখা যায় সে নিজের স্বার্থ ছাড়া আর কিছুই অনুভব করে না এবং স্বার্থ আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠে। তখন সন্তান ‘বখে’ গেছে বলে বিলাপ করেও কিছু হয় না। নিজে যেমন তৈরি করেছেন তেমনই হয়ে উঠেছে।  
ঐশী এবং মুগ্ধর মা-বাবা অঢেল টাকা ঢেলে সন্তানকে সুখ দিতে চেয়েছিল কিন্তু সুখ কি আদৌ দিতে পেরেছিলো? টাকা দিয়ে আনন্দ কেনা যায় কিন্তু সুখ কি কেনা যায়?

সন্তানকে আমরা নিজেরাই ভোগবাদী করে গড়ে তুলছি। একটা সন্তানের সামনে মা-বাবাই থাকে তার আদর্শ। এমনভাবে তাদের পরিচালিত করছি যেনো কেবল টাকা উপার্জনের মেশিন হওয়ার জন্যই তাদের পড়াশুনা করতে হবে! রেজাল্ট ভালো করতে হবে! তাইতো ফাঁস হওয়া প্রশ্ন কিনে এনে বাচ্চার হাতে তুলে দেই! ক’জন পিতামাতা চাই সন্তানটি মানুষের মতো করে মানুষ হোক? যদি চাইতাম, তো নিজেরাও সচেতন থাকতাম আর তাদেরও আচরণবিধি ঠিকঠাক গড়ে উঠছে কী না সেদিকে মনোযোগী হতাম। জ্ঞানার্জনের প্রয়োজনে তাদেরকে পাঠ্যবই ছাড়াও অন্য বই পড়াতে উৎসাহী করে তুলতাম। মনের বিকাশ ঘটে এমন প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করতাম।  
এখানে আরেকটা বিষয়ও উল্লেখ না করলেই নয়। আগে প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমে প্রতিযোগিতা হতো প্রতিযোগীদের মধ্যে, এখন তা হয় অভিভাবকদের মধ্যে। এটা এখন ভাইরাস আকার ধারন করেছে। এতে অভিভাবক শ্রেনি থেকে অন্য বাচ্চাটিকে হীন করে দেখা হয়, যা নিজ বাচ্চাটির মাঝে হিংসা এবং পরশ্রীকাতরতার জন্ম দেয়।

অন্যদিকে আমরা টাকা উপার্জনের ইঁদুর দৌড়ে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে সন্তানকে সময় দিচ্ছি না। সুখ কিনতে অঢেল টাকা উপার্জনে অনৈতিকতার আশ্রয় নিচ্ছি। যে বাচ্চাটি ছোটবেলা থেকে এটা দেখেই বড় হয় যে টাকা উপার্জনই জীবনের প্রধান লক্ষ্য, তার পরিবার এটাকেই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে, তার মানসিক গড়ন আসলে কেমন হবে? সে দেখছে এবং অনুভব করছে বাবা কী করে এই অর্থ আয় করেন। মা কিভাবে দেদারসে তা কেনাকাটায় খরচ করেন। বাবাটি ব্যস্ত থাকেন বিত্তবৈভব অর্জনে আর মা ব্যস্ত থাকেন তা আত্মীয় পরিজনকে প্রদর্শনীতে।  
সন্তানটিকে ভরসা দেয়ার জন্য বাবার সময় কই? আর ওম দেয়ার জন্য মায়ের ই-বা সময় কই?

এভাবেই আমাদের বিত্তবৈভবের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, অবহেলা, উদাসিনতা, অসততা আর ব্যস্ততার ফাঁক গলে আমাদের সন্তানটি বখাটে হয়ে যায় আমরা তা বুঝতেই পারিনা।

আবার সমাজেও এখন অঢেল টাকাকেই যোগ্যতার মাপকাঠি ধরা হয়।  
চাকুরীতে ঢুকে কয়েক বছর না যেতেই বাড়ি-গাড়ির মালিক হয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়ানো মানুষটার প্রতি আমাদের ঘৃণা নেই, কিন্তু আছে একধরণের ঈর্ষা।  
সমাজে মান-মর্যাদার মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে বিত্ত। জন্মদিনে বাচ্চাকে দামী আইফোন (যা কিশোর বয়সে দেয়াটাই অনুচিত।) দামী রেস্টুরেন্টে পার্টি না হলেও অন্ততপক্ষে খাওয়ানো আজকাল ফ্যাশন হয়ে উঠেছে, বৈধ সঙ্গতি থাকুক বা না থাকুক। বাবা না দিতে চাইলেও মায়ের চাপাচাপিতে দিতে বাধ্য।  
এদিকে পরিবারের গণ্ডি ছাড়িয়ে কিশোররা যখন দেখছে কোনোভাবে ক্ষমতাসীন দলের ছোটখাটো পর্যায়ে যেতে পারলেই হলো, টাকা আর টাকা। পড়াশোনা তাই লাটে উঠে। সে জানে টাকা থাকলে সবই হবে।

এই সুযোগ সবাই না পেলেও ভোগবাদী হয়ে গড়ে উঠা বাচ্চাটির সামনে মা-বাবা তো আছেই। তাদের অন্ধ স্নেহকে পুঁজি করে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করা হয়। আর তাতেও যদি কাজ না হয় তখন হাতে উঠে আসে ছুরি বা আগুন। কেউ অন্ধ ভালোবাসার খেসারত দিতে রক্তাক্ত হয়ে মারা পড়ে, কেউ বা আগুনে পুড়ে কয়লা হয়!!!

---

Comments: 18 — https://sonelablog.com/%e0%a6%90%e0%a6%b6%e0%a7%80-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%a7/#comments
