# ঐতিহাসিক ‘সিল্ক রোড’, সুদূর অতীতে বাংলাদেশেও যার নেটওয়ার্ক ছিল এবং নুতুন রূপে  ‘সিল্ক রোড’ 

Author: নার্গিস রশিদ
Published: 2022-05-21
Category: ইতিহাস ঐতিহ্য
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%90%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%95-%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a1-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a6/

ঐতিহাসিক **‘সিল্ক রোড’, সুদূর অতীতে বাংলাদেশেও যার নেটওয়ার্ক ছিল এবং নুতুন রূপে ‘সিল্ক রোড’**

সূর্য অস্ত যেত পশ্চিমের দেশ গুলোতে। কিন্তু এখন পৃথিবীর গ্লোবটি উল্টোদিকে ঘোরা আরম্ভ হয়েছে। 

বেশ কিছু শতাব্দী ধরে ভাগ্য এবং ভবিষ্যৎ সব পশ্চিমেই ছিল । এখন পূর্ব দিকেই যাবে। ধনী এবং বিলিওনেয়ার   এখন পূর্বেই উৎপত্তি হবে । মনে রাখতে হবে , এই সভ্যতার গোড়াপত্তন পশ্চিমে ছিল না,  ছিল এই পূর্বেই।  

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/05/Screen-Shot-2022-05-21-at-11.08.53.png)

**সিল্ক রোড কি**  

সিল্ক রোড কোন রোড নয় বা একটা সোজাসুজি রাস্তাও নয়। এটাকে রুট বা ব্যাবসার নেটওয়ার্ক বললেই ভালো বলা হবে। প্রায় ১,৫০০ বছর আগে ব্যাবসায়ীরা একটা নেটওয়ার্ক ব্যাবহার করতো। ব্যাবসায়ীরা মালামাল এক দেশ থেকে আর একদেশে সরবরাহ করতো এই নেটওয়ার্ক দিয়ে। খ্রিস্টপূর্ব ১৩০ বছর  আগে চীনের হ্যান ডাইন্যাসটির সময়ে এই নেটওয়ার্ক চালু হয়। এটা চলেছিল ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এবং অটোমান সাম্রাজ্যের শাসন আমলে এই নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়।

মানুষ জাতি ছিল হান্টার এবং গ্যাদারার, এক স্থান থেকে আর এক স্থান যাযাবরের মতো ঘুরে বেড়াতো। সর্ব প্রথম তারা স্থায়ী হয় এই মধ্য এশিয়াতে। টাইগ্রিস ইউফ্রেতিস নদী দ্বারা বিধৌত সমতল এই এলাকা ছিল উর্বর, সবসময় রোদ থাকতো, বরফ পড়ত না। এই স্থানেই চাষবাস আরম্ভ হয়, বসতি হতে থাকে। শহরের এবং সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন হয় সর্ব প্রথম এখানেই। 

**এই নামের উৎপত্তি** 

জার্মান ভ্রমণকারী ফারডিনান্দ ভন রিচথোকেন ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ব্যাবহার করেন ‘সিল্ক রোড’ শব্দ টি।কারন চীন থেকে সিল্ক যেত রয়াল ফ্যামিলিতে। রয়াল পরিবার সিল্ক পরিধানের মাধ্যমে নিজেদেরকে ধনী প্রমানীত করতো।আর এই সিল্ক যেত চীন থেকে।এই সিল্ক রফতানী থেকে এই রুটের নাম হয় সিল্ক রোড।  চীন থেকে শুধু সিল্ক নয়, চা, পরসেলিন, কাগজ, গান পাউডার , সিরামিক এর তৈজস পত্র ,মসলা  এবং জেড সহ মূল্যবান পাথর যেত পশ্চিমে।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/05/Screen-Shot-2022-05-21-at-11.38.31.png)চীনের প্রাচীন সিল্ক রোড

**চিন্তার আদানপ্রদান**    

 সিল্ক রোডের মাধ্যমে শুধুমাত্র মালামালই নয়, এর সঙ্গে আদান প্রদান হতো আইডিয়া, কালচার,টেকনোলজি, ভাষা এবং চিন্তা ভাবনার ।   যার মাধ্যমে এই পৃথিবীর অভূত পরিবর্তন আসে। চীনের ছিল কাগজ ছাপানো মেশিনের টেকনোলজি, কাগজ তৈরির আইডিয়া এবং গান পাউডার এর আবিষ্কার জ্ঞান । এই গানপাউডার যুদ্ধে ব্যাবহার করে পশ্চিমের অনেক দেশ। 

 তার  সাথে নানা রকম অসুখ বিসুখ এবং মৃত্যুও বিস্তার সাধন করতো। ১৩৪০ সালের ‘ব্ল্যাক ডেথ ‘ যা কিনা পুরো ইও রোপে  আঘাত করে ছিল তার জীবাণু এসেছিল এশিয়া থেকে এই সিল্ক রোডের মাধ্যমে । 

**সীমানা** 

এই সিল্ক রোডের বিস্তার ছিল চীন থেকে শুরু করে ইতালি পর্যন্ত। গোবী মরুভূমি এবং পামীর মালভূমি সহ এর সীমানা ছিল ৪,০০০ মাইল পর্যন্ত।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/05/Screen-Shot-2022-05-21-at-11.25.26.png)ইরানে  প্রাচীন সিল্ক রোড

**সভ্যতা**   

এই নেটওয়ার্কের আশেপাশেই গোড়ে উঠেছিল পৃথিবীর প্রাচীন চার সভ্যতা। মেসোপটেমিয়া এবং সুমেরিয়ান সভ্যতা, সিন্ধু মহেঞ্জাদারো সভ্যতা, মিসরীয় সভ্যতা, এবং চীনের সভ্যতা। 

**ধর্ম** 

এখান থেকেই আরম্ভ হয় ইসলাম, খ্রিস্টানিটি , হিন্দু এবং বৌদ্ধ এই  প্রধান চার ধর্মের। সবচেয়ে পুরানো মানব জাতির উপাসনালয়  “গবেলেকিটেপে” এবং মানুষ জাতির প্রথম ভিলেজ এই রুটের পাশে অবস্থিত। যাকিনা তুরস্কের দক্ষিণ পুর্বে সানলিউরফা তে অবস্থিত। ধর্মের প্রচারক, ধর্মস্থান এর তীর্থ যাত্রী , ভ্রমণকারী, অথবা ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজের সন্ধানীরা এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে চলাচল করতো। এবং নিজেদের ধর্ম বিশ্বাসের আদান প্রদান করতো। 

**সাম্রাজ্য** 

অনেক বড় বড় সাম্রাজ্যের উত্থান এর আশপাসেই হয়ে ছিল। বিখ্যাত পারস্য সম্রাজ্য, অটোমান সম্রাজ্য,রোমান সম্রাজ্য   মঙ্গলীয় সম্রাজ্য, আলেকজান্ডার এর রাজত্ব, চীনের হ্যান ডাইনেসটি, ইরাক,সিরিয়া,এবং তুরস্কের টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর দুই পাশের   সভ্যতা এবং সম্রাট অশোকার রাজত্ব  ( অশোকা দি গ্রেট ), কুশান সভ্যতা, সেন্ট্রাল এশিয়া এবং  আফগানিস্থানের সভ্যতা  এই অঞ্চলের  মধ্যেই বিস্তার লাভ  করে । ব্যাবিলন, উরুক, এবং আক্কাদ মেসপটিয়ামা এই সভ্যতার অংশ । 

এই সিল্ক রোড এক সময় কাজ করতো মানব দেহের ‘ সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের’  মতো । যা কিনা মানুষে মানুষে এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ সাধন করে। মানব দেহের চামড়ার নিচে নার্ভাস সিস্টেম আমরা দেখতে পাইনা কিন্তু তা এনাটমির মাধ্যমে দেখা যায়। ঠিক এই সিল্ক রুট মানব সভ্যতার পরিবর্তন সাধন করে যাচ্ছে ‘সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের’ মতো,  সভ্যতা এগিয়ে নেয়ার জন্য।  

**মার্কোপলো এবং সিল্ক রোড**

মার্কোপলো নামে একজন বিখ্যাত পরিব্রাজক ( ১২৫৪-১৩২৪) এই অঞ্চল গুলো ভ্রমণ করেন। তিনি এক ধনী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ভেনিস, ইতালি ভ্রমণ করে বাবার সাথে চীন  পর্যন্ত যান। তার বয়স তখন  ছিল মাত্র ১৭ বছর। তিন বছর ধরে তিনি ভ্রমণ করেছিলেন। ১২৭৫ সালে তিনি চাংডুর  ( xandu) কুব্লাই  খানের প্যালেসে এসে পৌঁছান । এর আগে কোন ইওরোপিয়ান  এখানে ভ্রমণ করেনি। ফিরে এসে তিনি তার ভ্রমণ কাহিনী বই  আকারে প্রকাশ করেন। এর পরেই এই রুট বিখ্যাত হয়ে উঠে। এবং তিনিও বিখ্যাত হয়ে যান। 

**UNESCO’s World Heritage** 

এই সিল্ক রোডের সাথে যে সমস্ত দেশ এবং শহর জড়িত তার একটা লিস্ট করেছে ইওনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ । চীনের বিখ্যাত টেরাকোটা সৈন্য , চীনের প্রাচীর এই নেটওয়ার্কের মধ্যেই ছিল।

আলেজান্দ্রিয়া (মিশর) , বাকু, বালক, বেজিং( চীন ), বুখারা, বার্সা, চেন্নাই (ভারত) , ইপিহাস (তুরস্ক) , ফতেহপুর, গ্রানাডা, হ্যামীডেন, হ্যানসু (চীন) এই শহর গুলো সিল্ক রোডের  ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের  মধ্যে পড়ে।    

**পারস্য সম্রাজ্য** 

যদিও অনেক সাম্রাজ্যের উত্থান এ অঞ্চলেই হয়েছিল তবে সবচেয়ে বিখ্যাত পার্সিয়ান সাম্র্যাজ্য ।৫৫০ B C থেকে৩৩১BC পর্যন্ত এবং  ভারতবর্ষ থেকে আরম্ভ করে ইউরোপ পর্যন্ত যার সীমানা ছিল ।  খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরীতে পার্সিয়ান সাম্রাজ্য খুব দ্রুত বিস্তার লাভ করে। যা বর্তমানের দক্ষিণের ইরান। পারস্য ক্রমাগত ভাবে প্রতিবেশী অঞ্চল গুলোতে শক্তিশালী প্রভাব ফেলতে থাকে। তারা aegear নদীর তীরে গিয়ে পৌঁছে। মিসর দখল করে। তারপরে পূর্বে তাদের সীমানা বিস্তার করতে থাকে। পৌঁছে যায় হিমালয় পর্যন্ত। গ্রীক ইতিহাস বীদ হেরিডটাস  লিখে গেছেন তাদের সাফল্যের পেছনে কাজ করছে যা তা হল তারা যেখানেই গেছে সেখানেই নিজেদের পোশাক পরিবর্তন করে সেই অঞ্চলের পোশাক পরিধান করতো। যার মাধ্যমে তাদেরকে সন্মান দেখানো মনে করতো এবং সেই অঞ্চলের মানুষই যে   উঁচু এটা তারা দেখাতে  চাইতো ।  

আজকের আধুনিক যুগে আমরা অক্সফোর্ড, কেম্বব্রিজ, হারভাট এবং ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলি যা পশ্চিমের দেশ গুলোতে আছে। কিন্তু তখন এসব কিছুই ছিলনা। ছিল পারস্যের বাগদাদ, বালখ, বুখারা এবং সমরকন্দ। শত শত বছর ধরে এই শহর গুলো  ছিল সভ্যতা এবং কালচারের কেন্দ্রভুমি। 

পারস্যের সবচেয়ে বিখ্যাত শাসক ‘ডারিউস দি গ্রেট’  ধনী দরিদ্র সকলের জন্য একই আইন এই বিষয়টি প্রয়োগ করে দেশের জনসাধারণের মধ্যে ডিসিপ্লিন  বজায় রাখতেন।তার আমলে ব্যাবসা বাণিজ্য দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে যা দিয়ে তিনি একটি শক্তিশালী  সৈন্য বাহিনী গোড়ে তুলেন । তিনি সুন্দর সুন্দর শহর গোড়ে তুলেন এবং সেগুলো হল ব্যাবিলন, পারসেপলিস, পাসারগাদে এবং সুসা। তিনি একটি প্যালেস করেন এবং সেখানে মিশর  থেকে সিলভার, লেবানন থেকে সিডার , ব্যাকেটরিয়া থেকে সোনা , ভারত থেকে আইভরি এনে জমা করতেন। 

বিভিন্ন সাম্রাজ্যের মধ্যে এই মালামাল আনা নেয়ার মাধ্যমে সভ্যতা ,ব্যাবসা এবং কালচারের আদান প্রদান হয়ে ছিল পুরো সিল্ক রোড ধরে।  

দামাস্কাস, কন্সত্যানটীনপেল,ইস্পাহান, সমরখান্দ, কাবুল, কাসঘর এইগুলো ছিল পৃথিবীর  সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যাক্তিদের জ্ঞান চর্চার স্থান। 

বলা যেতে পারে কেন এতো কালচারড এবং উন্নত  ছিল সিল্ক রোডের আশপাশের মানুষ এবং শহর। কারন তারা শুধু ব্যাবসাই করেনি তারা নিজেদের বিদ্যা, জ্ঞান,টেকনোলজি, আইডিয়া, এগুলোরও আদান প্রদান করেছিলো। যার যা আছে তা বিতরণ করেছে। দর্শন,বিজ্ঞান, ভাষা, তারও আদান প্রদান হয়েছিলো। 

“ A talent for following the ways of yesterday,” যা বলে গেছেন ২০০০ বছর আগে Zhao নামক এক চীনের শাসক ।  

আজকের আফগানিস্থানের জালালাবাদ,হেরাত। ইরাকের ফালুজাহ এবং মাসুল অথবা সিরিয়ার আলপ্প কে বলা হয় কট্টর ধর্মের দ্বারা সৃষ্ট ভায়লেন্সে ভরা দেশ। কিন্তু যদি বর্তমান কে ধুয়ে ফেলা যেতো দেখা যেতো অতীতের চিত্র। তখন এই আফগানিস্থান কে নিয়ে ভারতের মোঘল সাম্র্যাজ্যের ভিত্তি স্থাপন কারী সম্রাট বাবর বলেছিলেন ‘ ইডেন অব গার্ডেন’ । কত গর্বিত ছিলেন  তিনি এই শান্তিময়  এবং সুন্দর তখনকার আফগানিস্থান নিয়ে । যা এখন কল্পনার অতীত। 

**মেসপটিয়ামা**

এই এলাকাটি ছিল পার্সিয়ান গালফ থেকে আরম্ভ করে মেডিটেরিয়ান উপকূল ধরে। মানবজাতির প্রথম ‘আইন’ যা এখানেই  আরম্ভ হয়।যা জারী হয়েছিলো ৪০০০ হাজার বছর আগে। ব্যাবলীনের রাজা হাম্মুরাবি ( hammurabi) দ্বারা । 

তিনি ঘোষণা দিলেন যে তাদের আদেশ নির্দেশ  যারা মানবেনা  তারাকে শাস্তি দেয়া হবে।  

টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদী দ্বারা বিধৌত এই স্থান টি ছিল উর্বরা এবং এখানেই প্রথম সভ্যতা গোড়ে উঠে। মানব জাতি দ্বারা সৃষ্ট প্রথম গ্রাম, প্রথম শহর এখানেই ভিত্তি স্থাপন করে। তুরস্কের সানলিউরফা তে এই প্রথম শহর এবং গ্রাম অবস্থিত ।

  **আলেকজান্দার দি গ্রেট**  

মেসাডনিয়ার আলেকজান্ডার আর একজন বীর এই সিল্ক রোডের সাথে জড়িত ।তার বাবাকে  ৩৩৬ B.C সালে হত্যা করা হয়। তার বাবার মৃত্যুর পর  তিনি সিংহাসনে বসেন। তিনি ক্রীতকার্জ হওয়ার জন্য ভাবতে থাকলেন কোন ডাইরেকসনে তিনি যাবেন। পুর্বে না পশ্চিমে । তিনি পশ্চিমে যাননি । কারন তার মতে সেখানে কোন শহর নাই,কালচার নাই, প্রেস্টিজ নাই এবং কোন প্রাপ্তি নাই। তিনি পুর্ব অভিমুখী হওয়ার জন্য মনস্থির করলেন। ৩৩১ BC সালে মিশরে পার্সিয়ান দের ক্ষমতা দুর্বল হতে থাকে। এই সুযোগে তিনি মিশর দখল করেন। ছলে বলে কৌশলে তিনি মিশরীয় হওয়ার জন্য  ধর্ম ,পোশাক, এবং ভাষা পরিবর্তন করে মিশরীয় দের মতো হওয়ার পরিকল্পনা করতে থাকেন। যাতে মিশরীয়রা তাকে গ্রহন করে এবং তাদের সাথে মিলে যেতে পারেন।  

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/05/Screen-Shot-2022-05-21-at-11.36.07.png)গ্রিসের পোশাকের ছাপ গান্ধারার বৌদ্ধ মূর্তিতে 

পারস্যের  মধ্যে দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক শহর  দখলের পর  তিনি হিন্দুকুশ পর্বতের মধ্যে দিয়ে সিন্ধু নদের তীরে এসে পৌঁছেন । আলেকজান্ডারের হটাৎ মৃত্যুর পর সেনাবাহিনীর প্রধান সেলুকাস তার নাম দিয়ে selencids স্যামজ্য গোড়ে তুলেন এবং যা ছিল মেডিটেরিয়ান থেকে হিমালয় পর্যন্ত বা টাইগ্রিস নদী থেকে সিন্ধু নদ  পর্যন্ত । আর এর সময় কাল  ছিল ৩০০ বছর   আলেকজান্ডারের মৃত্যু হলেও তার প্রভাব এই অঞ্চলে থেকে যায়। তারা বৌদ্ধ ধর্মে প্রভাবিত হলেন ।  গান্ধারায় যে বৌদ্ধ মুর্তি গুলো দেখা যায় সেগুলোর পরিহিত পোশাক গ্রীক দেবতাদের পোশাকের প্রভাব  আছে   এবং মুর্তি গুলোর নাক ও  মুখের কাটিং ও  গ্রীস দেশের মানুষের মতো। 

প্রাচীন কালের দুটো সিল্ক রোডের সাথে বাংলাদেশের যোগ ছিল, যা এখন বিলীন।

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/05/Screen-Shot-2022-05-21-at-11.08.14.png)চীনের কুনমিং থেকে বাংলাদেশ যাওয়ার প্রাচীন রুট

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/05/Screen-Shot-2022-05-21-at-11.04.16.png)পামির মালভূমির মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের দিকে যাওয়া সিল্ক রোডের আর একটা রুট

ঐতিহাসিক সিল্ক রোড বাংলাদেশরও যার  নেটওয়ার্ক ছিল যা এখন  বিলীনঃ

টি হর্স রোড ( Tea Horse Road) অর্থাৎ এই রুটে চীনের উনান প্রদেশের চা এর সাথে ঘোড়ার বিনিময় হতো এই রুটের মাধ্যমে। প্রতিরক্ষার জন্য চীনের ঘোড়ার দরকার ছিল যা তাদের ছিলনা ছিল উনানে  উৎপাদিত চা। এই রুটের দুটো দিক ছিল।

১) তিব্বত এবং  ভারত  হোয়ে বাংলাদেশে একটা রুট 

২) উনান থেকে বার্মার মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশে আর একটা রুট 

তিব্বত -ভারত সিল্ক রুটঃ 

চীনের xian ( সিয়ান) থেকে একটা রুট চলে গেছে পশ্চিমে গানসু করিডরে। সেখান থেকে কুইঙ্ঘাই পর্বত এর উত্তরে গোবি মরুভূমির মঙ্গোলিয়ার দিকে। গান্সু প্রদেশের ডানহুয়াং শহর থেকে একটা রুট চলে গেছে পশ্চিমে সমরকন্দের দিকে। আর একটা রুট চলে গেছে দক্ষিণে ,যেখানে পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু পর্বত পামীর মালভূমী , কারাকোরাম, কুনলুন, এবং হিন্দুকুশ, এক সাথে মিশে গেছে। এখান থেকে কেউ যেতে পারবে সামারকান্দ কেউ দক্ষিণে ভারতে।  

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কালে যে আরকেওলজিক্যাল বিষয় গুলোর আবিষ্কার হয়েছে যেমন নরসিংদীর ওয়ারি বটেস্বর , দিনাজপুরের ভিটাগড় , মহাস্থান গড়, বিক্রমপুর এবং পুণ্ড্রবর্ধন  এবং এখানে যে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে তাতে দেখা যাচ্ছে সেখানে প্রাচীন কালে বৌদ্ধ ধর্মের মং দের যাওয়া আসা  হতো এই পথ দিয়ে । কারন প্রত্যেকটি স্থানে বৌদ্ধ মন্দির পাওয়া গেছে ।  ওয়ারী বটেস্বরে পাওয়া গেছে কাঁচের পুঁথি।যা এখানে বানানো  হতো এবং তা চলে  যেতো রোমান এবং পারস্য সাম্র্যাজ্যে । এটা ছিল একটা বন্দর নগরী । হিমালয় থেকে নেমে আসা ব্রম্ভপুত্র নদী তখন ছিল প্রমত্তা চ্যানেল। এই পথ দিয়ে বাণিজ্য হতো সেই সময়ে। খ্রিস্টপুর্ব ৩ এবং ৪ শতকে এটা একটি আন্তর্জাতিক রুট ছিল।

**চেংডু -কুনমিং – বার্মা- বাংলাদেশ রুট**  

এটি চেংডু থেকে আরম্ভ করে কুনমিং  এর মধ্যে দিয়ে ডালি,বাউসান,উনানের রুলি হোয়ে বার্মায় প্রবেশ করতো সেখান থেকে ইরাবতি  নদী পার  হোয়ে নাগা পর্বতের মধ্যে দিয়ে  আসামে পৌঁছাত এবং সেখান থেকে বাংলাদেশে আসতো। রাস্তা  ঘাট সে সময় বিপদ সংকুল থাকায় ঘোড়া এবং ব্যাবসায়িরা পরিবর্তিত হতো। কিন্তু মং বা ভিক্ষু পরিবর্তিত না হোয়ে সোজা চলে আসতো এই সমস্ত রুট দিয়ে। ৪র্থ সেঞ্চুরিতে বিখ্যাত পরিব্রাজক ফা- হিয়েন, ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরিতে সুয়াংজ্যাং চীন থেকে ভারতবর্সে আসেন এই রুট ধরে বৌদ্ধ ধর্ম সংশোধনের জন্য।

নদী পথের পরিবর্তনের জন্য নদী বন্দরের কাজ বন্ধ  হোয়ে যায় তার সাথে অনেক প্রাচীন জনপথও বন্ধ হোয়ে যায়।

**পশ্চিমা দেশ গুলো কিভাবে এবং কখন থেকে জেগে উঠে**

যদিও সভ্যতা এবং তার সাথে ব্যাবসা বাণিজ্য সবই ছিল পূর্ব দিকে।  কিন্তু এতো অগ্রগতি থাকার পরেও কখন থেকে সেই অবস্থা থেমে  যায় ? কি ঘটনা ঘটলো যার পর  পশ্চিমা দেশ গুলোতে  এই অগ্রগতি  চলে গেলো ? 

**এই চলে যাওয়ার কারন হল দুটো বৃহৎ অভিযান ( Expeditions)**  

দৃশ্যপটের পরিবর্তন হতে থাকে পনেরো শত  শতাব্দীর শেষের দিক থেকে।  এই সময়ে ঘটেছিল দুটো বড় বড় অভিযান। প্রথমটা ছিল ‘ ক্রিসটোফার কলম্বাস’   এর অভিযান এবং দ্বিতীয়টি ‘ ভাস্ক ডা গামার’  ভারত যাওয়ার জন্য রওনা দিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলো আফ্রিকা। যার ফলে নুতুন দুটো রুটের আবিষ্কার করে ফেলে পশ্চিমারা। 

যা কিনা আন্তর্জাতিক ব্যাবসা পরিবর্তনে সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর রাজনীতি, অর্থনীতি সবই পরিবর্তন হতে থাকলো। এই দুটো অভিযানের হাত ধরে পরিবর্তনের হাওয়া বদলাতে লাগলো সারা  বিশ্বে। 

ইতিহাস সবসময় নিজের মতো করে বানিয়ে নেয় এবং তা অতিরঞ্জিত করে বলতে থাকে।

যেমন এখন পশ্চিম বলে থাকে যে তাদের উন্নতি হতোই এবং তা  স্বাভাবিক ভাবেই হয়েছে। পশ্চিমা দেশ গুলো এমন ভাবে বলে যেন তারা উন্নতি হতে ব্যাধ্য  এবং তাদের উন্নয়ন এমন ভাবেই তারা প্রকাশ করে। তারা  বোঝাতে চায় 

তাদের উন্নতি অবধারিত এবং তারাই ঠিক । তাদের দেশ চালনার ব্যাবস্থাপনা , পলিসি সবই ঠিক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে তাদের পলিসি কোন কিছুই ঠিক নয়। 

ইরাক, সিরিয়া,লিবিয়া, আফগানিস্থান,ভিয়েতনাম  আর ইরান । কোথাও গণতন্ত্র নাই তা ঠিক করার নামে, কোথাও তালেবান বা উগ্রপন্থী ধর্ম বন্ধ করার নামে এবং কোথাও হিউম্যান  রাইট নাই এই ছুতা দেখিয়ে তারা সেই সমস্ত দেশের আভ্যন্তরীণ  ব্যাপারে প্রবেশ করে এবং দেশ ধ্বংস করে।  যা পুরো মানব জাতির জন্য ক্ষতিকর।     

### **‘সিল্ক রোড’ বর্তমান পৃথিবী**

‘সিল্ক রোড’ আবার নুতুন করে জেগে উঠছে এবং তার সাথে এক নুতুন পৃথিবীও জেগে উঠছে। একটা নুতুন সময়ের উত্থান হচ্ছে সেখানে। এটা এমন একটা সময় যেখানে আমরা এশিয়ান শতাব্দীতে বাস করছি। অর্থাৎ এমন একটি শতাব্দী  যেখানে উন্নত পশ্চিমা দেশ গুলোর তুলনায় এশিয়ার দেশ গুলোর অর্থনীতি আশ্চর্য জনক ভাবে এবং  দ্রততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে এই এলাকার অনেক দেশে মাথাপিছু ইনকাম দ্বিগুণ হোয়ে যাবে। একটা রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে ‘ Asia would regain the dominant economic position it held some 300 years ago before the Industrial Revolution’ . 

আমরা বলতে পারি পশ্চিমা দেশ গুলো উঠার আগে এশিয়া যেমন শক্তিশালী ছিল তা আবার পুনঃ উদ্ধার হতে যাচ্ছে। আবার তারা শক্তিশালী হবে যেমন তারা আগে ছিল। 

চীনের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হল প্রাচীন সিল্ক রুট কে শক্তিশালী করা। এইজন্য প্রেসিডেন্ট সিপেঞ্জি ২০১৩ সালে 

$ ১৬০ বিলিয়ন  ডলারের একটা ফান্ড করেছে । যা দ্বারা ইনফ্রাসট্রাকচার অর্থাৎ রাস্তাঘাট, ব্রিজ, টানেল, গভীর সমুদ্র বন্দর, পাওয়ার প্ল্যান্ট, বিশেষ ইকোনমীক  জোন এবং রেলওয়ের উন্নয়ন জন্য ব্যয় করা হবে। লোন  হিসাবে তা দেয়া হবে প্রায় ১০০০ প্রজেক্ট এর জন্য । যা এই অঞ্চলের অর্থনীতি এবং রাজনীতির ক্ষমতা কে আরও শক্তিশালী করবে। 

মনে করা হচ্ছে, চীন এই সব উন্নয়েনের মাধ্যমে ব্যাবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। 

**নুতুন সিল্ক রোড কে জাগানোর জন্য যা করা আরম্ভ হোয়ে গেছে** 

.)  কাজাকিস্থানে একটা শপিং মলের নাম রাখা হয়েছে ‘ মেগা সিল্ক ওয়ে শপিং মল’ । 

.)  তারকিমেনিস্থান ২০১৮ সালে একটি ন্যাসান্যাল স্লোগান চালু হয়েছে সেটা হল ‘ তারকিমেনিস্থান হল গ্রেট  সিল্ক রোডের  কেন্দ্রস্থল’ । 

.)  Standard Chartered Bank ঘোষণা দিয়েছে ‘ One Belt, One Road, One Bank আপনার ব্যাবসাকে যোগ করে দিবে আফ্রিকা, এশিয়া এবং মিডিল ইস্ট কে’  । 

.) ‘ ক্যাথি প্যাসিফিক ফ্লাইট’ এ যে গ্লসি ম্যাগাজিন থাকে তার নাম দেয়া হয়েছে ‘সিল্ক রোড’ 

**নুতুন সিল্ক রোড** 

![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2022/05/Screen-Shot-2022-05-21-at-11.03.12.png)

**চীন কেমন ভাবে পৃথিবীকে দেখতে চায় এবং কিভাবে ভবিষ্যৎ কে প্রস্তুত করা যায় তার পরিকল্পনা** 

সি- জিনপিং এর আমলে দেখা যাচ্ছে শুধু তার নিজের দেশর মধ্যে  নয়  বরং তা তিনি  আন্তর্জাতিক ভাবে পুনর্রজাগরণের পরিকল্পনা করতে যাচ্ছেন। ১৯২১ সালে ক্যমুইনিসট পার্টির আরম্ভকারী  জিয়াং ( JING) বলেছিলেন ‘The great revival of Chinese nation’ অর্থাৎ “ চাইনীজ জাতি কে পুনঃ জাগরিত হতে  হবে”  বা চীন কে জেগে উঠতে হবে। তিনি আরও বলেছিলেন যে শুধুমাত্র অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ভাবেই জাগতে হবে তাই নয় রাজনৈতিক শিক্ষাকেও জাগাতে হবে। এবং এই ভাবে জাগাতে পারলে চীনের সভ্যতার পুনর্জাগরন  ঘটবে।  

এর ফলাফল হল পরিষ্কার এবং তা হল চাইনিজ সভ্যতা ছড়িয়ে পড়ছে এবং বৃদ্ধি পাচ্ছে বেশী করে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে। 

যতদূর দৃষ্টি যায় তাতে মনে হচ্ছে এটা খুবই উচ্চাকাংখি চিন্তা এবং প্রচুর ব্যায়বহুল । নুতুন সিল্ক রুটের উদ্দেশ্য হল চীন কি ভাবে পৃথিবী কে দেখছে এবং কি ভাবে নিজেকে তৈরি করছে।    

**One belt one road ,Financing The New Silk Road** 

এশিয়ান ইনফ্রাক্সট্রাকচার ব্যাঙ্ক ২১ টি দেশ একমত হয়েছিলো এর ফাউনডার মেম্বার হওয়ার ঘোষণা দিলেন। যা দ্বারা সিল্ক রোডের ফাইন্যান্স করা হবে। এর মধ্যে দিয়ে প্রমাণ হল এশিয়ার আকাঙ্ক্ষা। চীন এর উদ্দেশ্য প্রতিবেশী দেশের সাথে ঘনিষ্ট  সম্পর্ক । ১৩৮ টি দেশ এবং ৩০ টি ইন্টারন্যাসানাল অরগানাইজেসান নুতুন সিল্ক রোডের সাথে জড়িত। 

**আফ্রিকা সিল্ক রোডের অংশ** 

জাম্বিয়া, ইথিওপিয়া, ঘানা এবং  কেনিয়ায় সিল্ক রোডের অংশ হিসাবে রাস্তা,রেল, ব্রিজ এবং সমুদ্র বন্দর নির্মাণ করা হচ্ছে। 

**চীন থেকে পশ্চিমেঃ** 

১৯৯১ সালে কাজাকিস্থান,কিরগিস্থান, তাজিকিস্থান, উজবেকস্থান এবং তারকিমেনিস্থান স্বাধীন হয় । মধ্য এশিয়ার এই দেশ গুলো অর্থনৈতিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হতে চায়। এইজন্য তারা চীনের এই প্রস্তাবে একমত হয়। তাদের রাস্তা, রেল, ব্রিজ এবং টানেলের উন্নতির জন্য চীনের প্রস্তাবে রাজী হয়। 

**চীন এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া** 

চীন দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলোর সাথে BRI কে সংযোগ করতে চায়। দুই পরাশক্তি নিয়ে এখানে টানা পুরনের খেলা চলছে। দেশ গুলো চিন্তা ভাবনায় পড়েছে কোন দিকে যাবে। 

বাংলাদেশ, চায়না, মায়ানমার, ভারত করিডর BRI প্রোজেক্ট যা থেকে ভারত সরে আসতে চায়। 

**নুতুন রুট** 

স্থল পথের রুট ছাড়াও মেরিটাইম রুটের জন্য  মহাসাগরে যোগাযোগের জন্য মেরিটাইম সিল্ক রুট বানানো হচ্ছে। 

অন্যান্য করিডোর গুলো হল নিউ ইউরাসিয়ান ল্যান্ড ব্রিজ, Northern China through Mongolia to Russian Far East, China Central Asia-West Asia Corridor, Western China to Turkey, China -Indochina Peninsula-Tran Himalayan Multi dimensional connectivity network. China Pakistan economic corridor. Bangladesh -Myanmar- China-India corridor. 

**নুতুন সমস্যার জন্ম হতে পারে**

চীনে ইওং জেনারসেনের ঘাটতি হতে পারে । work force  কম হলে কাজ চালানো সমস্যা হতে পারে। তাছাড়া যে ফান্ডের ঘোষণা করা হয়েছে তা ছাড়িয়ে যেতে পারে। 

তবে একবার এই সমস্ত প্রোজেক্ট শেষ হলে চীনের তো  উপকার হবেই তার সাথে যে সমস্থ দেশে এই প্রোজেক্ট গুলো করা হচ্ছে তাদের আর্থ সামাজিক আবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে।  

**সমালোচনা** 

চীনের ওয়ান বেল্ট  ওয়ান  রোড কে অনেক দেশ বিশেষ করে পশ্চিম ইওরোপ এবং আমেরিকা এটাকে নেতিবাচক হিসাবে দেখছে । যাকে বলা হয় Neo – Colonialism অর্থাৎ অন্য দেশ গুলোর উপর ক্ষমতা বিস্তার বা আধিপত্য বিস্তার করা। 

কেউ কেউ আবার এটাকে **Debt-trap diplomacy** আখ্যায়িত করছে। অর্থাৎ BRI এর মাধ্যমে দেশ গুলোকে একটা ট্র্যাপের মধ্যে ফেলা। যা থেকে উদ্ধার পাওয়া একটা কঠিন ব্যাপার। 

**শ্রীলংকার উদাহরণ টানা** 

শ্রীলংকার উদাহরণ সবসময় টানা হয়। প্রফেসর Deborah Brautigam ( প্রফেসর johns Hopkins বিশ্ববিদ্যালয় ) এই debt trap diplomacy থিওরী  সম্বন্ধে বলেন ‘ চীনের যে অগ্রগতী হচ্ছে সেটাতে এংজাইটি তে ভোগা দেশ সমূহ   এই গুলো বলে  একটা প্রচার চালাতে চাচ্ছে’ । এই থিওরীর মাধ্যমে চীন এবং ডেভোলাপিং দেশ গুলির মধ্যে একটা খারাপ সম্পর্ক তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে। 

শ্রীলঙ্কা চীনের চেয়েও বেশী ধার নিয়েছে জাপান, ওয়ার্ল্ড ব্যাঙ্ক এবং এশিয়ান ডেভোলাপমেনট ব্যাঙ্ক থেকে। একটা দেশের রপ্তানী আয় না থাকলে এই রকম dept এর মধ্যে পড়া অবধারীত ।

**হীনমন্যতায় ভোগা  এবং প্রতিনীধিত্ত হারানোর ভয়** 

আধুনিক পৃথিবীতে  নুতুন সিল্ক রোড একটা গুরুত্বপুর্ন পরিবর্তন এনে দিচ্ছে। ইংরেজি ভাষাভাষী দেশ গুলোকে এই পরিবর্তনটা একটা নিরাপত্তা হীনতায় ফেলে দিচ্ছে। এবং তারা হীনমন্যতায় ভোগা আরম্ভ করেছে। কারন তাদের প্রতিনীধিত্ব হারাবার ভয় চলে এসেছে।  

তবে এটা তাদের জানতে হবে এই প্রাচীন সিল্ক রোড যখন আরম্ভ হয়,  তখন সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়  এখানে , তখন পশ্চিমে কিছুই ছিলনা।  

**তথ্য সূত্রঃ** 

The new silk roads 

The Present And future of the World 

Peter Frankopan, Historian University Of Oxford

The Silk Road: A New History of the world

Peter Frankopan, Historian University Of Oxford

China’s Asian Dream:

Empire Building along the new silk road

Tom Miller

Hasna Moudud, Writer, silk road

Leroy B. Williams Research Professor Of History and Political Science, Fellow Harvard Kennedy School

**লেখকের নিজস্ব ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে, চীনের টি এন্ড হর্স সিল্ক রোড এবং তুরস্কের সিল্ক রোড ভ্রমণ থেকে** 

Photo creditঃ উইকিপেডিয়া 

প্রবন্ধঃ

লেখক ও গবেষকঃ হুসনুন নাহার নার্গিস ,লন্ডন
