# এখন করোনা কাল,  সাধু তুমি সাবধান – ৪ ! ﻿

Author: সুপায়ন বড়ুয়া
Published: 2020-07-21
Category: সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%8f%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%be-3/

সারা বিশ্ব আজ করোনা নামক অদৃশ্য শক্তির সাথে যুদ্ধে লিপ্ত  
মানুষের মৃত্যুর মিছিল প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে। সম্মুখ যুদ্ধে মারা যাচ্ছে ডাক্তার, বাস্থ্য কর্মী আর নিবেদিত প্রাণ মানুষ গুলো । মানুষ হচ্ছে গৃহবন্দী আর অর্থনীতির চাকা দাঁড়াচ্ছে থমকে। মানুষ হারাচ্ছে কাজ। হচ্ছে নি:স্ব থেকে নি:স্বতর। জীবন যুদ্ধে লড়াই করে ঠিকে থাকার জন্য প্রাণপনে লড়াই করছে মানুষ। এই জন্য চাই শক্তি সাহস সর্বোপরি মনোবল। তাই মানুষ আজ দাড়াচ্ছে মানুষের পাশে আর সুযোগসন্ধানী ও অশুভ শক্তি ওৎ পেতে থাকে ঘোলা জলে মাছ শিকারে। তারা আস্থাহীনতার পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মানুষের মনোবল ভাঙতে চায়।

সময় ও বাস্তবতার সাথে মানুষের বিচার ও বুদ্ধি বিবেচনা বোধের পরিবর্তন হতে পারে। তাই অশুভ শক্তি সব সময় এই সুযোগ নিতে পিছপা হয় না যদি শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রন করা না হয়। গতকাল যা ছিল প্রেরণার উৎস আজ তা নাও থাকতে পারে।

আমি আজ ছোট করে দুই একটি ঘটনা তুলে ধরতে চাই  
দুইজন প্রতারক রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ আর জিকেজি মালিক আরিফ- সাবরিনা প্রতারণার দায়ে বিচারের কাটগড়ায়। পেশাধার টকশো ওয়ালারা অপরাধীর বিচার না করে অপরাধীরা কোন দল করে সেটা নিয়ে ব্যস্ত থেকে অপরাধীর অপরাধকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে চায়। ফলাফল সামাজিক প্রতিক্রিয়াটা আরও ভয়ন্কর।

দুইদিন আগে আমার ফেইসবুক ওয়ালে ছোট্ট একটি প্রশ্ন রেখেছিলাম। প্রতিক্রিয়া দেখে আকাশ থেকে পড়ার অবস্থা। সবাই দেখি অপরাধীর পক্ষে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্নটা ছিল নিম্নরূপ।

1\. কন্যা দায়গ্রস্ত পিতা কন্যা সম্প্রদান করার পরে দেখলেন, স্বামী প্রতারক! যৌতুকের দাবীতে মেয়েকে অত্যাচার করছে। অপরাধের কাঠগড়ায় কাকে দাঁড় করাবেন ?  
পিতাকে নাকি প্রতারককে ?

সবাই কমবেশী সরাসরি উত্তর না দিয়ে বলে। বাবাই অপরাধী কারণ মেয়েকে যোগ্য করে যোগ্য পাত্রে বিয়ে দেয় নি বলে। অর্থাৎ সবাই অপরাধীর পক্ষ নিলেন।  
কি ভয়ঙ্কর মানুষের ধারণা জন্ম নিল ?

কারণ পেশাধারী টকশো ওয়ালারা সরকারের দিকে আঙ্গুল তুলতে পারলেই কাটতি বাড়ে। কিন্তু বলে না সরকারই ব্যবস্থা নিয়ে অপরাধী দের শাস্তির আওতায় আনছে। সমাজে ভুল ম্যাসেজ দিয়ে মানুষের আস্থা আর মনোবল ভাঙে সর্বনাশ ডাকতে চায়। বলে না শটের ছলের অভাব হয় না। অপরাধীর অপরাধকে হালকা করার অপচেষ্টা কখনো শুভ ফল বহে আনতে পারে না। তার সাথে কোন সরকারী কর্মকর্তা বা আমলা জড়িত থাকলে তাকে ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। এবং আসবে এ বিশ্বাষ আমরা রাখতে চাই।  
2\. সাহাবুদ্দীন মেডিকেলও আজ একি দোষে দুষ্ট ম্যাডামের পছন্দের হাসপাতাল ইউনাইটেড হাসপাতাল মানুষ পুড়ে হত্যা করলো এটা নিয়ে কেউ কথা বলে না। তাহলে দুর্নীতির যদি রঙ থাকে তাহলে উচ্ছেদ কিভাবে হবে ? সাদাকে সাদা কালোকে কালো বলতে না পারলে সমস্যা সমাধান হবে না।

সাহেদারা রাজনীতির ছত্রছায়ায় অপরাধ করলে তারা যে ছাড় পায় না সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করলেন। এখন এটাকে প্রশংসা করলে অপরাধীরা শঙ্কিত হবে। সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ আর সাহস দিলে ষড়যন্ত্রকারী, কেউকাটা আর উৎপেতে থাকা এক এগারোর কুশীলবরা গর্ত লুকাবে আর অপরাধীরা লেজ গুটাবে।

এই অপ্রিয় সত্যটা যদি কেউ না বুঝে তাহলে মানুষের কপালে আর ও দু:খ আছে।

নি:সহ যন্ত্রনার এই করোনা সময় কাটে মাঝে মাঝে ছবি দেখে। সেদিন এক বাংলা ছবি অসূর ছবিতে আটকে গেলাম। শিল্পী এক রিক্সাওয়ালাকে ধরে এনে ২ হাজার টাকা দিয়ে অসূর বানিয়ে যেই জীবন্ত মূর্তি বানালেন তা দেখেই আটকে গেলাম। শিল্পী চ্যালেঞ্জ নিয়ে মালিকের ২/৩ টা ফ্লাট বিক্রী করে বিশাল এক দু্র্গামুর্তি বানালেন মাঠে। পূজার আগে সাড়া পড়ে গেল সারা ভারতবর্ষ জুড়ে।  
পুজার প্রথম দিনেই মানুষের ঢল নামলো সেই পুজা মন্ডপে।

কিন্তু শত্রুপক্ষ সুযোগ খোঁজে সেই পূজা মন্ডপ আর মূর্তি কিভাবে ধ্বংস করা যায়। যথারীতি কয়েকজন গুন্ডা ভাড়া করে মোবাইল সদৃশ হাত বোমা ব্যবহার করে মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে পন্ড করে গুজব রটায় ১১ জন লোক মারা গেছে। কলকাতার পুলিশ সাথে সাথে পূজা বন্ধ করলেন আর মুর্তি দিলেন ঢেকে আর শিল্পী প্রতিবাদ করায় তাকে মেরে করা হল গ্রেফতার।

এদিকে নাশকতার নায়ক আবার শিল্পীর জামিনের ব্যবস্থা করলেন। শিল্পী পুলিশে গিয়ে ১১ জনের লাশের খোঁজ পুলিশ দিতে ব্যর্থ হয়। অর্থাৎ পুলিশের সমস্থ সিদ্ধান্ত অপরাধীর পক্ষে গেল সাথে জনগন ও।  
শিল্পীর শেষ ইচ্ছা পুরনে মুর্তি স্থায়ী করতে গভর্নরের কাছে আর্জি নিয়ে গেলেন। গভর্নর ও জনতার সিদ্ধান্তে বাইরে স্থায়ী করার আশ্বাস দিতে পারে না। শিল্পী বুঝতে পারে সমস্ত কিছু অপরাধীর পক্ষে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পূজা মন্ডপে আগুন দিয়ে নিজে আগুনে আত্নাহুতি দিলেন।

শিল্পীর আত্নাহুতি পরে জনমত শিল্পীর শেষ ইচ্ছা পুরণের পক্ষে যাওয়ায় গভর্নর মূর্তি স্থায়ী প্রতিস্থাপিত করলেন।

আজ তাই সরকার আজ বিষাক্ত সাপের লেজে হাত দিয়েছেন দুর্নীতি- বাজদের শেকর উৎপাটনে। এখন জনগনকে সরকারের পক্ষে অপরাধীর বিপক্ষে দাঁড়াতে হবে যাতে সরকার এই দুর্নিতি বিরোধী অভিযানে সফল হয়। আর তা না হলে সেই তিমিরেই থাকতে হবে।

তাই সবার চোখ কান খোলা রাখুন। সুবিধাভোগী দুর্নিতিবাজরা বিভ্রান্ত করতে পারে। তাই বলি

এখন করোনা কাল, সাধু তুমি সাবধান !

ছবি নেট থেকে
