# এক মুঠো ভালোবাসা (২৬তম পর্ব)

Author: ইঞ্জা
Published: 2020-03-19
Category: গল্প
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a0%e0%a7%8b-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a7%a8%e0%a7%ac%e0%a6%a4%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d/

সবাই বসে গল্প করছে, আফরিন আর ওর মা প্রথমেই সবাইকে পেস্ট্রি, মিষ্টি, সফট ড্রিংক্স দিয়ে আপ্যায়ন করলো, গল্পের ফাঁকে ফাঁকে ওরা কিচেনে গিয়ে ডিনারের আয়োজন করতে লাগল।

কিছু সময় পর টেবিলে খাবার দিয়ে আফরিন সবাইকে আমন্ত্রণ জানালো ডিনারে জয়েন করার জন্য।  
আপা আজ সব রান্না আফরিন করেছে, আমাকে একদম ধরতেই দেয়নি।  
তাই, এতো দেখি আলিশান খাবার দাবার, এতো কষ্ট করতে গেলে কেন আফরিন, অনিকের মা বললেন।  
না আন্টি তেমন কিছুই তো না, আসুন বসুন, আনকেল আপনারাও বসে পড়ুন।  
বিশাল ডাইনিং টেবিলে বিভিন্ন ধরণের ভর্তা, গরু, খাসি, মাছ মুরগী সহ বিভিন্ন রান্নার আয়োজন করেছে আফরিনরা।

অনিক আপনাদের কি রেড ওয়াইন চলবে, আফরিনের মা জিজ্ঞেস করলেন।  
অনিকের বাবা বলে উঠলেন, আলবৎ চলবে, কি সুলতান ভাই চলবে তো?  
তা চলবে কিন্তু মাত্র একবার, ডাক্তারের নিষেধ আছে রাশেদ ভাই।  
বাবা আপনি না, ডাক্তারের নিষেধ আছে, ছায়া বলে উঠলো।  
থাক মা, এক গ্লাসই খাবে তোমার বাবা।  
ছায়া মুচকি হাসলো।  
আফরিন ছাড়া বাকি মেয়েরা সফট ড্রিংকস নিলো, সবাই খাওয়াতে মনোযোগ দিয়ে এটা ওটা খাচ্ছে।  
কি ব্যাপার মি. অনিক, আপনি খাচ্ছেন না, টেনশনে আছেন মনে হচ্ছে, আফরিনের মা জিজ্ঞেস করলেন।  
না না আন্টি খাচ্ছি তো, আপনি আমাকে মিস্টার না বলে শুধু অনিক বললে খুশি হবো, সাথে আপনি করে না বললে আরও খুশি হবো।  
বাহ এতো দেখছি খাঁটি বাঙ্গালী ছেলে, খুব ভালো লাগলো।  
কি বলেন আপা, আমি তো জানতাম বিদেশে থেকে আমার ছেলে সাহেব হয়ে গেছে।  
কি যে বলোনা মা, অনিক মিষ্টি হাসলো।

ছায়া তুমি স্যামনটা ট্রাই করো, খুব ভালো মাছ, আফরিন এক পিছ মাছ তুলে দিলো ছায়ার পাতে।  
তুমি দেখছি বেশ ভালো রান্না করো, অনেকদিন পর ভর্তা খেয়ে ভালো লাগলো।  
ভর্তা আমি নই, মা রান্না করেছে।  
তাই, আন্টি আপনাকে ধন্যবাদ না দিলে অসম্মান করা হবে, খুব ভালো হয়েছে সব ভর্তা গুলো।  
তোমার ভালো লেগেছে শুনে আমারও ভালো লেগেছে, আফরিনের মা মিষ্টি হেসে বললেন।  
বাবা মাছটি খেয়ে দেখেন খুব ভালো হয়েছে, ছায়া রওশনের আব্বাকে বললেন।

খাওয়াদাওয়া শেষে সবাই ড্রয়িংরুমে বসলে আফরিন সবাইকে ডেজার্ট সার্ভ করে নিজেও একটা নিয়ে সোফায় বসে পড়লো।  
আফরিন খাবার গুলো বেশ হয়েছে, অনিকের বাবা বললেন।  
হাঁ আফরিন, খুব ভালো রান্না করো তুমি, কে শিখিয়েছে, মা, অনিকের মার প্রশ্ন।  
হাঁ আন্টি মা ছাড়া আমার কেই বা আছে শিখানোর।  
বেশ বেশ।  
অনিক ছায়ার পাশেই বসেছে, টুকটাক অনিকের সাথে কথা বলছে দেখে আফরিনের মা জিজ্ঞেস করলেন, কি ছায়া তুমি তো খেলেই না।  
আন্টি আমি তো এমনিতেই কম খাই, আজ একটু বেশিই হয়ে গেলো, খুব ভালো রান্না করেছে আমার বন্ধুটি।  
আন্টি আপনারা কবে আসবেন বলুন, অনিক জিজ্ঞেস করলো।  
এখন না অনিক , আসলে ঘরে আসছে মেহমান, ওদের নিয়ে আমি যাবো বেড়াতে বিভিন্ন জায়গায়, অন্য কোন সময় আসবো।  
ওকে আন্টি, আজ তাহলে আমরা উঠি।

কিছুক্ষণ পর অনিকরা বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলো আফরিনদের বাসা থেকে, আধা ঘন্টার ভিতরে পোঁছে গেলো বাসায়, অনিক নিজ রুমে ফিরে ড্রেস চেইঞ্জ করে ফ্রেস হয়ে ড্রয়িংরুমে এসে টিভি অন করে খবর দেখছে, ছায়াও এসে যোগ দিলো ওর সাথে, অনিক খেয়াল করলো ছায়া ওর ওড়না খুটে চলেছে।  
কি কিছু বলবে?  
অনিক আসলে বলছিলাম কি, আন্টিরা আছেন এখন, বাবাও সুস্থ হয়ে উঠেছেন।  
হুম ভালো তো।  
আসলে আমি এই দেশে এসেছিলাম পড়তে নয়।  
আমি তা বুঝতে পেরেছিলাম।  
ছায়া অবাক হয়ে অনিকের দিকে তাকালো, এরপর চোখ নামিয়ে নিয়ে বললো, আসলে চাইনি তোমার টেনশন বাড়াতে, সত্যি বলছি আমি চাইনি তুমি বাবার সাথে সাথে আমারও টেনশন নাও।  
অনিক এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো ছায়ার দিকে।

ছায়া কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে আবার বলতে শুরু করলো, আসলে আমার ইউটেরাস টিউমার হয়েছিলো, অপারেশনের পর টেস্টে দেখা যায় ক্যানসার ফার্স্ট স্টেইজ।  
অনিক একটা ধাক্কা খেলো, কি কি বললে, অনিক তোতলালো।  
অনিক শুনোনা, তখনই বাবা দেরি না করে আমাকে এইখানে নিয়ে আসেন উন্নত চিকিৎসার জন্য, এরপর আমি গত দেড় বছর ধরে এইখানে চিকিৎসা নিচ্ছিলাম, বলেই অনিকের দিকে তাকালো ছায়া, দেখলো অনিকের চোখ ছলছল করছে।  
ছায়া আবার শুরু করলো, গতদিন আমার ফাইনাল রিপোর্ট আসলো।  
অনিক উদ্বীগ্ন হয়ে বললো, কি আছে রিপোর্টে?  
আমি এখন একদম ক্যান্সার মুক্ত।  
অনিক বড় একটা নিশ্বাস ছাড়লো।

আসলে বলতে চাইছিলাম আমরা দুজনেই এখন সুস্থ, তাই দেশে ফিরে যেতে চাইছিলাম।  
অনিক ঘোর কাটিয়ে বললো, আমি আসলেই দুঃখিত হলাম তুমি আমাকে জানাওনি বলে, যাক সবকিছু যখন ভালোই ভালোই হলো তাহলে আর চিন্তা করে লাভ কি, কিন্তু এর সাথে বাড়ী ফিরার কি আছে?  
আসলে আমার ভালো লাগছে না এইভাবে থাকতে, সব তুমিই করছো, আমাদের দেখভাল করছো, বাবার চিকিৎসাটাও তুমি করলে।  
তাতে কি হয়েছে, আনকেল শুধু রওশনের বাবা নন, আমারও উনি কিছু হোন।  
না মানে আমি তোমাকে হার্ট করতে চাইনি, জানি বাবাও তোমাকে নিজের ছেলের মতোই দেখেন, এরপরেও আমরা এখন ফিরে যেতে চাইছি, এখন তুমি অনুমতি দিলে আমরা ফিরে যাবো, আসি আন্টি নিশ্চয় অপেক্ষা করে আছেন আমার জন্য, বলেই ছায়া উঠে চলে গেলো।  
অনিক কিছুক্ষণ দম ধরে বসে রইলো।

………. চলবে।

ছবিঃ গুগল।
