# এক মুঠো ভালোবাসা (শেষ পর্ব)

- Author: [ইঞ্জা](https://sonelablog.com/author/einzza/)
- Published: 2020-06-02T08:05:42+00:00
- Updated: 2020-06-02T08:05:42+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a0%e0%a7%8b-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/

---

এরপর কি হলো মম?

এরপর ছায়ার পেটে তুই যতই বড় হচ্ছিলি ততই ছায়ার মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠতে লাগলো, মেজাজ উঠলে হাতের কাছে যা ছিলো তাই ছুড়ে ভেঙ্গে ফেলতো, মাঝে মাঝে একদম চুপ মেরে যেতো।

ডাক্তার বলেছিলো তোর বাবাকে, তোকে নেওয়াটাই চরম ভুল ছিলো ছায়ার, কারণ ছায়ার অপারেশনের পর ও বাচ্চা নেবে তাই কল্পনা করতে পারেনি ওরা, তোর বাবা বলেছিলো তোকে নষ্ট করে ফেলার জন্য, সেটাই ছায়ার মনে প্রভাব ফেলে।

একদিন আমি অফিস শেষে দেখতে এলাম ছায়াকে, ছায়ার পাশে বসতেই ও আমাকে জড়িয়ে ধরে ভীষণ ভাবে, জড়িয়ে ধরে বললো, বন্ধু ওয়াদা করো প্লিজ ওয়াদা করো, তুমি আমার বাচ্চাকে নিজের মতো করে মানুষ করবে, কখনো ওর মার কথা মনেও আনতে দেবেনা?

আমি অবাক হয়ে বললাম, কেন এমন বলছো?

ছায়া তখন কান্না করতে লাগলো আর বললো, আমি জানি আমার সময় শেষ হয়ে আসছে, আমি বেশিদিন বাঁচবো না। 

আমি অভয় দিয়ে বলেছিলাম, তুমি ওসব চিন্তা করছো কেন, তুমি নিশ্চয় ঠিক থাকবে।

ও আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, আমি চলে গেলে তুমি অনিককে বিয়ে করো, আমার বাচ্চার মা হইয়ো।

 

আফরিনের দুচোখ ভর্তি জল গড়িয়ে পড়লো।

মম এরপর কি হলো?

ছায়া তখন সাত মাসের গর্ভবতী, হটাৎ খুব পেইন শুরু হলো ওর, তোর বাবা দ্রুত এম্বুলেন্স কল করে ছায়াকে হাসপাতালে নিয়ে যায়, ডাক্তাররা বললো দ্রুত অপারেশন করতে হবে, নাহলে তোকে আর তোর মাকে বাঁচানো যাবেনা, এমনিতেই তোর মার অবস্থা ক্রিটিকেল ছিলো।

ডাক্তাররা তোর বাবাকে বললো, শুধু মাত্র আল্লাহই পারেন এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে।

তোর বাবা পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিলো, ডাক্তারকে বললো, প্লিজ আপবারা আমার ছায়াকে বাঁচান।

তোর দাদু, দিদা সবাই তোর বাবাকে ধরে রেখেছিলো, স্বান্তনা দিচ্ছিলো। 

ঘন্টা খানেক পর ডাক্তার বেরিয়ে এসে জানালো,  মেয়ে হয়েছে কিন্তু প্রিম্যাচ্যুরিটির কারণে তোকে ভেন্টিলেটরে রেখেছে, তোর দাদু দিদারা সবাই তোকে দেখতে গেলো, শুধু আমি আর অনিক ছাড়া।

আধা ঘন্টা পর তোর মাকে বের করে আনা হয় আইসিইউতে নিয়ে যাবার জন্য, তখন ও সেন্সলেস। 

 

অবস্থা খুব খারাপ হচ্ছিলো ওর, ঘন্টা তিনেক পর ডাক্তার এসে আমাদের দুজনকে নিয়ে গেলো ছায়ার কাছে, ছায়া খুব ধীরে তোর বাবাকে আর আমাকে ডাকে, আমরা দুজন কাছে গেলে ছায়া বললো।

বাবু আমি যাচ্ছি, তুমি কান্না করোনা, তুমি আফরিনকে বিয়ে কোরো, ওই হবে আমার মেয়ের মা। 

অনিক তখন একদম বোবা, শুধু চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছেই।

ছায়া আমার হাতটা নিয়ে অনিকের হাতে দিলে অনিক তা ছেড়ে দেয়, যা আজ পর্যন্ত আর ধরেনি। 

কেন মম?

কারণ তোর বাবার ভালোবাসা ছিলো ছায়া, তোর মা।

আমি ছিলাম ওদের বন্ধু।

তারপর কি হলো?

তোর মা অনুরোধ করেছিলো অনিককে যে ওর বুকে নিতে, অনিক বিছানাতে উঠে ওকে বুকে নেয়, ওই অবস্থাতেই তোর মা চলে যায়, তোর বাবা অনেকক্ষণ বুকে নিয়ে রেখেছিলো তোর মাকে, ডাক্তাররা ছাড়িয়ে নিতে চাইছিলো কিন্তু ও ছাড়ছিলোনা। 

তোর দাদু এসে জোর করে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় অন্য রুমে, তখন তোর বাবার চোখে এক ফোটা জল ছিলোনা, কেমন যেন শক্ত হয়ে গিয়েছিলো।

 

এরপর থেকে তোর বাবা আর আগের মতো নেই, সেই হাসি, চকচকে চোখ সব হারিয়ে গেলো, ফিরে এলো রাগ, বদ মেজাজ।

তোর দাদুই তোর নাম রাখলেন, আমি তোর ডাক নাম দিলাম ছায়া, তুই যতই বড় হচ্ছিলি ততই তোর চেহেরাটা ছায়ার মতোই হচ্ছিলো।

আফরিন উঠে গিয়ে আলমিরা থেকে একটা এলবাম এনে দিয়ে বললো, খুলে দেখ। 

ছায়া প্রথম কয়েকটা পাতা উল্টালো অবাক হয়ে, ততই অবাক হয়ে বললো, এ তো আমার ছবি, কিন্তু এইসব ড্রেস তো আমি পড়িনা?

বললাম না তুই তোর মায়ের মতোই হয়েছিস?

ছায়া অবাক নয়নে তাকিয়ে বললো, মা একদম আমার মতো ছিলো। 

হ্যাঁরে তুই আর তোর মা একি চেহেরার, যেন টুইন। 

ছায়া প্রতিটি ছবি উল্টাতে উল্টাতে প্রশ্ন করলো, তুমি এতোদিন এইসব বলোনি কেন মম?

তখন বলার সময় হয়নি বলেই বলিনি, আজ তোর আঠারো তম জন্মদিন, সময় হয়েছে সব খুলে বলার। 

 

বাবা তোমাকে বিয়ে করেনি কেন?

আফরিনের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো। 

কি মম বলোনা?

তোর বাবা যে এখনো ছায়াকে ভালোবাসে, আমি আজীবনের বন্ধুই রয়ে গেলাম।

মাকে কোথায় কবর দিয়েছো?

এই কাছের মসজিদ কবরস্থানে।

আমি যাবো।

ঠিক আছে মা, আগামীকাল নিয়ে যাবো।

ছায়া উঠে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো আফরিনকে, বললো মম আমি তোমাকে ভালোবাসি।

আমিও তোমাকে খুব ভালোবাসি মামনি।

মম তুমি বিয়ে করোনি কেন জানতে পারি?

আফরিন অতীতে ফিরে গেলো, ছায়ার মৃত্যু শোক অনিককে ঘিরে ধরেছিলো, মেয়েকে হাসপাতাল থেকে যখন রিলিজ দিলো তখন আফরিনই মায়ের আদরে নিজ দ্বায়িত্বে নিয়েছিলো, ও তখন সব ছেড়ে ছুড়ে ফেলে মেয়ের মা হয়ে গেলো, বছর খানেক পর অনিকের ফ্যামিলি এবং আফরিনের মা অনিককে অনুরোধ করেছিলো আফরিনকে বিয়ে করার জন্য, এক সময় অনিকই আফরিনের সাথে কথা বলে জানালো ছায়ার সাথে অনিকের ভালোবাসার গভীরতার কথা, অনিক বলেছিলো যে আফরিনকে বিয়ে করা মানেই ছায়ার প্রতি অবিচার করা, যা অনিক কখনোই পারবেনা।

আফরিনও আর ও কথা চিন্তাই করেনি, যদিও সে মেয়ের দিকে তাকিয়ে এ ঘরেই মেয়ের মা এবং অনিকের বন্ধু হিসাবেই থেকে গিয়েছিলো। 

 

মম আমি বাবার কাছে যাবো।

আফরিন চমকে উঠলো, আতংকে নীল হয়ে গেলো মুখটা, মুখে বলে উঠলো, না না মামনি ভুলেও না, তোমার বাবা আজ পর্যন্ত তোমার মুখ দেখেওনি, দেখবেও না বলেই পণ করে আছে, তুমি সামনে গেলেই ও রেগে যাবে, তখন তোমারও মন খারাপ হবে, সাথে ওরও মন খারাপ হবে। 

না মম আজ আমি তোমার কথা শুনবোনা, তুমি আমাকে বাধা দিওনা, বলেই ছায়া এগুলো উপরে ওর বাবার রুমের দিকে, আফরিন তড়িঘড়ি করে ছুটলো মেয়েকে বাধা দিতে, মেয়ে দৌড়ে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠে গেলো, সোজা অনিকের রুমের দরজায় গিয়ে নক করে দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করলো।

ভিতরে প্রবেশ করেই অনিককে সোফায় বসা দেখে দৌড়ে গিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো অনিকের বুকে।

বাবা, আমার বাবা, আমি তো কোনো দোষ করিনি, আমি তো তোমাদের ভালোবাসারই প্রতীক, আমি তো তোমাদেরই অংশ। 

অনিকের চোখে জলের ধারা বয়ে যেতে লাগলো, এক সময় মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললো, মারে সত্যি তুই ভুল করিসনি, তুই তো আমাদেরই অংশ, বলেই কাঁদতে শুরু করলো অনিক।

বাবা আই লাভ ইউ।

আই লাভ ইউ টু মা।

দরজায় দাঁড়ানো আফরিনের চোখেও অঝোর ধারা, বাবা মেয়ের এই মিলন যে কতো আনন্দের তা কে বা বুঝে, আজ আঠারো বছর পর অনিক কাঁদছে।

 

সমাপ্ত।

ছবিঃ গুগল। 

 

***জনস্বার্থেঃ***

**![](https://sonelablog.com/wp-content/uploads/2020/06/inbound6039243755432950554.jpg)**

---

Comments: 27 — https://sonelablog.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a0%e0%a7%8b-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/#comments
