# একটু থামুন

Author: রোকসানা খন্দকার রুকু
Published: 2023-04-17
Category: সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a7%81-%e0%a6%a5%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%a8/

” কৃষ্ণ করলে লীলা আমরা করলে,,,,, সাতসকালে দেবের গান শুনে একটু ওজনও ঝরাচ্ছি আরকি! হঠাৎ মনে হল, জানালা- দরজা চরম ভাবে খিল দেয়া হয়নি। কারণ পরশীর কান সবসময় পেতে দেয়া, যে কোন সময় জানালায় ঝাঁক মেরে বলবেন, মাষ্টার মশাই নাচে?

ছি! ছি! ছি!!!! কি লজ্জা।

সবাই করলে লীলা ( ব্যায়াম) মাষ্টার করলেই দোষ!রোজা রমজানের দিনে একটা প্রশ্ন করতে মুন (মন) চাইতাছে, মাষ্টার করলে দোষ কেন রে ভাই ????

মাষ্টার টিপ পরতে পারবে না, জিনস্ প্যান্ট পরতে পারবে না, টাইট প্যান্ট পরতে পারবে না, গোছা গোছা চুড়ি পরতে পারবে না, পুরুষরা লম্বা চুল রাখতে পারবে না, স্টাইলী পোষাক পরতে পারবে না, মাষ্টার ডিভোর্সী হলে সমস্যা, আবার দ্বিতীয় বিয়ে করলেও সমস্যা, বয়সে ছোট বিয়ে করলে সমস্যা আবার বড় বিয়ে করলেও সমস্যা। মাষ্টারের চুল খোলা থাকা সমস্যা। মাষ্টার হিজাবী- বোরকা পরিহিত হওয়া জরুরি। এতোসবের ভীরে মাষ্টার কেমন পড়ায় সেটা তেমন জরুরি নয়।

যেন সমাজের সব সমস্যাই এ দলের মধ্যে। মাষ্টার ছাত্রী/ ছাত্রের সাথে প্রেম করেছে হৈ হৈ পরে গেল, পুরো সমাজের আদর্শ নষ্ট হয়ে একাকার। সমস্ত অধিকার আর কাজের বেলায় মাষ্টাররা অবহেলিত, সমাজে পিটুনি খাওয়া, অপমানিত হওয়া গো বেচারাটাইপ একটা দল। আর আদর্শের বেলায় যেন সাক্ষাত দলিল।

শিক্ষক/ শিক্ষাগুরু বাবা- মা তুল্য। প্রশ্ন করুন তো, কতোজন শিক্ষার্থী বা তাদের বাবা- মা মানেন। ছড়ি দিয়ে একটু পিটিয়ে দেখুন গুষ্টিশুদ্ধ ধরে নিয়ে আসবে। আদালত পর্যন্ত, নেতা পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে ক্ষ্যান্ত হবে।

আর এ যুগের ছেলেমেয়েরা বাবা-মায়ের কথাই শোনে না, শিক্ষক তাদের আদর্শ হলো কবে? আর হলে তো এতো শিক্ষক লান্চিত হতো না, হত্যা হতো না। তারা বা\*ল পাকনা জন্ম থেকেই। কোনকিছু তাদের আর শেখানো লাগে না।

আর কলেজ/ ভার্সিটির একজন শিক্ষক ২৬- ২৭ বছর বয়সে শিক্ষকতা শুরু করে ১৮-২৫ বছর বয়সের শিক্ষার্থীকে পড়ানোর দায়িত্ব পান। এ অবয়সে কোন দুঃখে বাবা- মা হতে যাবে। আর বয়সের এই ডিস্টেন্সে কারও সাথে কারও যদি প্রেম বা ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কমিটেড হয়ে তারা যদি একসময় বিয়ে করে সংসারী হয় তাহলে সেটা অনৈতিক হল কেমন করে?

অনৈতিক হল কারও মতের বিরুদ্ধে কোনকিছু করা। কিংবা বিবাহিত হওয়ার পরও যদি কেউ আবার সম্পর্কে জড়ায় সেটা অবশ্যই অনৈতিক।

মোবাইল- ইন্টারনেটের বদৌলতে কার কখন কি ভাইরাল হবে বোঝা মুশকিল। যেন মানুষের ব্যাক্তিগত বলে কিছু থাকছে না। নেটে একটা ভিডিও দেখলাম, ফুটপাতে গভীররাতে দুজন পুরো শরীর ঢেকে মিলিত হয়েছেন। হতে পারে তারা স্বামী- স্ত্রী,  অভাবের কারনে কিংবা নতুন ঢাকা শহরে গিয়ে থাকার সংস্থান করতে পারেনি। আমরা নিজেদের ইনকামের জন্য সেটাও ভিডিও করে ভাইরাল করে দিয়েছি। কি লজ্জা! আমাদের বিবেক কোথায় গিয়ে ঠেকেছে!

সম্প্রতি শিক্ষকের মাসেজ ছেড়ে দিয়ে যে কুৎসা রটানো হচ্ছে, আর যারা ছড়াচ্ছে তারা সব আসমান থেকে নেমে আসা ফেরেসতার দল। যাদের জীবনে কোন অপরাধ নেই, কলঙ্ক নেই।দুনিয়ার তাবত মানুষের জন্য প্রেম- ভালোবাসা জায়েজ আর মাষ্টারদের জন্য নাজায়েজ। শিক্ষকতার অন্য নাম সন্যাসব্রত! মাষ্টার মশাই প্রেম করলে, বিয়ে করলে কচি আর মৌলানারা ১২/১৩ বছর বয়সের কচিদের বিয়ে দিচ্ছেন তখন সব ঠিকঠাক।

এ বিষয়েও কিছু দলিল থাকলে ভালো হতো, প্রেম জায়েজ কার কার জন্য?

আসলে আমরা মানুষরা যদি একজন অন্যজনের গোপনটা জানতাম তাহলে আমরা সবাই এতো জঘন্য যে কেউ কারও দিকে ঘৃনায় তাকাতাম না।

আর সবচেয়ে জরুরি হলো একজন দিনমজুর থেকে শুরু করে দেশের উর্ধ্বতন মানুষটি, আমাদের সবার একটাই কাতার। আমরা সবাই সবার আদর্শ।
