# একটি ট্রাম্পীয় প্রেমের চিঠি (প্রতিযোগিতা)

Author: অপার্থিব
Published: 2017-03-25
Category: রম্য, সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%80%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9a/

প্রিয় ইভাংকা,

আশা করি ভালই আছেন। পর সমাচার এই যে, মনে বড় সাধ ছিল মনের মাধুরী মিশাইয়া আপনাকে একখান প্রেম পত্র লিখিবার কিন্ত সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কারনে নিতান্ত বাধ্য হইয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বিষয়ে আজ আপনাকে লিখিতে হইতেছে। পুরো ঘটনা বর্ণনা করিবার পূর্বে আপনাকে প্রথম দেখার স্মৃতিখানি কিঞ্চিৎ বর্ণনা করা দরকার। আপনাকে প্রথম দেখিয়াছিলাম পত্রিকার পাতায় রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারীর সময়। উল্টাপাল্টা কথা বার্তা বলিয়া আপনার আব্বাজান ডোনাল্ড ট্রাম্প সাহেব সে সময় বেশ সরগরম ফেলিয়া দিয়াছিল। উনাকে নিয়া প্রায় প্রতিদিন পত্রিকায় নানা রকমের রিপোর্ট থাকিত, সেরকম এক রিপোর্টে আপনার লাস্যময়ী পিকচার খানা দেখিয়া এই অধমের হৃদয় মাঝে রীতিমত [তুনে মারি এণ্ট্রিয়া, দিল মে বাজি ঘন্টিয়া](https://www.youtube.com/watch?v=2I3NgxDAiqE) শুরু হইয়াছিল। যদিও জ্যারড কুশনার নামক যে যুবক আপনার মন হরণ করিয়াছে, এই অধম যে গুণে,মানে,যোগ্যতায় তাহার ধারেকাছেও যাইবার যোগ্য নয় তাহা সে বিলক্ষণ জানতো, কিন্ত কি আর করা? কথায় আছে প্রেম মানে না বাধা। আপনার প্রেম কম্পনে সৃষ্ট সুনামির ঢেউ তাই প্রবল শব্দে আছড়াইয়া পড়িতে ছিল এই অধমের হৃদয় তীরে। সেই সুনামিতে আর কিছু সৃষ্ট হোক কিংবা না হোক রচিত হইয়াছিল একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা। দিন যায়, আর সেই প্রেমের কবিতাগুলোর ভারে ভারান্বিত হয় আমার সাধের টেবিল খানি। অতঃপর টেবিলের ভার কমাইবার নিমিত্তে কবিতাগুলোর মধ্য হইতে বিশেষ কিছু কবিতা লইয়া লাষ্ট বইমেলায় একখান একক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের জন্য মনঃস্থির করিয়াছিলাম। এক প্রকাশকের পিছনের দশরাত দশ দিন ঘুরিয়া কিঞ্চিৎ সম্মানী প্রদান করিয়া তাহাকে সেই কাব্যগ্রন্থ খানা প্রকাশের জন্য রাজীও করিয়াছিলাম। অতঃপর এক শুভ লগ্নে “তোমার জন্য খেতে পারি আটলান্টিকের নোনা জল” শীর্ষক সেই অমর কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের প্রধান অতিথি হিসেবে আপনাকে আমন্ত্রণের নিমিত্তে আমেরিকা ভ্রমণের জন্য ভিসার লাইনে দাঁড়াইয়াছিলাম। কিন্ত হায়, কথায় আছে অভাগা যেদিকে চায় সাগর শুকিয়ে যায়। তিন মাস তিন দিন অপেক্ষা করিবার পর ভিসা সেন্টারে সেই গোমড়া মুখো ভদ্রলোক একদিন সব কটা দাঁত বাহির করিয়া চিবাইয়া চিবাইয়া বলিয়াছিল-ইওর এপ্লিকেশন হ্যাজ বিন রিজেক্টেড বিকজ ইউ আর মুজলিম। ভদ্রলোকের কথায় খানিকক্ষণ থ মারিয়া গিয়াছিলাম কারণ পিতৃ প্রদত্ত একটা মুসলিম থাকলেও এই অধম যে দীর্ঘ কাল ধর্ম কর্মের ধার ধারে না! কিন্ত এই কথাখানি অনেক কষ্টেও ভদ্রলোককে বোঝাইতে পারি নাই। বিশ্বাস করিবেন কিনা জানি না, জীবনে এত কষ্ট আগে কখনো পাইয়াছি বলিয়া মনে করিতে পারিতেছি না। খোঁজ নিয়া জানিলাম আমার যে সকল বন্ধুরা গ্রাজুয়েশনের পর জিআরই দিয়া আমেরিকা যাবার গোপন বাসনা পোষণ করিতেছিল, আপনার আব্বাজান প্রেসিডেন্ট হইবার পর থেকে তাহারা এখন নীলক্ষেতের মার্কেটে গণহারে বিসিএসের বই খুঁজিতেছে। একজনতো এই দুঃখে কয়েকদিন অনশন ধর্মঘট পালন করিয়া পেটে আলসার বাধাইয়া বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রইয়াছে। বেচারার মুখের দিকে তাকানো যায় না। অতঃপর সকলের দুঃখে দুঃখান্বিত হইয়া সকলের পক্ষ হইতে আজ আমিই আপনাকে লিখিতে বসিয়াছি।

![sdf](https://s18.postimg.org/bm1ysg7pl/donald-trumps-brilliant-daughter-ivanka-is-a-bus.jpg)

আমরা জানি যে এলিট ও এষ্টাব্লিশমেন্টের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভুত ক্ষোভকে কাজে লাগাইয়া লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতির মাধ্যমে আপনার আব্বাজান আজকে আমেরিকার ক্ষমতায়। আমেরিকার জনগণের এই ক্ষোভ যে অযৌক্তিক তাহা বলিব না, এই ক্ষোভের পিছনে মুলত তিনটি কারণ ছিল যার প্রথমটি অর্থনৈতিক। সম্পদের অসাম্যতা পুঁজিবাদী অর্থনীতির একটি কমন বিষয়। এই সম্পদের অসাম্যতা থেকে আমেরিকাও মুক্ত নয়। পরিসংখ্যান বলিতেছে আমেরিকার প্রথম সারির মাত্র ১০% জনগণের কাছে আছে ৭৬% সম্পদ, ৪০% জনগণের কাছে আছে ২৩% সম্পদ আর বাকি ৫০% জনগণের কাছে আছে মাত্র ১% সম্পদ। বিংশ শতাব্দীতে পুঁজিবাদী অর্থনীতি প্রসারের ফলে আমেরিকায় একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরী হইয়াছিল যাহারা শিক্ষা দীক্ষায় খুব একটা এগিয়ে না থাকলেও কলকারখানায় চাকরীর সুবাদে মোটামুটি সুখে স্বাচ্ছন্দে দিন পার করিত কিন্ত আশির দশকের মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রসার আর প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে আমেরিকার বড় বড় কোম্পানীগুলো অধিক লাভের আশায় তাদের কাজ চীন, ভারত সহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বল্প মজুরীর দেশে ছড়াইয়া দেয়। ফলে এই শ্বেতাঙ্গ মধ্যবিত্ত শ্রেণী বা ব্লু কালার ওয়ার্কারদের একটা বড় অংশই তাহাদের চাকরী হারায়। পাশাপাশি গত কয়েক বছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মত মৌলিক খাতগুলোতেও ব্যয় বাড়িয়াছে লাফাইয়া লাফাইয়া। ফলে বিপুল সংখ্যক শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান তাহাদের বর্তমান অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যত লইয়া শংকিত হইয়া পড়িয়াছিল। দ্বিতীয় কারণটি হল হইল আত্নপরিচয়ের সংকট। আমরা জানি যে আমেরিকা বিশ্বের অধিকাংশ মানুষের কাছে পরম আকাঙ্ক্ষিত দেশ। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হইতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অভিবাসী হিসেবে আমেরিকায় পাড়ি জমায়। এই বিপুল সংখ্যক অভিবাসীর আগমনে আমেরিকার সমাজ ও সংস্কৃতিতে সংঘটিত হইয়াছে এক ধরনের পরিবর্তন যা সংখ্যাগুরু শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানরা মোটেও মানিয়া লইতে পারে নাই। পাশাপাশি বর্ণবাদ বিরোধী, নারী অধিকার , সমকামী অধিকারসহ বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলনের ফলে পুরোনো শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান মুল্যবোধগুলোর অনেক কিছুই আজ প্রায় হারাইয়া যাইতে বসিয়াছে। এভাবেই অনেক শেতাঙ্গ আমেরিকানদের মধ্যে তৈরী হইয়াছে এক ধরনের আত্নপরিচয়ের সংকট। কাজেই আপনার আব্বাজান যখন “মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন” স্লোগান লইয়া এদের সম্মুখে দাঁড়ায় তখন তাহাদের কাছে আপনার আব্বাজান হইয়া যায় এক যুগান্তকারী মসীয়াহ। তৃতীয় কারণটি নিরাপত্তাগত। গত কয়েক বছরে আমেরিকা সহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সংগঠিত সন্ত্রাসী হামলায় অভিবাসী মুসলিমরা জড়িত থাকায় আমেরিকার বিপুল সংখ্যক মানূষ এখন অভিবাসীদের লইয়া আতংকে ভুগিতেছে।

অন্যান্য বিষয়ের মত লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতিও বাম ও ডান দুটো ধারায় বিভক্ত। বামপন্থী লোকরঞ্জনবাদীরা মুলত প্রথম কারণটিকে গুরুত্ব দেয় অর্থাৎ অর্থনৈতিক অসাম্যতা থেকে উদ্ভুত জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগাইয়া এষ্টাবলিশমেন্ট বিরোধী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করে। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারীতে হিলারী আন্টির প্রতিদ্বন্দী হিসেবে ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স মূলত এই ধারারই প্রতিনিধিত্ব করিয়াছে। অপরদিকে ডানপন্থী লোকরঞ্জনবাদীরা এলিট ও এষ্টাব্লিশমেন্টের বিরোধিতা করে কারণ তাহারা এই এলিট শ্রেণীকে তৃতীয় একটি পক্ষকে আশ্রয়, প্রশ্রয় ও সুবিধা দেয়ার দায়ে অভিযুক্ত করে। এই তৃতীয় পক্ষ হয় অভিবাসী ,মুসলিম কিংবা অন্য কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অর্থাৎ উনারা তাহাদের সকল সমস্যা সেটা অর্থনৈতিক, সামাজিক বা নিরাপত্তাগত যাহাই হোক না কেন তাহার জন্য এই তৃতীয় পক্ষকে দায়ী করে এবং তাহা হইতে মুক্তির আশায় এষ্টাবলিশমেন্টের বিরোধীতা করে। আপনার আব্বাজান মুলত এই ধারারই প্রতিনিধিত্ব করিয়াছে। তিনি অভিবাসী ঠেকাতে মেক্সিকোর টাকায় মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল বসাইবেন, মুসলিমদের আমেরিকায় অভিবাসন নিষিদ্ধ করিবেন, ট্রান্স প্যাসিফিক এগ্রিমেন্ট বাতিল করে আমেরিকার চাকরী আমেরিকায় ফিরাইয়া আনিবেন ইত্যাদী পপুলিষ্ট ঘোষণা দিয়া আপনার দেশের জনগণের মন জয় করিয়াছিলেন। কাজেই ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশে তিনি যখন টিপিপি বাতিল করিলেন তখন তাতে মোটেও অবাক হই নাই। এটাকে ক্ষমতা গ্রহণের পর ভোটারদের তুষ্ট করার আশায় এক ধরনের ইনষ্ট্যান্ট ষ্ট্যান্টবাজী হিসেবেই গণ্য করিয়াছিলাম। নির্বাহী আদেশে তিনি যখন সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকা ভ্রমণ নিষিদ্ধ করলেন তখন একটু নড়িয়া চড়িয়া বসিতে বাধ্য হইলাম বৈকি। আমরা জানি যে পৃথিবীর সব জায়গায় মানূষ রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার খোঁজে অভিবাসী হইয়া ভিন দেশে পাড়ি জমায়। সাধারণ জনগণের পাশাপাশি অভিবাসীরাও ঐ দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। আপনার আমেরিকা আজকের আমেরিকা হইবার পিছনে অভিবাসীদের অবদান কম নয়। বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনষ্টাইন, সাহিত্যিক জোসেফ পুলিৎজার, রাজনীতিক হেনরি কিসিঞ্জার, হলিউড অভিনেত্রী সোফিয়া লরেন, শার্লিজ থেরনের মত ব্যক্তিরা অভিবাসী হিসেবেই আপনার দেশে পাড়ি জমাইয়াছিলেন। শোনা যায় আপনার আব্বার পূর্ব পুরুষও নাকি এককালে জার্মানি থেকে অভিবাসী হইয়া আমেরিকায় আসিয়াছিলেন। কাজেই অভিবাসন নিষিদ্ধ করা (সেটাও আবার ধর্মের ভিত্তিতে) কোন আধুনিক মূল্যবোধের সঙ্গে যায় না। মনে রাখিবেন রাজনৈতিক সংকটের সময় ক্ষমতার বাহিরে থাকিয়া লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতি যতটা সফল হয়, ক্ষমতায় যাইয়া অধিকাংশ সময়ই তাহা অস্তিত্বের সংকটে পড়ে। এটা অবশ্য আমার কথা না, রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতামত। কাজেই আপনার প্রতি অনুরোধ রইলো আপনি যেন আপনার আব্বজানকে বোঝাইয়া তাহাকে এই লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতির দুর্গম পথ হইতে সরাইয়া সত্যিকারে জনকল্যাণমুখী রাজনীতির পথে আনেন যাতে শুধু আমেরিকাই নয় গোটা পৃথিবীই এক সময় “গ্রেট” হইয়া দাঁড়ায়। তবে ইহার থেকেও ভয়ানক আশঙ্কার ব্যাপার হইতেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বিদায় আর আপনার আব্বাজানের প্রেসিডেন্ট হইবার পর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতির জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাইতেছে। নেদারল্যান্ডে সংঘটিত হওয়া সাম্প্রতিক নির্বাচনে হয়তো ডানপন্থী দলগুলো হয়তো ক্ষমতায় যাইতে পারিবে না কিন্ত সেখানকার অভ্যন্তরীন রাজনীতিতে যে তাহাদের অবস্থান শক্তিশালী হইবে তাহা অনেকটাই নিশ্চিত। ফ্রান্সে এ বছর সংঘঠিত হতে যাওয়া পার্লামেন্ট নির্বাচনে মারিন লা পেনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ন্যাশনাল ফ্রন্টের বেশ ফলাফল করিবার সম্ভাবনা রইয়াছে। জার্মানিতেও অভিবাসন বিরোধী ফ্রিডম পার্টির জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাইতেছে। ডানপন্থী লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতি ঘাঁটি গাড়িয়াছে অষ্ট্রিয়া, সুইডেন, হাঙ্গেরীতেও। ইউরোপের দেশগুলোতে ইউরোপীয় চেতনার বাইরে তৈরী হচ্ছে স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ। কে জানে এই স্বতন্ত্র জাতীয়তাবোধ ইউরোপীয় ইউনিয়নকেই শেষ পর্যন্ত টি্কাইয়া রাখে কিনা। আমার আশঙ্কার জায়গা হইতেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্যবস্থা ভাঙ্গিয়া পড়িলে বিশ্বে আবারো অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ষোলআনা যা বাংলাদেশের মত গরীব দেশের জন্য বইয়া আনিবে ভয়ংকর ফল। আপনার আব্বাজান অবশ্য ইতমধ্যে একটা ভাল সিদ্ধান্ত লইয়াছেন। তিনি রাশিয়ার পুতিন আংকেলের সঙ্গে মিলে মিশে সিরিয়ায় আই এস দমনের ঘোষণা দিয়াছেন যা নিঃসন্দেহে ভাল প্রস্তাব। সিরিয়ায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রক্সি লড়াই লড়ার চেয়ে মানবতার শত্রূ আই এসের বিরুদ্ধে লড়াই এখন বেশি জরুরী। তবে নিন্দুকেরা অবশ্য পুতিনের সঙ্গে আপনার আব্বাজানের দহরম মহরম লইয়া নানান কথা কহিয়া থাকেন। অবশ্য নিন্দুকের কথায় সব সময় কান দিয়া লাভ নাই। যাই হোক, অনেক অপ্রয়োজনীয় কথা বার্তা বলিলাম। এবার আসল কথায় আসা যাক। আসল কথাটা হইল, মনের আবহমান প্রেম বাসনা পুরণ করিবার নিমিত্তে আপনার আব্বাজানকে বলিয়া অতি সত্তর এই অধমকে আপনার দেশে আনানোর ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি আরো অসংখ্য অধম যাহারা রাজনৈতিক,সামাজিক,অর্থনৈতিক সহ নানা কারণে আমেরিকায় অভিবাসিত হইতে চায়, অভিবাসন বিরোধী নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করিয়া তাহাদের জীবনের দুর্গম বন্ধুর পথকে খানিকটা মসৃণ করিবার চেষ্টা করিবেন। পরিশেষে, আপনার পুরো পরিবারকে ধানমন্ডী লেকে আল্লার দান ফুচকা হাউসে একবেলা ফুচকা খাওয়া আর এই অধমের সঙ্গে একখান পাউচ সেলফি তোলার নিমন্ত্রণ রইলো। আশা করি উভয় আমন্ত্রণই রক্ষা করিয়া দো জাহানের অশেষ নেকি হাসিল করিবেন, পাশাপাশি এই অধমের জীবনকেও করিবেন চিরধন্য।

নিবেদক-

আপনার একান্তই প্রেম পূজারী
