# একটি কৈশরের অস্ত্রপাচার

- Author: [মামুন চৌধুরী](https://sonelablog.com/author/mamun887/)
- Published: 2019-03-21T17:45:52+00:00
- Updated: 2019-03-24T19:41:57+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/

---

কৈশোরের তালশাস বা প্রচন্ড ঝড়ে আমগাছের নিচে দাড়িয়ে আম কুড়ানোর মত ভয়ঙ্কর আনন্দ যাদের জীবনে নেই তাদের জীবনটা মেশিনের মতই নিরস ও নিরানন্দ। দশ্যিপনার বয়সটি ছিল বাঙ্গালী নদীর অবয়বে, ভয়াল করতোয়া পাড়ি দেওয়া। আবার টিএন্ডটির সামনে তৎকালীন নয়ার পুকুর নামে পরিচিত, আজকের শেরপুরের সবচেয়ে বড় নর্দমাটিতে ঝাপাঝাপি ছিল নিত্যদিনকার। পিতার চোখরাঙ্গানী সত্তেও বতর্মান আহলে হাদিস মসজিদের সামনের পুকুরটি বর্ষায় টুইটুম্বর হওয়ায়, নেমে পড়েছি কোন ভয়কে পাত্তা না দিয়ে। তীব্র আনন্দ সুখ যখন মনের গহীন পর‌্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে। ঠিক তখন চিৎকার চেঁচাচেচি কানে আসল। তখন পিতার ঠিকরে বের হয়ে আসা চোখ আর বাঁশের তেড়াবেকা কঞ্চি আমার চোখ ছোট করে দিল। লাল চোখ ডলে ডলে স্বপ্ন না সত্য, পিতাই কিনা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। ওদিকে কঞ্চি ছেড়ে ভেঙ্গে পড়া মসজিদের ওজুর জন্য কুয়োর বাঁশ মাঝপুকুরে ফেলছেন আমাকে নাগাল পাওয়ার জন্য। তৎসময়ে মসজিদের ওজুর পানি কুয়োর থেকে তোলা হত। কারন তখন টিউবওয়েলের মত যন্ত্র সচরাচর ব্যবহার হত না।সেই কুয়োর পানি তোলার বাঁশটি আমার জন্যই কিনা, ভেঙ্গে পড়েছে কিছুদিন হল। পিতার নাগাল পাবার প্রান্তান্তর চেষ্টা আমার সাতহাত জিহবা বের হবার জোগাড়। যে পাশে ওঠার চেষ্টা করছি, সে পাশেই বাবাজি হাজির। শেষে কোন এক ফাঁকে ভোদৌড় কিন্তু পিঠটা বাঁচাতে পারলাম না। বাঁশ ফেলে ঐ যে ত্যাড়াব্যাকা কঞ্চিটা ততক্ষনে হস্তগত করে ফেলেছেন। শেষে কঞ্চির আঘাতটা যে পিঠে লাগল তার ক্ষত আজও বর্তমান। বত্রিশ বছরের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াই পিতার ভালবাসার চিহ্ন হিসাবে। মাঝে মাঝে সে ক্ষতটা পরম মমতায় স্পর্শ করি। এর যে সুখানুভুতি অন্যকে বোঝানোর মত নয়। ডি জে হাইস্কুলের নব্বই পূর্ববর্তী আগের অনেক শিক্ষক আমারও শিক্ষক, পিতারও শিক্ষক। যে কারনে সকল কর্মের বিস্তারিত বর্ণনা, সংবাদ বাহক ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের কাজটি সম্পাদত হত, সুনিপুন ভাবে। ততসময়ে বাড়ী লাগোয়া দুজন শিক্ষক (শ্রদ্ধেয় আব্দুল হামিদ ও শ্রদ্ধেয় কোরবান আলী) আমাদের কাছে ভয়ঙ্কর মূর্তিমান আতঙ্ক ছিল। তাঁরা কখনও মুখে ভৎসর্না করত না।

চলবে –

---

Comments: 10 — https://sonelablog.com/%e0%a6%8f%e0%a6%95%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a7%88%e0%a6%b6%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0/#comments
