# আসলে মিথ্যা প্রকৃতি বিরুদ্ধ কাজ।

- Author: [ক্রিস্টাল শামীম](https://sonelablog.com/author/shamim-anwar/)
- Published: 2016-07-18T05:41:25+00:00
- Updated: 2016-07-18T05:42:46+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%81/

---

*আমরা সম্ভবত সকলেই আমাদের জীবনে কমবেশি মিথ্যার সাথে পরিচিত হয়েছি। কিন্তু একটি প্রশ্ন বিশাল সত্যকে সামনে নিয়ে আসে। সেটা হলো মিথ্যা বলার কারণে বিচিত্র যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় এবং হবে জেনেও কেন আমরা কখনো সখনো মিথ্যা বলতে বাধ্য হই?*  
এরকম কিছু কারণের কথা বলেছেন মনোবিজ্ঞানীগণ। যেমন: নিজের সম্পর্কে তিক্ত বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়া, নিজের ভুলগুলো স্বীকার করতে না চাওয়া, পরবর্তী পর্যায়ে পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটতে পারে এই প্রত্যাশায়ও আমরা অনেকেই মিথ্যে বলে থাকি। আবার অনেক সময় নিজেকে বোকা বা অক্ষম না বানানোর ইচ্ছে থেকেও মিথ্যে বলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। শাস্তি পাবার ভয়ে কিংবা গ্রহণযোগ্যতা হারানোর ভয়েও অনেক সময় মিথ্যে বলতে দেখা যায়। মান সম্মান হারানো কিংবা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছুতে না পারার আশঙ্কা থেকেও মিথ্যা বলার প্রবণতা দেখতে পাওয়া যায়। এই সবগুলো কারণই মিথ্যে বলতে মানুষকে বাধ্য করে বলে মনোবিজ্ঞানীগণ মনে করেন।

 

একটা বিষয় এখানে লক্ষ্য করার মতো। সেটা হলো, সত্য কথা বলার চেয়ে মিথ্যা বলার জন্যে কিন্তু তুলনামূলকভাবে বেশি চেষ্টা ও চিন্তাভাবনার প্রয়োজন পড়ে। মিথ্যাবাদী মানুষকে প্রথমেই নিজেকে একটা মিথ্যার পরিবেশে স্থাপন করতে হয় অর্থাৎ মিথ্যা বলার উপযুক্ত একটা ক্ষেত্র তৈরি করে নিতে হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই মিথ্যার চর্চা করতে হয় বা মিথ্যার সাথে জীবনযাপন করতে হয়। তার মানে দাঁড়ায় মিথ্যাবাদীকে প্রথমেই নিজেকে মিথ্যার সাথে মানিয়ে নিতে হয়। আর এটা এমন এক কাজ যার মানসিক চাপ বা যন্ত্রণা তাকে তার সমগ্র জীবন জুড়ে বহন করতে হয়। সেইসাথে তার মিথ্যার কথা ফাঁস হয়ে যায় কিনা এই টেনশনও তাকে সারাক্ষণ তাড়িয়ে বেড়ায়।

 

আসলে মিথ্যা বলাটাই যে কেবল একটা সমাজ বিরোধী কাজ বা আচরণ তা নয় বরং যারা মিথ্যা বলে তারা নিজেরাও সাধারণত সমাজ বিরোধী হয়ে যায়। আশ্চর্য হবার কিছু নেই যে, মিথ্যাচার এমন একটি ব্যাধি যা কাজের সম্পর্ক, সামাজিক, পারিবারিক এবং বন্ধুত্বের সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এছাড়া মিথ্যাচার মানুষের মন এবং আত্মার ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে যার পরিণতিতে এমনকি সমাজেও তার ব্যাপক কুপ্রভাব পড়ে। এসব দিক বিবেচনায় ধর্মীয় শিক্ষার আলোকে মিথ্যা হলো সর্বনিকৃষ্ট গুনাহ এবং বিচিত্র অপকর্মের উৎস। মিথ্যার পথ ধরেই নৈতিকতার অবক্ষয় দেখা দেয়, চারিত্রিক নোংরামি দেখা দেয়-যা সরাসরি কবিরা গুনাহ। মিথ্যা মানুষকে দুনিয়া এবং আখেরাতে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত রাখে।

 

***শামীম , ওমান ***

***১৮-৭-২০১৬***

---

Comments: 19 — https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%81/#comments
