# আমি যখন নতুন ব্লগার ছিলাম

Author: নীরা সাদীয়া
Published: 2019-10-10
Category: একান্ত অনুভূতি
Tags: ব্লগ, ব্লগার মন্তব্য, মন্তব্য, সোনেলা ব্লগ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%af%e0%a6%96%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae/

দেখতে দেখতে ব্লগে আমার দু বছর পার হয়ে গেছে! মনে হয়, এইতো সেদিন ইঞ্জা ভাই আমাকে ব্লগে নিয়ে এলেন। কিভাবে সময় চলে যায় বুঝতেই পারি না।

প্রথম যখন ব্লগে লেখা পোস্ট করি, তখন খেয়াল করলাম ব্লগ বিষয়টা ফেসবুক থেকে একটু আলাদা। ফেসবুকে কিছু একটা লিখলে প্রায় সবাই মন্তব্য করতেন,

ওয়াও  
অসাম  
সেই  
দারুন

ইত্যাদি। গঠনমূলক মন্তব্য হয়না বললেই চলে। লেখা পড়লো কি না পড়লো, মন্তব্য একখানা জুড়ে দিলো। এমন কি মৃত্যু সংবাদের পোস্টেও মন্তব্য “অসাধারণ! ” ভাবা যায়? উদ্দেশ্য একটাই, নিজের পোস্টেও মন্তব্য পাওয়া।

কিন্তু ব্লগে এসে আমি প্রথম দেখতে পেলাম গঠনমূলক মন্তব্য। সিনিয়র লেখকেরা আমার লেখার প্রশংসার পাশাপাশি খুঁটিনাটি ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে লাগলেন। এতে করে আমার লেখার কাঁচা হাত অল্প অল্প করে পাকতে লাগলো। সেই যে সেদিন থেকে শিখছি, আজও শিখেই চলেছি।

ব্লগটা ঠিক একারণেই ফেসবুক থেকে একটু আলাদা। এখানে একটি লেখা পড়ে তার বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য দিতে হয়। সেক্ষেত্রে আমি যখন যার লেখা পড়ি, একটু মনযোগ নিয়ে পড়ি। তাতে আমি কিছু শিখতেও পারি, যথাযথ মন্তব্যও করতে পারি। এক্ষেত্রে আমি কয়েকটা বিষয় মেনে চলি:

\*লেখার মূলভাব বা মূল বিষয়বস্তু কি,তা প্রথমে উদ্ধার করার চেষ্টা করি। যেমন ধরুন: শ্রদ্ধেয় মান্নাদের কফি হাউজ গানটা। এটা একজন পোস্ট করলো। আমি না পড়েই মন্তব্য দিতে পারি: ” গানটা শুনেছি “/ ” গানটা দারুন”/ “আরো গান লিখুন” ইত্যাদি। কিংবা বিতর্ক করতে পারি, ” সাংবাদিক ছেলেটা কফি খেত না, খেতো চা।” কতটা অপ্রাসঙ্গিক, ভাবুন একবার! কিন্তু না, আমি খুঁজে পাই এই গানটিতে একপ্রকার স্মৃতি কাতরতা।হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোকে ভীষণ মিস করা, পুরোনো স্মৃতিগুলো আগলে বসে থাকার নিরন্তর এক চেষ্টা। মন্তব্যেও তাই লিখি। অর্থাৎ লেখা থেকে মূল নির্যাস তথা মূলভাবটা টেনে বের করে মন্তব্য করার চেষ্টা করি।

\*মূলভাবটা বের করে আনাটাকে আমার কাছে এক প্রকার দক্ষতা বলে মনে হয়। এতে করে আমার নিজের বোধশক্তি, আমার চিন্তার প্রখরতা সর্বপরি আমার ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আমার জ্ঞান বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

\*এছাড়াও আরো কিছু দিক আমি খেয়াল করি। যেমন, কি ধরনের মন্তব্য লিখলে লেখক নিরুৎসাহিত হবেন না, বরং নিজের ত্রুটিটাও ধরতে পারবেন। সুন্দর সাবলীল ভাষায় যদি আমি লেখার ত্রুটি বিচ্যুতি ধরিয়ে দেই, তাতে লেখক তাঁর লেখাকে আরও উন্নত করতে পারবেন এবং আমার প্রতি কৃতজ্ঞও থাকবেন।

\*গল্পে/লেখায় তিনি যে চরিত্রগুলো ব্যবহার করেছেন, তারা কেমন, কোন চরিত্রটা কেমন লেগেছে, তার কারন কি…ইত্যাদি নিয়ে মন্তব্য করলে বোঝা যাবে পাঠক সত্যি সত্যিই লেখাটা পড়েছেন। আর ওপর দিয়ে শুধু মন্তব্য করে গেলে যেমনঃ “ভালো হয়েছে ” বা ” ভালো হয়নি” অনেক সময় বোঝা যায় তিনি আসলে কিছুই পড়েন নি, শুধু নিজ পোস্টে মন্তব্য সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন অথবা দায় সেরেছেন। এক্ষেত্রে লেখকেরও দায় হয়ে যায় ওনার পোস্টে দায়সারা একটা মন্তব্য করে আসার। তাতে কিন্তু ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন ঐ পাঠক নিজেই। তাই ব্যাখ্যা করা ভালো, পোস্টটা কেন ভালো লেগেছে অথবা লাগে নি।

\*অনেক সময় আমরা আসল প্রসঙ্গ বাদ দিয়ে ” পুরো পোস্টে একটা শব্দ মনমত পেলাম, কপি পেস্ট মন্তব্য ছুঁড়ে দিলাম ” এমনটা করি। যেমন কফি হাউজের সেই গানটি…এই পোস্টে কফি নিয়ে একটা রচনা লিখে এলাম! কিংবা বললাম, “কফি খাওায়া ভালো না।” অথচ কফি এখানে মূল প্রসঙ্গ ছিলোই না! এতে করে আমার এই মন্তব্য পড়ে আমার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও একটা নেতিবাচক ধারনা হবে ব্লগপাড়ার অন্যদের।

\*আমার কাছে মনে হয় মন্তব্যের সংখ্যার চেয়ে গুনগত মান বেশি জরুরী। অনেক গুলো ‘নাইশ’ লেখা মন্তব্যের চেয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী মন্তব্য লেখকের জন্য অনেক বেশি উপকারী।

পরিশেষে বলতে চাই, আমি যেহেতু একজন ব্লগার, আমার মন্তব্যও হতে হবে সেই আনুপাতিক। পুরো পোস্ট পড়ে বুঝে তার তাৎপর্যটাকে ফুটিয়ে তুলতে হবে বিশ্লেষণধর্মী ভাষায়।  
কোন বিষয় বুঝতে না পারলে লেখককে প্রশ্ন করতে পারি।  
লেখার কোন বিষয়টা ভালো লেগেছে, কেন লেগেছে কোনটা লাগেনি, কেন লাগেনি, গুছিয়ে বলে যেতে পারি, যা লেখকে উৎসাহিত করবে। আর অপ্রাসঙ্গিক তর্ক এড়িয়ে ব্লগের পরিবেশটাও সুন্দর রাখতে পারি।

এই ব্লগে আমরা সবাই একটি পরিবারের মত। আমি এখানে বয়সের দিক দিয়ে অনেকের তুলনায় ছোট। এই পোস্টে আমি শুধু আমার নিজস্ব মনোভাব উপস্থাপন করেছি। তাই এটাকে আপনারা আন্তরিকভাবেই গ্রহন করবেন বলে প্রত্যাশা করি। হ্যাপী ব্লগিং।
