# আমি তোমার জন্য এসেছি (পর্ব-৫২)

Author: সুরাইয়া নার্গিস
Published: 2020-07-08
Category: উপন্যাস
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-51/

আমি তোমার জন্য এসেছি-(পর্ব-৫২)

প্রিয়া চোখের পানি মুছে হেসে দিল পাগলি কাঁদছিস কেন রে..  
তোর বিয়ে হয়েছে এটা খুশির খবর কান্না করে সুন্দর সময়টা নষ্ট করবি না।  
চল রোহান, ভাবি আসেন ওদের এগিয়ে দেই…  
ঝাঁরবাতি গুলোর আলো মিট মিট করে জ্বলছে, কান্না হাসির মাধ্যমে একটা বিয়ের সমাপ্তি হলো। ঘন্টা খানিকের মধ্যে মিতুকে নিয়ে গাড়িটা বিয়ে বাড়ি ত্যাগ করলো অন্য বাড়ি আলোকিত করতে।

সারা রাস্তায় মিতু কান্নাকাটি করতে করতে গেল অনেক কষ্টে রোহান তাকে শান্ত করলো।  
শ্রেয়া মিতুর চোখ মুছে দিল পাগলি আমাকে দেখ তো! জাপানে সব প্রিয় মানুষদের রেখে স্বামীর সাথে একা বাংলাদেশে চলে আসছি এটাই নিয়ম।  
মেয়েদের জন্মই হয় অন্যের ঘর সাজানোর জন্য, একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর চাইলেও মেয়েকে ঘরে রাখা যায় না। আল্লাহ্ সবকিছু নির্ধারিত করে রাখেন বিয়ের মাধ্যমে পরের ঘরকে আপন করে নিয়ে জীবনে সংসার কাটাতে হয়।

সারা বাসায় কান্না চলছে বড় মামা,বড় মামী এক রুমে কাঁদছে, জিসান তার স্ত্রীও কাঁদছে প্রিয়া সবার কান্না থামিয়ে চলছে। মিতুর রুমে যেতেই প্রিয়ার ভিতরে হু হু করে কেঁদে ওঠল, প্রিয়াও কাঁদছে এ বাসায় আসার পর থেকে গত ৪ দিন মিতুই তার সঙ্গী।  
সারাক্ষন মিতুকে নিয়েই কাটত প্রিয়ার সময় গল্প,আনন্দ কত কি চলছে দুজনেই..

আন্টি আমরা যাই তাহলে মা সারাদিন বাসায় একা, যদিও ফোনে কথা বলছি তবু টেনশন হচ্ছে।  
রোহানের মা বললে আরাফ বাবা বউমা এখানে থাকুক, সবাই চলে যাচ্ছে মিতু একা হয়ে পড়বে।  
শ্রেয়া আরাফের দিকে তাকাল, আরাফ বললো আচ্ছা আন্টি শ্রেয়া থাকুক কাল রোহানকে দিয়ে পাঠিয়ে দিবেন।  
আমি রহিমাকে নিয়ে চলে গেলাম, রোহান আসছি।  
জ্বী ভাইয়া আজ সারাদিন আপনার অনেক পরিশ্রম হয়েছে, ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা জানা নেই। ভাইয়া আপনি বাসায় গিয়ে বিশ্রাম করুন, আন্টি বাসায় একা আছে।

রোহান তোর ফোন বাজছে বলেই আবিদ মোবাইলটা নিয়ে আসল।  
কে কল করেছে? সেইভ নেই।  
হ্যালো!  
হ্যাঁ প্রিয়া আচ্ছি, আমরা ২ ঘন্টা হলো ফিরছি সবাই ব্যস্ত তাই কল দিয়ে জানাতে পারি নাই।  
আরে সমস্যা নেই মামা মামী কান্না করতেছে তাই মিতুর সাথে একটু কথা বলিয়ে দিব।  
শিওর আমি মিতুর রুমে যাচ্ছি আপনি লাইনে থাকুন প্লীজ।

মিতু প্রিয়া আপ্পি নাও কথা বলো, আপ্পি।  
শোন মামা কথা বলবে, নাও মামা মিতু কথা বলো।  
মারে কেমন আছিস, তুই ছাড়া আমার বাসা খালি…..  
কথা চলছে, মামী,জিসান,ভাবী,মেজ মা সবার সাথে ৩০ মিনিট ধরে কথা চললো।  
মিতু ভালো আছে সবাই বুঝলো এবার সবার শান্তি।  
মা আপনারা খেতে আসুন আমি টেবিলে খাবার  
দিচ্ছি জিসানের বউ সবাইকে ডাকলো। আমি রাতে খাব না তোমরা খেয়ে নাও, সারাদিন সবার কষ্ট হইছে এবার বিশ্রাম করো।  
রাতের নিরবতা চারপাশ শান্ত মনে হয় সবাই ঘুমিয়ে পড়ছে মিতুর চোখে ঘুম নেই। পাশে চেয়ে দেখলো শ্রেয়া নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে, মিতু বিছানা ছেড়ে উঠে বসল মোবাইলে চার্জ নেই।  
চার্জার কোথায় আছে জানা নেই, থাক বন্ধ রোহানের বাড়িতেই আছি ওর ফোন দিলে বন্ধ পাবে, রাগ করবে সেই টেনশন আর নেই।

মিতু মোবাইলা পাশে রেখে শুয়ে পড়লো, অমি মাঝে শুয়ে আছে খুব নিষপাপ মুখটা, মিতুও কিছুক্ষনের মধ্যে ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেল….

ভোরে পাখির ডাক না শোনলে আজাদের ঘুম ভাঙ্গে না। দেশে কি সব পাখি মারা গেছে এমন কোন নিউজ পেপারে পড়েছো আজাদ মিরাকে প্রশ্ন করলো।  
অবাক কান্ড এসব কি কথা শহরে পাখির ডাক খুব কম শোনা যায় তুমি সেটা জানো।  
হ্যাঁ জানি ঢাকা আসার পর আর পাখির ডাক শুনি নাই, তবে পরশু পাখির কিচির মিচির শোনছিলাম।  
আজ তারা নেই কেন?  
ওহ্ বুঝছি পরশু রাতে প্রচুর ঝড় হইছিলো মনে হয় পাখি গুলো এখান থেকে চলে গেছে।

মিরা আজাদকে চা দিল, চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে মিরা বললো গতকাল মিতুর বিয়ে হয়ে গেল।  
কতদিন মেয়েটাকে দেখি নাই, বিয়েটার বিয়েও যেতে পারলাম না বলেই মিরা মন খারাপ করলো।  
প্রিয়া বাসায় ফিরলে মিতুকে মোবাইলের ছবিতে বর সহ দেখবো। এবার আজাদও মন খারাপ করলো আমার জন্য যেতে পারলে না। সমস্যা নেই তুমি সুস্থ হও পরে একদিন যাব, চা খেয়ে নাও ঠান্ডা হয়ে যাবে।

ফোন বাজছে শোনলাম মনে হয় প্রিয়া কল দিসে, মিরা রিসিভ করেই বললো প্রিয়া মা কেমন আছো.?  
আহ্ ৫ দিন মেয়েটা বাসা নেই মনে হচ্ছে কত বছর প্রিযাকে দেখি না।  
মিরা আমার পাশে বসো, শুনি প্রিয়া কি বলে দাঁড়াও আসছি বলেই মিরা আজাদের পাশে বসল।  
মম বড় মামী তোমাদের আসতে বলছি লাইনে থাকো বড় মামীকে দিতাছি।  
মিরা! ভাবী কেমন আছো?  
ভালো।  
শোন তোমার ভাই তোমাকে দেখতে চেয়েছে, অনেকদিন আস না।  
আজ শনিবার, রবিবার মিতুর বৌভাত আমরা সবাই যাব।  
ভাবি প্রিয়ার বাবাকে বলে দেখি সে কি বলে, পরে জানাব।

আজাদ কোথায় পাশেই আছে, দাও তো।  
জ্বী ভাবি কোন কথা নেই আজ বিকালেই তোমরা আমাদের বাসায় আসবে।  
যা হুকুম মহারানী আচ্ছা ভাবি ভাইজানকে বলবেন তার বোন মিরা আসছে বলেই আজাদ ফোন কেটে দিল।  
প্রিয়া বিকালে মিরা, আজাদ আমাদের এখানে আসবে মাত্র কথা বললাম।  
সত্য বড় মামী মম আসবে!  
হ্যাঁ আসবে প্রিয়া খুশিতে রুমে চলে গেল, যাই মিতুকে খবরটা জানাই।

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো রোহান একবারও প্রিয়ার কাছে যেতে পারছে না বিয়ে বাড়ি বলে কথা। সারা বাড়িতে লোকজন মিতুর কাছে ভাবী,ভাই,বোন গুলো এমন করে বসে আছে যেন মিতু আমার কেউ না। আবিদ দোস্ত শোন! ছাড় আজ ভাবির কাছে যাওয়া যাবে না আন্টি না করছে।  
দোস্ত রাতে যাবে না এই দুপুরে একটু কথা বলার ব্যবস্থা করে দে।

আচ্ছা দেখি তোর জন্য কি করতে পারি, শোন দোস্ত তোর বউ তোর কাছেই থাকবে। কেন শুধু শুধু নেকামো করছিস আমরা কাল তোর বৌভাত খেয়ে চলে যাব বলেই রিদম হা হা হা হা করে দিল।  
ওই তোরা আমার বন্ধু নামের শত্রু যা লাগবে না তোদের সাহায্য বলেই রোহান টিভি ছেড়ে সোফায় বসে পড়ল।

তুমি এই সময়ে এখানে বসে আছো কেন! শোন আমার বোন আসবে তাই ওর জন্য অপেক্ষা করছি বলেই শেখর সাহেব দেয়াল ঘড়িতে চোখ রাখল।  
ওরে বাবা বিকাল ৪ টা বাজে, মিরা যে বললো ১০ মিনিটের মধ্যেই বাসায় পৌঁচ্ছবে এখনো এল না।  
হঠাৎ কলিংবেল বাজল মানে মিরা আসছে, শেখর সাহেব দরজা খুলে দিল।

……চলবে।
