# আমি তোমার জন্য এসেছি (পর্ব-৪৬)

Author: সুরাইয়া নার্গিস
Published: 2020-06-29
Category: উপন্যাস
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a7%87%e0%a6%9b%e0%a6%bf-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac-45/

আমি তোমার জন্য এসেছি- (পর্ব-৪৬)

অন্য পাশে হিন্দি গানের তালে তালে মিউজিক এর সাথে ছোট ছেলেমেয়েদের অসাধারন নাচ চলছে।  
ভাইয়া এদিকে আসুন,দেখুন এদের প্রতিভা বলেই রিদম এগিয়ে গেল। আরাফ,শ্রেয়া সবাই চেয়ে দেখল দারুন নাচ, রিদম এসব দেখলে চলবে! বাসায় তো ফিরতে হবে।  
জ্বী ভাইয়া চলুন!  
মম আমি একটু মিতুর কাছে যাই পরে এসে তোমাকে কল দিব।  
ওকে বলে মিরা ফোনটা কেটে দিল, এতক্ষনে ওরা সবাই ভিতরে এসে হাজির।

প্রিয়া আপু আপনি খুব ব্যস্ত তাই আমরা দেখা করতে আসলাম।  
ধন্যবাদ আমার খোঁজ নেওয়ার জন্য, আমি দুঃখিত মম কল দিয়েছে তাই কথা বলছিলাম।সমস্যা নেই আপু কাল তো দেখা হবেই। সেই পর্যন্ত ভালো থাকবেন।  
শ্রেয়া বললো আচ্ছা আমরা তাহলে যাই, আল্লাহ্ হাফেজ ওরা সবাই বিদায় নিয়ে চলে গেল।

জিসান ওদের এগিয়ে দিতে গেল, প্রিয়া এসে হলুদে যোগ দিল। মিতুর বান্ধবী কিছু সেল্ফি তুললো, গ্রুপ ছবি তুলল মিতুও নিজের মতো করে ছবি নিল। প্রিয়া আপ্পি আসেন, ভাবী আপনিও আসেন আমরা সবাই নাচব বলে হা হা হা করে হাসল। জিসানের বউ বললো চল প্রিয়া আমি রাজি। ভাবী সত্যি আপনি নাচবেন?  
হ্যাঁ চল, ওরা সবাই মিলে খুব আনন্দ করলো মিতুও বাদ গেল না।  
প্রিয়া কে কল করেছে বড় মামী মম এর কথা বলতেছি।

মিতু তোর ফোন রোহান! দাও বলেই মিতু হ্যালো।  
– জানু।  
\-হ্যাঁ বলো।  
আমার ওরা সবাই আসছে এখন হলুদ দিবে, তোমার কি খবর।  
\-এই তো গোসল শেষ করলাম, এখন খাওয়া দাওয়া করবো।  
ওহ্! তাহলে আমি রাখছি।  
আমার গোসল শেষ হলে রাত ১১ টার দেকে তোমাকে কল দিব।  
ওকে বাই, আল্লাহ্ হাফেজ।  
মিতু এদিকে আয় বলেই প্রিয়া কবুতর, ৫ রকমের ভাজি সব মিলিয়ে এক প্লেটে খাবার নিয়ে আসল।

মারিয়য়া, ভাবী, রহিত, রুমি, কই তোরা সবাই এদিকে আস এক সাথে খাব।  
কয়েক মিনিটের মধ্যে বিছানায় সবাই গোল হয়ে বসল।  
প্রিয়া আপ্পি তুমি মাঝে বস, মিতু তুই আমার পাশে বস বলেই প্রিয়া বিছানায় উঠে বসল।  
মিতুর মুখে মাখানো ভাত দিল, সবাই হাত সামনে রাখ বলেই প্রিয়া সবার হাতে মাখানো ভাত দিল তারপর প্রিয়া নিজেও খেল এভাবে সবাই হালকা খেল।  
মেজমামী তুমি টেবিলে খাবার দাও ওরা সবাই খেয়ে নিবে, যাও সবাই খাবে।  
আমি মিতুকে খাইয়ে আসছি বলে প্লেট থেকে খাবার মিতুর মুখে নিল।

রাত ১০টা বাজে সবাই তাড়াতাড়ি নিজ নিজ রুমে চলে যাও, কাল অনেক কাজ আছে।  
প্রিয়া মিতুকে নিয়ে ঘুমাতে গেল এর মধ্যেই মায়ের কথা মনে পড়লো মোবাইলটা হাতে নিয়ে মমকে কল দিল।  
\-প্রিয়া!  
\-হ্যাঁ মম।  
\-খেয়েছো?  
\-হ্যাঁ, তোমরা খেয়েছো.? আব্বু ঘুমিয়ে পড়ছে।  
\-হ্যাঁ আমরা খেয়েছি, টিভি দেখছি।  
তা মিতুর গায়ের হলুদ কেমন হলে.?  
খুব আনন্দ করেছি মম।  
গুড।

তোমাদের কথা বলো কেমন আছো.?  
কি খবর.?  
\-আজাদ পাশেই বসে ছিলো, মিরা কে কল করেছে.?  
\-তোমার মেয়ে।  
\-শোন প্রিয়াকে একটু খেপাও! দেখি কি বলে।  
\-কিভাবে.?  
\-বলো প্রিয়া তোমার বাবা প্রেমে পড়েছে!  
\-এত রাতে মেয়েটাকে খেপানো কি ঠিক হবে!  
\-আরে বল বল একটু মজা করি।  
\-অনেকদিন প্রিয়াকে খেপানো হয়না।  
\-ওকে।

মম চুপ কেন!  
কিছু তো বল।  
\-প্রিয়া একটা গুড নিউজ আছে!  
\-গুড নিউজ! কি সেটা তাড়াতাড়ি বলো আমি শুনতে চাই।  
\-প্রিয়া তোমার বাবা প্রেমে পড়ছে।  
বলো কি মম!!!  
\-হ্যাঁ আজকেই জানতে পারলাম।  
\-প্রিয়া আকাশ থেকে মাটিতে পড়ল গত ২৫ বছরে আব্বুকে কোন নারীর দিকে অন্য দৃষ্টিতে তাকাতে দেখলাম না।  
সে ৫০ বছর বয়সে কারো প্রেমে পড়েছে, প্রিয়া ঘটনাটা মন থেকে মানতে পারছে না।

মিরা মুখে কাপর চেপে হাসছে, মম আব্বুকে ফোনটা দাও।  
নাও তোমার মেয়ে কথা বলবে।  
\-আজাদ শান্ত ভাবে বললো হ্যালো মা কেমন আছো.?  
\-প্রিয়ার মনটা খারাপ হয়ে গেল, রাগি গলায় বললো অভিনন্দন আব্বু।  
\-কেন কেন মা।  
\-কারন আমার আব্বু প্রেমে পড়েছে।  
\-আজাদ লজ্জিত গলায় বললো হ্যাঁ মা তুমি ঠিকই শোনছো।  
\-তা ভদ্র মহিলা পড়াশোনা না চাকরি করেন.?  
\-নারে মা, ভদ্র মহিলা পুরাপুরি সংসারী।  
\-তাই নাকি!

\-হুম আমাদের ৩০ বছরের প্রেম।  
\-মানে আমার জন্মের আগে থেকেই তোমাদের পরিচয়! তা এখনো ঠিকে আছে।  
\-হ্যাঁ এখনো ঠিকে আছে।  
\-মম জানে.?  
\-হ্যাঁ আজ বিকালেও সেই প্রেমিকার সাথে রোমাঞ্চ করলাম বিকালটা খুব ভালো কেটেছে।  
\-এবার প্রিয়ার চোখে পানি ছল ছল করছে।  
\-প্রিয়া আপ্পি কি হলো.?মিতুর এমন প্রশ্নে প্রিয়া বললো নারে কিছু না।  
আপ্পি আমি বারান্দায় গেলাম রোহান কল করছে, একটু কথা বলে আসছি।

হুম ছাদে যেও না আজ বিয়ের রাত বাইরে বেরুবে না সাবধান।  
ওকে আপ্পি আমি আসছি বলেই মিতু দরজা খুলে বারান্দায় চলে গেল।  
প্রিয়ার চোখ থেকে কয়েক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল, প্রিয়ার আওয়াজ নেই।  
\-প্রিয়া! প্রিয়া মামনি কথা বলো আজাদের ডাকে প্রিয়া কোন সাড়া দেয় না।  
\-শোন মেয়েটা মনে হয় কষ্ট পাচ্ছে, এবার সত্যিটা বলে ফেল মিরা কানের কাছে বললো।  
\-প্রিয়া।  
\-আমি আছি আব্বু, বাবার ৩০ বছরের প্রেমের পরিসমাপ্তি তো আমাকেই করতে হবে।  
আমার আব্বুর বিয়ে দিব তার প্রেমিকার সাথে বলে প্রিয়া হি হি হি হি করে হেসে দিল।

\-তাই নাকি! ইসস আমি তো বিয়ে করার জন্য এক পা’য়ে দাঁড়িয়ে আছি।  
\-তবে প্রিয়া মা সেকি আমাকে ২য় বার বিয়ে করতে রাজী হবে!  
\-প্রিয়া অবাক হয়ে জানতে চায়, মানে কি আব্বু.?  
তোমার ৩০ বছর ভালোবাসা প্রেমিকার নাম কি.?  
আমার ৩০ বছরের প্রেমিকার নাম “মিরা আজাদ, আমার একমাত্র সন্তান ম্যাজিস্টেট প্রিয়া আজাদ এর মম।

প্রিয়া আনন্দে আত্মহারা আব্বু তোমার প্রেমিকা আমার মম!!  
তো নয় কি!  
মিরা আমার প্রথম প্রেম শেষ ভালোবাসা আমার স্ত্রী,তোমার মম।  
তাহলে আব্বু মম যে বললো তুমি কারো প্রেমে পড়েছো।  
তোমার মম ঠিকই বলেছে “আামি প্রতিদিন,প্রতিটা মুহূত্বে নতুন করে তোমার মায়ের প্রেমে পড়ি হা হা হা হা।  
\-প্রিয়াও হাসতে হাসতে বললো “I love you so much abbo”  
\-Love you too maa..

\-সত্যি আব্বু দোয়া তোমাদের এই ভালো মৃত্যু পর্যন্ত অটুট থাকুক।  
আমি তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, এখন ঠিক আছি।  
ওহ্! স্যরি মা,একটু মজা করতে চাইছিলাম।  
তারপর বলো বড় ভাইজান,বড় ভাবী,মিতু মা,জিসান, ছোট গিন্নি সবাই কেমন আছেন.?  
সবাই ভালো আছে আব্বু, বড় মামী মনে হয় কাল সকালে তোমাদের কল দিবে।  
কেন.?  
মিতুর বিয়েতে আসার জন্য।  
তোমার মায়ের মনটা চাইছিলো ভাতিজীর বিয়ে খেতে কিন্তু আমার জন্য যেতে পারল না।  
মিতুর হলুদ সন্ধ্যা কেমন হলো,খুব ভালো প্রচুর আনন্দ করছি তোমরা থাকলে অনেক ভালো লাগতো।

\-নাও মম এর সাথে কথা বলো।

\-প্রিয়া মামার বাসায় আসার পর থেকে যা যা ঘটেছে একে একে সব কিছুর বর্ণনা মমকে ফেনে দিয়ে চললো।

…..চলবে।
