# আমার ভালবাসা (শেষ পর্ব)

- Author: [নীরা সাদীয়া](https://sonelablog.com/author/neera-sadeea/)
- Published: 2017-03-12T09:51:34+00:00
- Updated: 2017-03-12T10:06:18+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/), [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/), [সাহিত্য](https://sonelablog.com/category/literacy/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/

---

আমার ভালবাসা  
পর্ব ৪

![প্রিন্স](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/03/17202951_1032996670138744_6078203328033288833_n.jpg)

***বড় প্রিন্সেস***

প্রিন্সকে ফিরে পেয়ে আমার যে আনন্দ হয়েছিল,তার রেশ কাটতে না কাটতেই দেখি বড় প্রিন্সেসটা অসুস্থ হয়ে গেল। সকাল বেলা রুটি হাতে নিয়ে ছাদে উঠলাম খাঁচা খুলে তাদেরকে রুটি খাওয়াব এই ভেবে।খাঁচা খুলে দেখি প্রিন্সেস উঠে দাঁড়াতে পারছে না। তারপর যদিওবা দাঁড়াল,তারপরও হাঁটতে পারছে না। তাদেরকে রুটি খাওয়ালাম। রুটি খেয়ে প্রিন্স ও ছোট প্রিন্সেস নিচে নামলেও বড় প্রিন্সেসটা কোথাও যেতে চাইছে না। আমার পায়ের কাছেই দাঁড়িয়ে থাকছে। তখন আমি বুঝতে পারলাম সে খুব অসুস্থ। তাই আমার বারান্দায় চট বিছিয়ে তাকে বসিয়ে রাখলাম। একটু পর পর গিয়ে তাকে দেখি আর পানি খেতে দেই। নিজে নিজে পানিটা খাবার মত শক্তি তার নেই। পানির সাথে ওষুধ মিশিয়ে রেখেছিলাম। একটু পর পর গিয়ে তার মুখের কাছে পানিটা ধরলে সে খেতে পারে। এভাবে দুপুর পর্যন্ত চলল। দুপুরের শেষ দিকে প্রিন্সেস আরো দূর্বল হতে লাগল। অামি মাথার কাছে গিয়ে ডাকি

“প্রিন্সেস…ও প্রিন্সেস…..”

সে একটু চোখ মেলে তাকায়, তারপর আবার ঘুম। এর মাঝে তার সারা গা ফুলে উঠল। সম্ভবত শরীরে প্রচুর ব্যাথা হচ্ছিল। কি জানি কি গভীর ব্যাথা সহ্য করে অমন চুপ মেরে একা বসে ছিল সে। তাদের কোন অসুখ হলে,তারা মুখে বলতে পারত না। চিৎকার চেঁচামেচি করত না, শুধু চুপ মেরে একা এক কোণে নিভৃতে বসে কাটাত। যত ব্যাথা বেদনাই হোক না কেন, তা আর কাওকে বুঝতে দিত না। নিজের মাঝে সকল ব্যাথা নিয়ে যন্ত্রনায় নীরবে বসে থাকত। এভাবে বসে বসেই কখন যে তার সকল বেদনার অবসান ঘটিয়ে গেল তা আর বলতে পারছি না।কারণ প্রিন্সেসের কাছে যাবার মত মনের জোর আর শেষ অব্দি আমার ছিল না। ওর শরীরে যেটুকু ব্যাথা ছিল,তার থেকে বেশি ব্যাথা ভর করেছিল আমার মনে।

![প্রিন্সেস](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2017/03/17264104_1032996673472077_1773942489298279916_n.jpg)

***ছোট প্রিন্সেস***

প্রিন্সেসকে হারিয়ে, তার ব্যাথা ভুলতে পারছিলাম না। ২/১ জন কাছের বন্ধুকে বলার চেষ্টা করলাম,কিন্তু দেখি তারা কিছুই বুঝতে পারছে না,বরং মজা নিচ্ছে কিংবা এড়িয়ে যাচ্ছে।। যখন কোন ব্যাথা কারো সাথে ভাগ করার উপায় থাকেনা,একা হজম করতে হয়,তখন তার তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। অনেকের কাছে আমার গল্পটিও খুব হাস্যকর,যেহেতু মুরগি একটা সাধারন সহজলভ্য প্রানি, যে কারো বাড়িতেই থাকতে পারে, সুতরাং এর কোন কদর নেই। কিন্তু একটি কাক পাখিও কারো কাছে অসাধারন হয়ে উঠতে পারে,যদি তিনি সেটিকে আদর, ভালবাসা,মমতা দিয়ে লালন করেন। সে যাই হোক, প্রিন্সেস চলে যাবার পর দুই দিন শুধু চোখের জল ফেলেই কাটালাম। সিদ্ধান্ত নিলাম প্রিন্সেস যেমন তার সমস্ত বেদনা একা নিজের করে নিয়ে চুপটি করে বসে ছিল, আমিও তাই করব। কাওকে কিছু বলব না, যারা বুঝবে না তাদেরকে বলে নিজেকে হাসির পাত্র করার কোন মানে হয় না। বরং নিজেরটা নিজেকেই সামলে নিতে হবে।

তারপরও বেঁচেছিলাম আরো দুটি প্রানির মুখ চেয়ে- প্রিন্স আর ছোট প্রিন্সেস। বিকেল বেলা ছাদে উঠে এদেরকে নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলাম।যদিও ভেতরে ভেতরে রক্তক্ষরণ হত ঠিকই, তবু কাওকে বুঝতে দিতাম না।কিন্তু পরদিন সকাল বেলাই শুনি প্রিন্স উঠে দাঁড়াতে পারছেনা। তাকেও বারান্দায় এনে বসালাম।খাবার খেতে চায় না, শুধু পানি খায়। সেই একই অবস্হা, আমি একটু পরপর পানি দেই মুখের সামনে। সে একটু পানি দিয়ে তার গলাটা ভেজায়। এভাবে থাকার পর একসময় অচেতন হয়ে গেল। প্রিন্স, প্রিন্স বলে ডাকলেও তার কোন সাড়া নেই। বুঝতেই পারছি, সেও আমাকে শূণ্য করে দিয়ে ওপারে চলে যাবে।  
.  
তখন বিকেল ৩টা বা তার কাছাকাছি হবে। মা ডাকছে আমাকে,  
“দেখে যাও প্রিন্স কি করছে”  
আমি কাছে গিয়ে দেখি ওর জ্ঞান ফিরেছে। ও ছটফট করছে, মুখ দিয়ে কষ্টে কেমন একটা চিঁচিঁ আওয়াজ করছে। শরীরে খিচুনী হচ্ছে, মাথা তুলে আমার দিকে তাকালো। তার এ দৃশ্য আমি সহ্য করতে পারছিলাম না।তার মাথার কাছে বসে ছিলাম আর ভেতরটা জ্বলে যাচ্ছিল। প্রিন্স মুখটা একটু মেলে দিল, আমি তাতে একটু পানি দিলাম। তারপর ঘাড় উল্টে আমাকেই শুধু দেখছিল। পানি দিয়ে জিভটা ভেজানোর পর সে আমার দিকে তাকিয়েই রইল। এরই মাঝে কখন যে চলে গেল,তা বুঝতেই পারলাম না।

তারপর দিন চলে গেল ছোট প্রিন্সেস।

প্রিন্সেসের মত আমি সকল কিছু একা সইবার অসীম ক্ষমতা রাখি না। তাই সইতে না পেরে পাগলের মত যাকে পাই তাকেই বলে বেড়াই,এমন পরিস্থিতি হল। বেশিরভাগ মানুুষ আমাকে এড়িয়ে গেল। তবে সেটা গায়ে লাগার মত মানসিক অবস্হা আমার ছিল না। এরই মাঝে কিছু পাখিপ্রেমী, হৃদয়বান মানুুষ আমার অবস্হাটা বুঝতে পেরে পাশে এসে দাঁড়ালেন। নানা ভাবে শান্ত করার চেষ্টা করলেন তাঁরা আমাকে। তবু কি আর এত দ্রুত হৃদয়ের আর্তনাদ থেমে যায়? তাদের কথা মনে পড়লেই ভেতরটা হুহু করে উঠে।

এখনো আনমনে অজান্তে জানালার ফাঁক গলে পেছনে তাকাই, মনে হয় ওরা সেখানেই আছে।পরক্ষণেই মনে হয়, না, ওরা আর কোথাও নেই। এখন আর বিকেলে ছাদে যাই না, গেলেই তো দেখব ছাদটা খা খা করছে…..চারদিকে শুধু শূণ্যতা। এখন আর সকাল থেকে বিকেল হয়না কুক্কুরুক কুক কূজন শুনে। এখন আর কেউ আদরের ভাগ সমান না পেলে পায়ে কামড় বসায় না। আর কোলে ওঠার জন্য কেউ কুক কুক বলে বায়না করে না।কোল এখন শূণ্য পরে রয়। কেউ রুটি খাবে বলে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে হাতে করে রুটি আনতে হয় না।  
এখন চারিদেকে শুধুই শূণ্যতা। ওরা কেউ নেই।  
.  
মহান সৃষ্টিকর্তার পাঠানো সোনালী অতিথিরা সোনারঙ বিলিয়ে ফিরে গেছে নিজ ভূবনে।

সমাপ্ত

---

Comments: 12 — https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%ac/#comments
