# আমাদের কন্যারা ভয়হীন পরিবেশে বেড়ে উঠুক, তেমন নিরাপদ পরিবেশ চাই।

Author: মারজানা ফেরদৌস রুবা
Published: 2016-11-03
Category: এদেশ, পরিবেশ, সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ad%e0%a7%9f%e0%a6%b9%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf/

![received\_10209088409940016](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/11/received_10209088409940016-300x290.jpeg)

আপডেট (১১:৫০) স্থান পরিবর্তন : রবীন্দ্র সরোবর। (জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুমতি মেলেনি)

এ বছরের শুরু থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত গত ৯ মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩২৫টি শিশু। ভাবা যায়???  
অধিকাংশ ধর্ষিত শিশুর বয়সই ৫-১২ এর মধ্যে।

নানা কৌশলে এদের ধর্ষণ করা হচ্ছে।  
৫-১২ বছরের শিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে চকলেট, খেলনা বা কোনো শৌখিন জিনিস দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোনো নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বা বাড়িতে একা পেয়ে।  
১৩-১৮ বছরের শিশুদের ধর্ষণ করা হচ্ছে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে, জোরপূর্বক তুলে কোনো নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বা বাড়িতে একা পেয়ে।

‘বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম’ এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়-  
২০১৫ সালে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫২১টি।  
২০১৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১৯৯টি।  
২০১৩ সালে ১৭০টি।  
২০১২ সালে ৮৬টি।  
তাহলে দেখা যাচ্ছে ধর্ষণের ঘটনা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।  
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এ অবস্থা সমাজের চরম অবক্ষয়ের বহিঃপ্রকাশ। একটি মানুষের নৈতিকতাবোধ শূন্যের কোঠায় পৌঁছলেই কেবল এমন ঘটনা ঘটাতে পারে।

নৈতিকতার অবক্ষয় তো আছেই। এর সাথে যোগ হয়েছে বিচারহীনতা। বিচারের দীর্ঘসুত্রিতা বিচারহীনতারই নামান্তর। একটা ধর্ষণ সংক্রান্ত অপরাধের প্রমাণ যোগার করতে ঠিক কতদিন লাগে? আর হাতেনাতে ধরা পড়া ধর্ষকের ক্ষেত্রে তদন্তের প্রয়োজন-ই বা কতোটুকু?

আমাদের দেশে একটা খুন বা ধর্ষণের বিচারের রায় হতে সময় লেগে যায় দশ থেকে বারো বছর। আবার অনেক ধর্ষণের বিচারও হয়না। বিচার করতেই যদি যুগ পার হয়ে যায় তবে এসব অপরাধ করতে আর বাঁধা কোথায়??  
১৯৮৯ সালে করা সাজনিন ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় সম্পন্ন হলো ২০১৬ সালে !!!  
২০০২ এ সিলেটে একজন হত্যা হয়েছিলো তার রায় সম্পন্ন হলো ২০১৬ সালে !!!  
তো, এই যদি অবস্থা হয় তাহলে অপরাধ প্রবণতা বাড়বে না কেনো?

এসবের জন্য কি আইনি কাঠামো দায়ী নয়??? এছাড়াও দেশে যতোটুকুনই আইন আছে তারও সঠিক প্রয়োগ নাই। শিশু ধর্ষণের অন্যতম কারণ অপরাধীরা হয় ধরা পড়ছে না, নাহয় ধরা পড়লেও বিচার হচ্ছে না, আবার বিচার হলেও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হচ্ছে না।

একসময় এদেশে এসিড সন্ত্রাস খুব হতো। সময়োপযোগী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করার কারণে আমরা এসিড সন্ত্রাস থেকে অনেকটাই বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি।

আমাদের সরকার ব্যবস্থা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে নাড়া না দিলে নড়ে না। প্রশাসন তথা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর রন্দ্রেরন্দ্রে দুর্নীতি এমনভাবে ভিত গেড়েছে যে স্বাভাবিক পথচলাও বাধাগ্রস্ত। দুর্নীতির ঘেরাটোপে পড়ে প্রশাসনযন্ত্র প্রায় স্থবির। নাগরিক দুর্ভোগের প্রতিটা ক্ষেত্রেই সরকার প্রধানকে ভূমিকা রাখতে হয়।

সমাজব্যবস্থা তথা ব্যক্তিমানুষের মাঝেও দুর্নীতি গেড়ে বসেছে। ন্যায় পরায়নতাবোধ নেই বললেই চলে। প্রতিটা মানুষ কেবল নিজকে নিয়েই ব্যস্ত। যার দরুন নৈতিকতাবোধ কাজ করে না। সমাজ, দেশ নিয়ে কোন ভাবনা নেই। সব জায়গা আক্রান্ত হতে হতে একদিন নিজের ঘরও যে আক্রান্ত হতে পারে সে বোধটুকুও মানুষের মাঝে কাজ করে না। অথচ, কেউ ভাবে না যে নগরে আগুন লাগলে দেবালয়ও রক্ষা পায় না।

কাজেই আর নয়। এবার প্রয়োজন প্রতিবাদ-প্রতিরোধ।

আসুন,  
আগামীকাল ৪ নভেম্বর,২০১৬  
সময়: বেলা ৩:০০ থেকে ৫:০০  
স্থান: রবীন্দ্র সরোবর। (জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে অনুমতি মেলেনি)  
সাদা পোষাকে, মুখে লাল কাপড় বেঁধে মোমবাতি হাতে দাঁড়াই।  
আমাদের কন্যারা একটা সুস্থ স্বাভাবিক ভয়হীন পরিবেশে বেড়ে উঠুক, তেমন নিরাপদ পরিবেশ চাই।
