# আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর ওর সাথে একদিন !

- Author: [মর্তুজা হাসান সৈকত](https://sonelablog.com/author/mortuzashaikat/)
- Published: 2013-07-01T05:13:55+00:00
- Updated: 2013-07-01T10:08:01+00:00
- Category: [কবিতা](https://sonelablog.com/category/literacy/poetry/), [সাহিত্য](https://sonelablog.com/category/literacy/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%93%e0%a6%b0/

---

 

মাস্কটের সিক্সথ ফ্লোরের নোকিয়া কেয়ারে ওকে পেয়ে আমিতো অবাক ! কখনো  
দেখা হতে পারে আমাদের, কিংবা হবে কখনো, এ ছিলো কল্পনার অতীত ।  
ভেবেছিলাম এড়িয়ে যাবে । যায়নি, অবাক করে এগিয়ে এসে বললো,  
আরে, তুমি যে এখানে ! কেমন আছো ? কোথায় আছো ? প্রশ্ন অনেকগুলো !

আট বছর পাঁচ মাস পর পুনর্বার আমাদের দেখা-হাঁটা, পাশাপাশি । ওর হাজব্যান্ড  
নামিয়ে গেছে ওকে । অফিসিয়াল জরুরি কী এক কাজ সেরে তুলে নেবে, জানালো ।  
খানিক আলাপচারিতার ফাঁকে প্রসঙ্গক্রমে মুখ ফুটে বললাম, মিনিট পাঁচেক দূরত্বেই  
থাকি । চাইলে চলো । ওখানেই গল্প করা যাবে খানিকক্ষণ-, দেখেও আসলে  
কেমন থাকি, কোথায় থাকি, এসবই আরকি । চাইলো না, খানিকবাদে কী যেন  
খানিক ভেবে বললো, -আচ্ছা, চলো । ঠিক একটায় পৌঁছে দেবে কিন্তু এখানটায় !

বেডরুমটায় বসেই ওর অনুসন্ধিৎসু চোখ ঘুরে ঘুরে দেখছিলো সব । দেখছিলো  
দেয়ালে টাঙ্গানো ক্লোজআপ ছবিটা আমাদের । তোলা প্রথম বিয়ে বার্ষিকীতে ।  
আমার ওর । দেখছিলো, নিজের হাতে সাজিয়ে যাওয়া ফার্নিচা্র গুলো । মুখোমুখি  
বসে ছিলাম । আলতো পায়ে হেঁটে কাছে গিয়ে এক দৃষ্টিতে তাকালো খানিকক্ষন ।  
তাকালো, যেভাবে তাকাতো আমাতে । বসে ছিলাম, পাশে গিয়ে মৃদু হেসেই  
বললাম, এই সেই ব্যাস্ততা । অনেকটা দিন যত্ন-টত্ন নেয়া হয়নি তেমন । ময়লা  
জমেছে, কিছুটা স্পটও। খানিকটা ঝাড়-মোছ করলেই ব্যাস আগের মতই চকচকে ।  
শুনে চুপ ছিলো কিছুটা সময় । চোখ থেকে চশমাটা খুলে তারপর তাকালো আমার  
দিকে । তাকিয়ে ছিলো খানিকটা সময়ই । আগ বাড়িয়ে তাই জানতে চাইলাম, কী  
দেখছো অমন করে ? কিচ্ছুটি বললো না, অবাক করে দিয়ে জানতে চাইলো শুধু, আচ্ছা,  
বিয়ে-থা করলেনা কেনো আর ? শুনে ভেতরে কেমন যেন খানিকটা মোচর দিলো ।  
বেরুতে চাইলো হৃদয় চিরে জন্মাধিক দীর্ঘ মর্মান্তিক দীর্ঘশ্বাস কোনো। কিছু বুঝতে না  
দিয়েই হাসিমুখে বললাম ওকে, কিছু ব্যাপার বোধহয় একবারই ভালো, কিছু বোধহয়  
আর না হওয়াই ! আবেগটা আড়াল থেকেও বুঝি নাড়া দেয় ! বুঝতে পারি বেশটাই ।  
তাকাতেই দেখি, চোখে-মুখে ওর বর্ষা মেঘের ছায়া পড়েছে । প্রসঙ্গ পাল্টাতে বলি তাই,  
তোমার প্রিয় রং চা আমারো বেশ প্রিয় এখন । এখানটায় বসো, খানিকক্ষণ, বানিয়ে আনছি ।

ওর প্রিয় রং চা । আমার তেমনটা পছন্দ ছিলো না । ওর সাথে খেতাম । তিন-চারবার দিনে।  
কবেযে প্রিয় হয়ে গেলো আমারও ! চুমুক দিতে গিয়ে কথাচ্ছলে জানতে চাইলাম, খানিকটা অজান্তেই,  
আচ্ছা ছেলে মেয়ে হলো কী তোমার ? খানিকক্ষণ চুপ হয়ে ছিলো । অপ্রস্তুত হয়ে যাচ্ছিলাম আমিও,  
ধ্যাত বলে ফেললাম কী ! এরপর হলো যেটা, কল্পনাতে ছিলোনা, ছিলোনা স্বপ্নেও । ডান হাতে  
আলতো স্পর্শ করে ডান হাতটা আমার মলিন মুখে বললো, আমরাতো দু’জন দু’প্রান্তে চলে যাচ্ছি ।  
যাব খানিক পরেই । আকাশের মতই শান্ত ও নিরুপদ্রব বয়ে যাবে জীবন । দেখা হবেনা, হবেনা  
বোধহয় কখনোই । তাই যদি সম্ভব হয়, ক্ষমা করো, ক্ষমা করো আমায় । আমি বুঝিনি । বুঝতে  
চাইওনি ! খানিক থেমে থেমে বলছিলো । বললো, ব্রিটেন থেকেও ডাক্তার বলেছে । প্রবলেম আমারই ।  
বলতে গিয়ে ওর চোখ বার বার ছল ছল করছিলো অশ্রুতে, উঠছিলো বারবার ! কেবলই তখন মনে  
হচ্ছিলো, আহ এতই কেনো বিচিত্র জীবন, কেনো এতই ! যার জন্য ফ্যামিলির পীড়াপীড়িতে পড়ে  
আমাকে ডিভোর্স দিয়ে বিয়ে করলো সুদূরের ব্রিটেনে । কী পেলো ও আমাকে ছেড়ে গিয়ে, আর আমিইবা ?

ঘড়ির কাঁটাটা তখন প্রায় একটা ছুঁই ছুঁই । তাই বলতেই হলো ওকে, সময়তো প্রায় শেষ হয়ে আসছে, চলো  
উঠি । তখন, ওর অনুসন্ধিৎসু চোখ যেন শেষবারের মত দেখে নিতে চাইলো পুরো বেড রুমটা আমার, দেখে  
নিচ্ছিলো যেন । শেষটায় এসে যেন আঁটকে রইল দেয়ালে টাঙ্গানো আমাদের ক্লোজআপ ছবিটায়, আমাদের  
যুগলবন্দীতে শেষবার । পুরো রিক্সায় আমার সাথে কোনো কথা বলেনি ও, বলেনি একবারও আর । কেবল  
রিক্সাটা মাস্কটের সামনে পৌঁছুলে, হাত নেড়ে বিদায় জানালো শেষবার । আমিও হাত নাড়লাম । ও চলে যেতেই  
চোখে বারবার ভেসে উঠছিলো দেয়ালে টাঙ্গানো আমাদের ক্লোজআপ ছবিটা, কেবলই ক্লোজআপ ছবিটা আমাদের!

---

Comments: 32 — https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%9b%e0%a7%87%e0%a6%a1%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%93%e0%a6%b0/#comments
