# আমরাও স্বাভাবিক মানুষ।

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2016-06-06T06:08:35+00:00
- Updated: 2016-06-06T06:08:35+00:00
- Category: [বিবিধ](https://sonelablog.com/category/misc/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a5%a4/

---

মানুষ যে সৃষ্টির সেরা জীব, তার কারন, মানুষেরই রয়েছে হৃদয়বৃত্তি, বুদ্ধি, বিবেক। এগুলো থেকেই মানুষের নীতিজ্ঞান, পরিহিতব্রত, বোধ ইত্যাদির উৎপত্তি। যে ব্যক্তির মধ্যে এই বৈশিষ্ট্যগুলো যতটুকু পরিপূর্ণ এবং প্রবল সে ব্যক্তি মানুষ হিসেবে ততটুকু পরিপূর্ণ এবং স্বার্থক।

ভালমন্দ , উত্তম এবং অধম মানুষের মধ্যে প্রাগৈতিহাসিক যুগেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। সৎ কর্মজীবি মানুষের বিবেক স্বাধীন এবং শক্তিশালী। তার উত্তম ও অধম হওয়ার পেছনে পারিপার্শিকতার যতোই প্রভাব থাক না কেন, তা অতিক্রম যোগ্য। সুষ্ঠুভাবে নিজের বিবেকের যথাশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মানুষ তার নিজের উপর থেকে অধমের কুপ্রভাব অনায়াসে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে নিজেকে উত্তমের উন্নীত করতে পারে। এ জন্য তাকে তার প্রবৃত্তি এবং পারিপার্শিকতার সাথে অনাবরত যুদ্ধ করতে হয়। এই যুদ্ধ ক্ষেত্রে সেই সাহসি মানুষটি যদি বাংলাদেশ পুলিশ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করে তবে তো এই যুদ্ধ তার সর্বক্ষনের সংগি।

*পুলিশ* সবার চোখে ঘৃণিত। কিন্তু এই পেশায় আসার জন্য এই নিন্দুকেরাও কিন্তু কম কাঠখর পুড়ায় না। পুলিশ সহজ ভাবে কোনো কথা বললে, কেউ শোনে না। সব দোষ পুলিশের।

জীবন থেকে নেওয়া পুলিশের গল্প কয়জনই জানে, কয়জনই বোঝে? একজন পুলিশ অফিসারের বউ হয়ে এই টুকু বলতে পারি, এই পুলিশ গুলো আসলেই খারাপ! এরা পরিবারের থেকে জনগনের জন্য সময় দেয় বেশী। এদের ডিউটির কোনো সময় সীমা নেই। আমার উনাকে বিয়ের পর থেকে দেখে এসেছি, কোনোরকম বাসায় থাকতে। আর যখন বাসায় থাকে, তখন দুই কানে দুই মোবাইল, অথবা ওয়ারলেস সেট হাতে। বাসায় কিহচ্ছে না হচ্ছে দেখার সময় নেই। কোনোরকম ঘুমালেও মোবাইলটক ও ওয়ারলেস সেট টা কানের কাছেই থাকে। উনি যখন ধানমন্ডি, রমনা, নিউমার্কেট থানাতে ছিলেন ভোর রাতের দিকে ঘুমাতে আসতেন। সকালে ঘুম থেকে উঠতেনই ফোনের শব্দে। নিউমার্কেট থানায় থাকতে জুলি রাত দুইটার দিকে থানা থেকে রিক্সা করে বাসায় ফিরছিল, সাহবাগের দিকে আসতেই সাদা মাইক্রো দেখতে পায় এবং দুই দিকে দুইজন করে লোক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতে পায়। তাদের কাছাকাছি আসতেই ুইজন ওর দিকে চলে আসে। একজনের হাতে বড় একটা ছুরি, শুধু মুখে বলে” স্যার আপনারও কিছু করার নেই, আমারও কিছু করার নেই” বলতে বলতেই কোপ মারে। জুলির হাতে ছিল পিস্তল, ও রিক্সা থেকে গড়িয়ে পড়ে। মুখে বলে “খবরদার আগাবি না, গুলি করব” । এর মধ্যেই ওর দুই কলিগ পিছনের রিক্সায় আসতেছিল। ওদের দেখে ওরা মাইক্রো করে পালিয়ে যায়। জুলির হাতে তখন একটা মার্ডার কেস্ এর মামলা ছিল। সেই মামলায় চার্জশিট দিয়েছিল এবং ওদের ফাঁসির অর্ডার হয়। অথচ কোর্টে তারা জামিন পায়। কিন্তু এতো প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী থাকার পরেও যখন কোর্ট থেকে এইসব আাসামী জামিন পায়, তখন সত্যি কি পুলিশের কিছু করার থাকে ?

২০০৭ থেকে ২০০৮ জুলি ধানমন্ডির সেকেন্ড অফিসার। ওকে বাসায় আমরা কখনোই পাইনি। ওর বাচ্চারক কখন হামাগুড়ি দিতে শিখলো, কখন াবা ডাকা শিখল, কখন হাটতে শিখল, কখন নতুন দাঁত উঠল, কখন ওর বাচ্চারা অসুস্থ হল, কখন ওর মা অসুস্থ হল হাসপাতালে কখন ভর্তি করলাম, কি চিকিৎসাহবে ও কিছুই বলতে পারে না। কখন ওর মায়ের হার্টের অপারেশন হল, কখন ওর বাবার এম আর আই করানো হল ও শুধু ফোনেই শুনে নিত, শুধু বলত”আচ্ছা ঠিক আছে, ব্যস্ত আছি পরে শুনব”। ও যখন বাসা থেকে যেত তখন মেমন সোনা ওর পা জড়িয়ে ধরে থাকত। রিয়ান সোনা একদিন ওর ফোনই বাথরুমে ফেলে দিল। আমাকে আলত আলত করে এসে বলছে,”আজ না বাবা বাইরে যেতে পারবে না, বাবার ফোন ফেলে দিয়েছি”। আমি ভাবলাম সর্বনাশ ওয়ারলেস ফেলে দেইনি তো ! যেয়ে দেখি ওর মোবাইল ফোন ফেলে দিছে। ওর বাবাকে সেদিন দেখেছি, ছেলেকে জড়িয়ে স্যরি বলতে, চোখ ছল ছল হতে। এই আমি, আমার কতো অভিযোদিনের পর দিন, রাতের পর রাত একা রেখেছ তার উপর !

-কখনো সময় দিয়েছো ?

-কোথাও বেড়াতে নিছ ?

কতো কতো যে অভিযোগ শুনতে হয় এই পুলিশ অফিসারদের ! যখন তাদের পরিবার তাদের দিকে এই এতো অভিযোগের পাহাড় তুলে দেয় তারা শুধু অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকে। মনে মনে ভাবে,” তুমি অন্তত বোঝ না”। তুমিই তো আমার নিরাপদ আশ্রয়, আমার সন্তানদের আশ্রয়”। অফিসের এতো চাপ”। আমি তো তোমার পাশেই আছি, তুমি তো আমার শক্তি”। অথচ আমরা বউরা বুঝেও বুঝি না, বুঝি সবই মানতে চাই না। এমনও হয় এক যায়গাতে হয়ত সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থেকেছে। খাওয়ারও সময় পায় না। সবারই রেষ্ট নেবার সময় আছে ওদের নেই। ওদের থাকার ভাল যায়গাও নেই। সব ডিপার্টমেন্টের নিরাপদ ও নিজস্ব থাকার কোয়ার্টার আছে এদের নেই। আমাদের পোষ্টিং হলে, আমরা একারাই থেকে যাই, সে চলে যায় নতুন কর্মস্থলে। কারণ তাদের যে বাসা খুঁজে পেতে হবে! না, আমি কোনো অভিযোগ করছি না। শুধু বাস্তবতা বলছি।

একটাপুলিশ অফিসার তার বাসার বাজারটাও করার সময় পায় না। তার সন্তান ও পুরো পরিবারের দ্বায়ির্ব থাকে পুলিশ গৃহিনীর উপরই। তাই তো এই জঙ্গি গোষ্ঠি এখন তাদের পরিবারের উপর টার্গেট নিয়েছে।

পুলিশ অফিসারদের বাচ্চাদের কাছে মাইই সব থেকে বড় আশ্রয়। অন্য চাকরি করে পরিবারকে যথেষ্ট সময় দেওয়া যায়, কিন্তু পুলিশে চাকরি করে নয়। তাই উপলব্দি করতে পারছি, মিতু ভাবীর বাচ্চা ও পরিবারটির কি হবে।

লেখার ছিল আরো অনেক কিছু, কেন লিখতেই পারছি না। বার বার বাচ্চা দুইটার কান্না কানে আসছে।

বাংলাদেশের জনগন, ভুল করলে পুলিশের মাইর খাইলে পুরো পুলিশের চৌদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করে। জানিনা কবে কখন আমরা এদের শ্রদ্ধাভাজন হব।

পরিশেষে বলতে চাই, সবাই সবার অবস্থান থেকে সৎ থাকুক। এই জঙ্গি গোষ্ঠী কিছুতেই বাবুল সাহেবের মনোবল কিছুতেই ভাঙতে পারবে না। হ্যাঁ এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে তার সময় লাগবে। ত

---

Comments: 22 — https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%93-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%b7%e0%a5%a4/#comments
