# আন্না থেকে মান্না

Author: আজিজুল ইসলাম
Published: 2014-11-28
Category: বিবিধ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%a5%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%be/

আন্না থেকে মান্না। ভারতের আন্না হাজারে আর বাংলাদেশে মাহমুদুর রহমান মান্না। ভারতে আন্না হাজারে দুর্নীতি বিরোধী সামাজিক আন্দোলন শুরু করেছিলেন ২০১১-এ আর বাংলাদেশে মান্না শুরু করলেন আজ ২০১৪-র ২৮শে নভেম্বর। জনাব মান্না ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে একবার ডাকসুর জিএস এবং চিটাগাং ইউনিভার্সিটিতেও চিউকসুর জিএস ছিলেন। প্রতিবাদী মানুষ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন তিনি ইদানিং। আগে জাসদ করতেন, কমিউনিষ্ট পার্টির সাথেও সংস্রব ছিল নিবিড়ভাবেই। কিন্তু স্বাধীনচেতা মানুষ, কোন বন্ধনে জড়াতে চাননা, স্বাধীনভাবে লিখতে পারবেননা এবং আরো কিছু বিধিনিষেধের কারনে কমিউনিষ্ট পার্টিও ছেড়ে দেন একসময়। এরপর শেখ হাসিনা তাঁকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন অনেকদিন। কিন্তু এখানেও টিকতে পারেননি স্বাধীনচেতা মান্না। এরপর ”নাগরিক ঐক্য” নামে একটি সংগঠন করেন এবং তিনি এর বতর্মান আহ্বায়ক।

”দুর্নীতিকে না বলুন” এই স্লোগানের উপর ভিত্তি করে জনাব মান্না আন্দোলনটার সূচনা করলেন। অনেকে এসেছিলেন। যেমন সবর্জনাব সৈয়দ আবুল মোকসেদ, শাহদীন মালিক, সাবেক আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, ডা. জাফরুল্লা চৌধুরী, প্রফেসর আসিফ নজরুলসহ ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা হতে নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কিছু সদস্য। আর কিছু মানুষ নিতান্তই উৎসুক্যের কারনে। বলাই বাহুল্য বক্তারা সরকারকে, সরকারের প্রশাসনকে ধুনবেন এবং ধুনলেনও।

সমাপনী বক্তব্যে জনাব মান্না সকলকে সালাম এবং শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, এই দুর্নীতিকে রুখতেই হবে। সরকারের ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনকে সমালোচনা করে কিছু বললেন। আগামীতে একটা গোলটেবিল বৈঠক করবেন তিনি এবং এভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কী করা যায়, সেবিষয়ে সকলের পরামর্শ নিবেন। আরো বলেন আমি ঢাকা শহরে একহাজার স্বেচ্ছাসেবক চাই, যারা সারা ঢাকা শহরে দুর্নীতিবিরোধী প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানববন্ধন করবে একদিন। জনাব মান্না আরো বলেন, বিখ্যাত শ্লোগান “তুই রাজাকার” যেদিন প্রথম জন্ম নেয়, সেদিন কে ভেবেছিল যে এটা এত তীব্র হয়ে উঠবে। সেরকম একদিন আজকের এই দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনও একদিন তীব্র হয়ে উঠবে অবশ্যই বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আশাবাদী এই বক্তব্য শুনে কর্পোরেট এই ঢাকা নগরের প্রধান প্রধান রাস্তা দিয়ে হেঁটে হেঁটে ফিরছিলাম আর মনে মনে ভাবছিলাম আমাদের দেশে তাহলে শেষ পযর্ন্ত আন্দোলনটা শুরু হলো, ভারতে যেটা শুরু হয়েছিল আরো তিন বছরেরও বেশী সময় আগে। ভারতে আন্দোলনটা অতি তীব্র হয়ে উঠেছিল প্রথম থেকেই, যে তীব্রতার ছিঁটেফোঁটাও আজ দেখা গেলনা। তবুও আমাদের একজন মান্না আছেন, ভালবেসে যাঁকে প্রায় সবাই  “মান্না ভাই” বলে সন্বোধন করেন।

সার্বিকভাবে আমার মনে হলো, আন্দোলনটাকে সফল করতে তাঁরা পথ হাতড়ে বেড়াচ্ছেন, কিন্তু পাচ্ছেননা, পেতে কষ্ট হচ্ছে। মান্না ভাই শহুরে রাজনীতিক, সংগঠনের নামটাও তাই রেখেছেন “নাগরিক ঐক্য”। শহর ছাড়াও বিস্তীর্ন গ্রাম-গঞ্জকে কতখানি আমলে নেন তিনি সেটা আমার জানা নেই। গ্রাম-গঞ্জের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের অথর্নৈতিক দুরবস্থার কথা তাঁর মনে থাকে কী-না, এটাও অজানা আমার। গ্রাম-গঞ্জের কুঁড়েঘরগুলোর কান্না তাঁকে কতখানি নাড়া দেয়, সেটা তিনিই জানেন। তা নাহলে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন তিনি শুধুমাত্র ঢাকা শহরে সীমাবদ্ধ রাখার কথা বললেন কেন ? এ কী দায়সারা গোছের কিছু? এ আন্দোলনকে সারাদেশব্যপী ছড়িয়ে দেয়ার কোন পরিকল্পনা আছে কি-না তাঁর জানা গেলনা। শুধু সরকারের বিরুদ্ধাচরণ করার জন্য কী এ আন্দোলন!

জানিনা প্রশ্নগুলো মান্না ভাইয়ের কাছে পৌঁছবে কি-না। তবে আমার মতে এ আন্দোলনকে সার্থক করতে হলে সারাদেশব্যপী আন্দোলনটাকে ছড়িয়ে দিতে হবে। যেখানেই দুর্নীতি অনিয়মের অভিযোগ উঠবে, সেখানেই তরুন সমাজের সহায়তায় প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে এবং সেখানে সুনীতি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পযর্ন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যেতেই হবে। কোনমতেই ছাড় দেয়া যাবেনা। এভাবেই এ আন্দোলন একটা রুপ লাভ করতে পারে বলে মনে করি।

তবুও মান্না ভাইকে অশেষ ধন্যবাদ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাংলাদেশে প্রথম সামাজিক এই আন্দোলন শুরু করার জন্য।
