# “আনন্দপুরের ভূতের কান্ড” পর্ব-৩

- Author: [প্রদীপ চক্রবর্তী](https://sonelablog.com/author/prodeep-chakraborty/)
- Published: 2020-04-12T10:24:27+00:00
- Updated: 2020-04-12T10:24:27+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%aa/

---

রাত্রি তিনটে।  
এদিকে তন্ত্রমন্ত্রে গাঁজার মুগ্ধকরা ঘ্রাণে হঠাৎ করে এক জটাধারী মহাতান্ত্রিকের আগমন।  
হাতে ত্রিশূল, গলায় নবরত্নের মালা,কাঁধে ঝুলি,  
গায়ে একখানা লালসালু পরিহিত। রূপেরঘটা ভয়ানক।

মনে হয় শ্মশানের অগ্নি ছাই থেকে উঠে আসা।  
দেখলে যেমন ভয়ে গায়ের লোম খাড়া হয়ে ওঠে।  
মুখে ক্রীঁ ক্রীঁ ক্রীঁ ফট্‌ স্বাহা উচ্চারণ করে বিলাস বাবুর মন্দিরের উপবিষ্ট।  
অন্য তান্ত্রিকরা বলছে এ তান্ত্রিকের কাজকর্মে না কি রয়েছে অলৌকিকত্বের স্বাদ।  
রামলোচন এ তান্ত্রিক কে দেখে ভয়ে বড্ড কাঁপছে!  
না জানি না কি হয়।  
রণচণ্ডী বউ কী শেষপর্যন্ত উল্টো রামলোচনকে তান্ত্রিকের কাছে বশীকরণ করে ফেলে!  
বশীকরণ করলে উপায় থাকবে না।  
যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াতে পারবে না।  
শুধু বউয়ের কথা শুনতে হবে আর ঘরের যাবতীয় কাজকম্ম করতে হবে।  
রামলোচন অষ্টাঙ্গে পড়লো বিলাস বাবুর পায়ে।  
বিলাস বাবু হতবাক!  
এ কী রামলোচন?  
আজ্ঞে কর্তা মশাই আমায় কৃপা করুণ।  
আমার বউ হয়তো এ মহা তান্ত্রিকের কাছে আমায় বশীকরণ করে ফেলবে।  
এমনি এমনি বাঁচবার টাই পাইনি এ রণচণ্ডী বউয়ের জন্য। শেষপর্যন্ত সাতটা পাঁঠা বলি দিয়ে কোনকাজে আসবে না মনে হয়।  
বিলাস বাবু স্তব্ধ হয়ে গেলেন হঠাৎ করে!  
আগত এ মহা তান্ত্রিকের তান্ডব দেখে।  
না জানি আজ কী হয়!  
এ মহা তান্ত্রিকের সাথে আগত অন্যানরা মাথা নাড়াচ্ছে আর গাঁজায় টান দিয়ে উন্মাদের মতো নাচ্ছে।  
রামলোচনের বউ এসব দেখছে আর রামলোচনের মুখের দিকে তাকিয়ে বলছে এ হতচ্ছাড়া পতি- কোনদিন আমার নামে উল্টাপাল্টা কারো কাছে নালিশ করলে এ তান্ত্রিকে দিয়ে বশীকরণ করে নিবো বল্লুম।  
ওগো গিন্নী আর আমায় কত সাঁজা দিতে চাও?  
এমনিতেই তো আমায় জলে জলাঞ্জলি দিতে চলেছ।  
আর সহ্য হচ্ছে না গো গিন্নী।  
কবে দেখবে তোমার শাঁড়ির আঁচলে গলাবেঁধে ফাঁস লাগিয়ে মরে যাবো বল্লুম।  
ওরে আমার হতচ্ছাড়া পতি আমার শাঁড়ির আঁচল গলায় বেঁধে মরতে চাও।  
এত সখ জাগছে মনে?  
শুনো হে,  
হতচ্ছাড়া পতি এত সকাল এমনি এমনি মরতে দিবো না তোমায়। আমায় অনেক জ্বালিয়েছ।  
এনিয়ে বেনিয়ে আমার নামে অযথা নিন্দা ঠাট্টা করেছ।  
তাও তান্ত্রিকদের কাছে। যাতে করে তাদের মন্ত্রে আমায় বশীকরণ করে নিতে পারো।  
এইবার দেখো তোমার পালা।  
ওগো গিন্নী আমি আর কোনদিনও তোমার নামে নিন্দা করবো না গো।  
তুমি যা বলবে তা কানপেতে মনযোগ দিয়ে শুনবো।  
ওরে আমার হতচ্ছাড়া পতি  
কান পেতে মনযোগ দিয়ে শুনলে কাজ করবো কেটা?  
ও গিন্নী আমরা দুজন মিলে করবো না হয় কাজ!  
ওরে হতচ্ছাড়া পতি আবার বলে কী!  
আমি কাজ করবো?  
শুনো হে হতচ্ছাড়া পতি আজ থেকে আমি বাজারে যাবো আর তুমি ঘরের যাবতীয় কাজকম্ম করবে বলে দিলুম।  
ওগো গিন্নী তাই বুঝি  
আমার কপালে এসব?  
হ্যাঁ তাই’ই!  
হতচ্ছাড়া পতি..।

---

Comments: 18 — https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%aa/#comments
