# “আনন্দপুরের ভূতের কান্ড” পর্ব-৪

- Author: [প্রদীপ চক্রবর্তী](https://sonelablog.com/author/prodeep-chakraborty/)
- Published: 2020-04-14T15:41:19+00:00
- Updated: 2020-04-22T07:51:13+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%aa-2/

---

বিলাসবাবুর বাড়িতে নবাগত তান্ত্রিক মহাসাধু অনেকদূর গাঁ থেকে এসেছেন।  
দূরদেশের লোক বলিয়া সকলে তাকে প্রণাম করতে লাগলো। এমনকি বাড়ির কর্তা বিলাস বাবুসহ রামলোচন ও তার বউ সকলেই এ তান্ত্রিকের পায়ে লুটিয়া পড়িলো।  
তান্ত্রিক মহাসাধু অমাবস্যার শেষপ্রহরে উচ্চস্বরে বলছে-অবঘরো নবঘরো,আমারে তিনজনে ধরো।  
আমি শিবলেঙ্গার ভাই,  
আমার মতো বড়ো গন্তা অত্র দেশে নাই..!  
এমন কথার বাণী শুনেই সকলে এ মহা তান্ত্রিক সাধুর পূজা করতে লাগলেন। এ যেন বিলাস বাবু কালীপূজা ছেড়ে দিয়ে সকলকিছু আত্মসমর্পণ করতে লাগলেন এ জটাধারী দূরদেশ হতে আগত মহা তান্ত্রিক সাধুর কাছে।  
জটাধারী তান্ত্রিক সাধু বলছেন যার যে মনোবাসনা আমি সকলকিছু পরিপূর্ণ করি।  
এ কথা শুনে রামলোচন এদিকওদিক থাকিয়ে হঠাৎ করে বলে উঠে, হে তান্ত্রিক বাবা আমায় আপনি কৃপা করুন।  
কি হয়েছে বৎস?  
আজ্ঞে তান্ত্রিক বাবা আমার বউ আমায় যত্রতত্র গলাটিপে ধরে এমনকি রোজই মারে!  
আমি জর্জরিত।  
আমি নির্যাতিত।  
আমায় কৃপা করুন বাবা।  
থামো বৎস, থামো।  
আমি তোমার সকল মনস্কামনা পূর্ণ করে দিচ্ছি।  
এরজন্য তোমায় মোটা অংকের আর্জি গুণতে হবে।  
যথাজ্ঞা তান্ত্রিক বাবা।  
বউয়ের, নাক,কান,গলার স্বর্ণ ব্যতীত আর আমার কাছে কোন অর্থসম্পদ নেই তান্ত্রিক বাবা।  
তাহলে বেশ হলো বৎস।  
যাও নিয়ে এসে তোমার বউয়ের তিনপদের স্বর্ণ।  
এদিকে তিনপদের সকল স্বর্ণ রামলোচনের বউয়ের পরনে।  
কিভাবে কি করা!  
রামলোচন মহা বিপদের মধ্যে।  
কেননা এ রণচণ্ডী বউয়ের কাছ হতে স্বর্ণ আদায় করা সম্ভব নয়। এসব যদি রণচণ্ডী বউ শুনে তাহলে রামলোচনের অবস্থা থাকবে না।  
রামলোচনের এদিকওদিক থাকানো দেখে রামলোচনের বউ বলছে ওগো আমার হতচ্ছাড়া পতি আমায় রেখে কোথাও পালাবার চেষ্টা করোনা। আমি তোমার চোখে চোখ রাখছি।  
আবারও বলে রাখলাম,  
এনিয়ে বেনিয়ে আমার নামে কোনকিছু করতে যেওনা এ তান্ত্রিকের কাছে।  
আমিও বশীকরণ করতে জানি!  
এ কথা শুনে রামলোচন চুপচাপ বসে রইলো।  
এদিকে সকাল হতে চলছে।  
তান্ত্রিক মহাসাধু সকলকে নিয়ে যজ্ঞে সমবেত হয়ে হাতে মাথার খুলি নিয়ে বলতে লাগলেন হ্রিং,ফ্রিং ব্রিং তোদের যা আছে তা আমায় দিয়ে দে!  
আমি তোদের সকলের মনস্কামনা পূর্ণ করবো।  
তান্ত্রিকরা আলোছায়ার অপ্রাকৃতে অমাবস্যায় ভূতের গল্পের আসর বসিয়ে দিলো বিলাসবাবুর মন্দির প্রাঙ্গনের বটগাছের তলায়।  
তান্ত্রিকদের চারপাশ ঘিরে মাথার খুলি।  
দেখতে একেকটা বড্ড ভয়ানক। এ যেন প্রতিটা মাথার খুলি চেয়ে চেয়ে আছে। আগত মহা তান্ত্রিক ঝুলি হতে একটা মরা নরকঙ্কাল বের করে বলছেন তোমাদের যা কিছু বলার আছে এই নরকঙ্কালকে স্পর্শ করে বলো।  
হুট করে এসেই রামলোচনের রণচণ্ডী বউ বলছে আমার হতচ্ছাড়া পতি যেন আমার কথাবার্তা শুনে এছাড়া ঘরের যাবতীয় কাজকম্ম করে থাকে।  
এদিকে রামলোচন এসে বলছে হে তান্ত্রিক বাবা আপনি না হয় আমার বউয়ের কিছু একটা ব্যবস্থা করুন।  
আমি আর পারছিনা।  
বললাম তো রামলোচন যদি তুমি তোমার বউয়ের তিনপদের স্বর্ণ দিতে পারো তাহলে তোমার রণচণ্ডী বউয়ের কাছ হতে মুক্তি পাবে তার আগে নয়।  
মহা তান্ত্রিক রামলোচনের রণচণ্ডী বউকে বলছেন  
যদি তোমার হতচ্ছাড়া পতিকে নিজের বশে আনতে চাও তাহলে সাতটে পাঠা আমায় দিয়ে দাও।  
এই কথায় রাজী হয়ে রামলোচনের বউ বিলাসবাবুর মন্দিরের একপাশে রাখা সাতটে পাঠা এনে দিয়ে বললেন এবার আমার নামে আমার এ হতচ্ছাড়া পতিকে বশীকরণ করুন তান্ত্রিক বাবা।  
তথাস্তু..  
তোমার কাজ ইতিমধ্যে হয়ে যাবে।  
এদিকে রামলোচন ও বিলাস বাবু দুজনি গভীর চিন্তায় মগ্ন। একজন হারিয়েছেন পাঁঠার মাংস আরেকজন বউকে বশীকরণের আশায় হারিয়েছেন সাতটা পাঁঠা।  
শেষপর্যন্ত বিলাস বাবু নিজের গিন্নীর কাছে বশীকরণ হতে চলছেন।  
এদিকে বিলাস বাবুর ছেলে বিনু আর পাশের বাড়ির রাজেন্দ্র বর্মণের ছেলে রাঘব দুজনি কোথায় চলে গিয়েছে। এতো রাত হলো তাদের দুজনের কোন পাত্তা পাওয়া গেলো না।  
রাঘব সবসময় ভূত দেখার নেশায় যত্রতত্র ছুটে বেড়ায় তার নির্দিষ্ট কোন ইয়ত্তা নেই।  
ভোরের দিকে বিনু আর রাঘব বাড়ি ফিরেছে।

---

Comments: 20 — https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%aa-2/#comments
