# “আনন্দপুরের ভূতের কান্ড” পর্ব-১২

- Author: [প্রদীপ চক্রবর্তী](https://sonelablog.com/author/prodeep-chakraborty/)
- Published: 2020-05-08T13:19:28+00:00
- Updated: 2020-05-08T13:19:28+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%aa-10/

---

জমিদার হরিবাবু নামীদামী লোক হলে কি হলো বড্ড লোভী মানুষ ছিলেন। শ্বশুর বাড়ি অনেক জায়গা সম্পত্তি গোলাধকরণ করেছেন।  
এক পা দু পা করে লালমোহন বাজারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মাছ কিনতে। কি মাছ কিনে আনবে হরিবাবু তা স্পষ্ট করে বলেন নি। কিন্তু টাকা দিয়েছেন অনেক।  
রাস্তায় হঠাৎ দেখা হয়ে গেলো বিনু ও রাঘবের সাথে দুজনি বাজার করতে যাচ্ছে।  
লালমোহনকে নিয়ে বেশ জম্পেশ একটা আড্ডা জমে গিয়েছে বিনু ও রাঘবের।  
তিনজনি হরিবাবুর দিঘীর পাড়ে বসে একে একে গল্প করতে লাগলো।  
এদিকে সন্ধ্যা নামছে।  
আনন্দপুরের বাজার সন্ধ্যা পর্যন্ত হয়ে থাকে তারপর সবকিছু বন্ধ।  
লালমোহন, বিনু ও রাঘব তিনজনি আজকাল রসিক হয়ে উঠছে। বাজারের আর কোন উপায় না দেখে তিনজনি দীঘিতে নেমে গিয়েছে মাছ ধরতে।  
শীতের সন্ধ্যা গা শিহরিত হয়ে উঠছে একে একে।  
বিশেষ করে লালমোহন বাড়িতে মাছ না নিয়ে গেলে উপায় থাকবেনা। লালমোহনের এমন সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বিনু ও রাঘব তিনজনি রাত্রের খাবারের জন্য বেশ কয়েকটা মাছ ধরে নিয়েছে।  
মাছ ধরা শেষ হলে লালমোহন ছুটছে বাড়িতে তরতাজা রুই, কই,শিং মাছ নিয়ে।  
এমনিতেই আনন্দপুর,হরিবাবু এসব মাছ দেখে আজ আনন্দে ভরপুর। আর বলছেন শুনছো গো গিন্নী তোমার ভাই মানে আমার শ্যালক এতটা দিনের মধ্যে বাজার করতে গিয়ে আজ একটা কাজের কাজ করেছে।  
দেখো দেখো, দেখো গো গিন্নী।  
কী ভালো ভালো তরতাজা মাছ কিনে এনেছে আমার শ্যালক।  
আজ বড়ই পঞ্চমুখে প্রশংসা করতেই হয়!  
প্রশংসার বিভোরে এতক্ষণ হরিবাবু চোখ ছিলো মাছের দিকে। হঠাৎ লালমোহনের দিকে নজর পড়ে হরিবাবু গম্ভীর হয়ে গেলেন আর বলছেন এ কিরে মোহন তোর এ কী অবস্থা?  
কোথাও চুরিটুরি করতে গিয়ে ধরা খেয়ে পড়েছিস না কিরে?  
এ কথাশুনে লালমোহন চিৎকার করে আপন দিদি হিন্দুবালাকে বলছে শুনছো  
দিদি আজও জামাইবাবু আমায় চোর বলছেন!  
হরিবাবু লালমোহনকে বলছেন শুনো মোহন কথায় কথায় দিদি দিদি বলে চিৎকার করো না তো।  
আগে বলো কেমন করে কী হলো?  
আর বলো না গো জামাইবাবু,  
বাজার হতে মাছ কিনে আনার পথে দিঘীর পাড়ে আপনার কালোবিড়াল মাছ দেখে ধাওয়া করেছিলো আর আমি ভয়ে দিঘীর পাড়ের একপাশে কাদায় পড়ে গিয়ে আমার এ অবস্থা।  
ওহ্  
বুঝলাম মোহন।  
অনেক কষ্ট করেছ যাও স্নান করে এসো।  
ঠিক আছে জামাইবাবু স্নানে যাচ্ছি।  
লালমোহন মাথায় চুলকাচ্ছে আর মনেমনে ভাবছে যাই হোক আজ কয়েকটা বছর পর দিঘীর মাছ খেতে পারবো পেট ভরে।  
হরিবাবু কৃপণ প্রকৃতির লোক সব সময়,  
তাই আজও অব্ধি বাড়ির কারো ভাগ্যে জুটে নি দিঘীর মাছ খেতে।  
আজ লালমোহন যেন হরিবাবুর চোখে আঙ্গুল দিয়ে মাথায় লবণ রেখে জলপাই খেতে চলছে!  
শীতের রাত্রি একে একে সরিষার তেল দিয়ে হিন্দুবালা মাছভাজি করছেন।  
মাছভাজির শব্দ শুনে হরিবাবুর জিহ্বায় জল আসছে।  
আর গিন্নীকে বলছেন ওগো গিন্নী তাড়াতাড়ি খাবারের আয়োজন করো আর পারছি না যে।  
হলো গো হলো,  
আমার ভাই সারাটাদিন হতে উপোস কিছু খায়নি।  
ওমা এ কী বলো গো গিন্নী সারাদিন হতে উপোস থাকবে কেন,  
তোমার আদরের সোহাগী ভাই কোন পরমব্রত পালন করছে না কী আজ?  
উপোস করলেই কি পেটে ক্ষুধা লাগেনা?  
লাগে গিন্নী বড়ই ক্ষুধা লাগে!  
যেমন এখন আমার বড্ড ক্ষুধা লেগেছে গো গিন্নী।  
তাই তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা করো।  
শীতের রাত্রি হরিবাবু ও লালমোহন আজ দুজনি একসাথে খাবারে বসেছেন।  
হিন্দুবালা ভাইয়ের খাবারের পাত্রে রুই, কই,শিং মাছের ভাজি দিয়ে ভরপুর করে দিলেন। এসব দেখে হরিবাবুর সহ্য হচ্ছে না।  
আপন গিন্নী হিন্দুবালাকে বলছেন কী গো  
গিন্নী ভাইয়ের প্রতি আদর অভ্যর্থনা দেখছি বেশ হচ্ছে। আমার প্রতি একটু খেয়াল রেখো।  
হিন্দুবালা বলছেন হয়েছে আমার ভাইটা অনেক কষ্ট করেছে আর তিন চার টুকরো মাছের ভাজি দেখে চোখ ফুড়িয়ে যাচ্ছে আপনার।  
ছিঃ ছিঃ ছিঃ  
লজ্জা হয় না আপনার?  
হরিবাবুর মস্তক নত গিন্নী কথাবার্তা শুনে।  
এদিককে কালোবিড়াল ঝাপটি মেরে হরিবাবুর পাত্র থেকে রুইমাছের ভাজি নিয়ে পালালো।  
মনঃক্ষুণ্ণ হরিবাবু লাফ দিয়ে খাওয়া থেকে উঠে শ্যালকে বলছেন পেটভরে খা অকালকুষ্মাণ্ড।  
তোকো বলছিলাম না বিড়াল বেঁধে রাখতে?  
বিনু ও রাঘবের বাগানবাড়িতে আসার আজ তৃতীয় দিন। ভূত আছে আশপাশ কিন্তু  
ভূতের দেখা নেই দিনরাত।  
বিনু ভূতটুত এসব কিছু আদৌ বিশ্বাস করে না।  
কিন্তু রাতের বেলা কোনকিছুর শব্দ শুনলে লাফ দিয়ে চিৎকার করে উঠে এমনকি ভূতের ভয়ে বিছানায় বহুবার প্রসাব করেছে।  
রাঘব ভূত দেখিবার নিমিত্তে রাত্রিকালে একা একা শ্মশানে শ্মশানে ঘুরিয়েছে। এরূপ বহুকাল কাটিয়েছে ভূত দেখার জন্য আজও দুচোখ ভরে ভূত দেখতে পারেনি।  
বিনুর কাছে ভূত মানে অলিক!  
কখনো তার মনে প্রশ্ন জাগেই না হোয়াট এ গোস্ট?  
অতএব ভূত বলিয়া জগতে কিছু নাই!  
এমন কথার প্রতিত্তরে রাঘব বলিয়া উঠিলো ভূত আছে যেমন করে গতকাল ভূত দেখে ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে কাপড়চোপড়ে প্রসাব করে সব নষ্ট করে দিয়েছিলে।  
রাঘবের এমন কথা অযৌক্তিক বলে বিনু উপড়ে দিয়েছে। রাত অনেক হওয়াতে দুজনি খেয়ে শুয়ে আছে বিছানায়। কেবল দেওয়ালের বড় ঘড়িটা টিক্ টিক্ করেছিলো। রাত্রি মোটে তখন বারোটা সাত।  
রাত যত কালোছায়ায় আচ্ছাদিত হয় বিনুর ততো ভূতের ভয় বেড়ে যায়।

---

Comments: 12 — https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%aa-10/#comments
