# “আনন্দপুরের ভূতের কাণ্ড” পর্ব-১৬

- Author: [প্রদীপ চক্রবর্তী](https://sonelablog.com/author/prodeep-chakraborty/)
- Published: 2020-05-27T10:35:41+00:00
- Updated: 2020-05-27T15:37:53+00:00
- Category: [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%aa-5/

---

বাগানবাড়ির ভূতের লাইব্রেরি ভাঙাচোরা ও শ্রীহীন। তারমধ্য চারদিক জুড়ে অন্ধকার হয়ে আছে গাছগাছালিতে। কয়েকশো বছর পূর্বের বাড়ি কোনরকম দাঁড়িয়ে আছে। এ বাড়িতে মোটেও সংস্কার কাজে হাত দেন নি হরিবাবু।  
লাইব্রেরির ভেতর ভূতপ্রেতের কারুকার্যে ভরপুর। এসবের উপর তলানি পড়ে আছে। বইগুলো প্রাচীন বটগাছের কাঠের সিন্ধুকের ভেতর থাকায় কোনকিছু নষ্ট হয়নি।  
এ বাগানবাড়ির লাইব্রেরির একপাশে থাকতো যতীন্দ্রনাথ বিশ্বাস। একশত টাকা মাইনে দিয়ে।  
বয়স প্রায় ত্রিশ এর কাছাকাছি। তাঁর অবস্থা প্রায় নুন আনতে পান্তা ফুুুরায়। হরিবাবু বড্ড কৃপণ ও কঠিন লোক সাহায্যের হাত পাতলে তাঁর কাছ হতে কোনকিছু পাওয়া দুষ্কর।  
বিলের আশপাশ থেকে মাছ মেরে হিন্দুবালাকে এনে দিতো যতীন্দ্রনাথ। এতে হিন্দুবালা কিছু টাকাপয়সা দিলে পেট চলতো কোনক্রমে।  
যতীন্দ্রনাথ কখনো ভূতপ্রেত বিশ্বাস করেনা এবং ভয় পায়না। তাই ভূতপ্রেত নেই তার মাথাব্যথাও নেই!  
কাকভোরে জমিদার বাড়িতে রওয়ানা দিলো বিনু ও রাঘব। চারদিক জুড়ে বেশ নরম রোদ।  
হরিবাবুর নাতি দিঘির পাড়ে বসে দাঁত মাজছে আর নাটাফলের বিচি দিয়ে “এক একে এক’ দু একে দুই” এইভাবে নামতা গুণে গুণে ঢিল ছুড়ছে।  
হরিবাবু ও লালমোহন দুজনি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। জলপট্টি , ডাক্তারের ওষুধ ও বাংলা ওষুধ কোনটায় কাজ সারছে না।  
অবশেষ হিন্দুবালা যতীন্দ্রনাথকে পাঠালেন বৈদ্য ডেকে আনতে। যতীন্দ্রনাথ হঠাৎ পথে পেয়ে যায় এক সন্ন্যাসী বৈদ্যকে। এ সন্ন্যাসী বৈদ্য নাকি জড়িবুটি দিয়ে থাকেন। আর্জি অনেক, তাই এসবে আর দরকষাকষি  না করে যতীন্দ্রনাথ সন্ন্যাসী বৈদ্যকে নিয়ে এলো জমিদার বাড়িতে।  
একে একে শুরু হলো বৈদ্যের তন্ত্রমন্ত্রের ঝাড়ফুঁ। গরম গরম খাঁটি সরিষারতৈল ছিটিিয়ে গায়ে মেখে দিচ্ছে সন্ন্যাসী বৈদ্য হরিবাবু ও লালমোহনের গায়ে উপর।  
হরিবাবু চিৎকার দিয়ে বলছেন গেলো গেলো সব গেলো গো গিন্নি। আমাকে বাঁচাও। লালমোহন কিছুটা ধৈর্যশক্তি নিয়ে শুয়ে আছে। হরিবাবু যত চিৎকার দেন হিন্দুবালা বৈদ্যেকে বলেন বেশি বেশি করে গায়ে সরিষার গরম তৈল ছিটিয়ে দিতে।  
এ যেন মরার উপর কামান দাগ।  
বিনু ও রাঘব জমিদার হরিবাবুকে দেখতে আসার পূর্বে সন্ন্যাসী বৈদ্য অনেক টাকাপয়সা নিয়ে পালিয়েছে মিথ্যা ফুঁ ফাঁ দিয়ে। কিছুতেই জ্বর ও মাথা ঘোরানো কমছে না। বিনুর মনে বিশ্বাস হরিবাবুকে ভূত ধরেছে তাই ভূতের ভয়ে এমন হয়েছে।  
অবশেষে স্ক্যান করে দেখা গেছে হরিবাবুর স্নায়ুতন্ত্রে একটা গণ্ডগোল হয়েছে। এছাড়া ভূত তাঁর ঘাড়ে চাপা মেরে ধরেছে। ডাক্তার কিছু পথ্য দিয়ে বলেছেন হরিবাবু ও লালমোহন বেশ কয়েকদিন বিশ্রাম নিতে।  
বিনু ও রাঘবের কোনও কাজ নেই। সারাদিন ভূতপ্রেত নিয়ে গবেষণা করা। আর ভূতের সর্দার জমিদার হরিবাবুর কাণ্ডকারখানা নিয়ে আলোচনা করা।  
আনন্দপুরে আসায় দুজনের লেখা নেই, পড়া নেই, উমেদারি নেই, চাকরি নেই । কাজের মধ্য একটা কাজ বাগানবাড়ির ভূতপ্রেত নিয়ে গবেষণা করা।  
আর জমিদারবাড়ির সুস্বাদু খাবার খেয়ে তাদের দিনকাল কাটিয়ে দেওয়া।  
ভূত নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় চলছে হরেক গণ্ডগোল। জমিদার বাড়ির নাম পাল্টে বসতেছে।  
অনেকের মুখে জমিদার হরিবাবুর বাড়ি নাকি ভূতবাড়ি।

---

Comments: 19 — https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a3%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%aa-5/#comments
