# যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অপরাধ সমূহ এবং বিচারের রায়

Author: হৃদয়ে আমার বাংলাদেশ
Published: 2013-10-01
Category: মুক্তিযুদ্ধ, সমসাময়িক
Tags: ১৯৭১ এ মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, সাকা চৌধুরী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে যে সমস্ত অভিযোগ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%9c-%e0%a7%a7%e0%a7%af%e0%a7%ad%e0%a7%a7-%e0%a6%8f-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87/

**সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে ।  
**[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2013/10/url.jpg "url")](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2013/10/url.jpg)  
১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা , ধর্ষণ , অপহরণ , নির্যাতন , ধর্মান্তর করন ইত্যাদি অভিযোগে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায়।  
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মোট ২৩টি অভিযোগ :-  
**অভিযোগ-১**  
৪ বা ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার পর মতিলাল চৌধুরী, অরুন চৌধুরী, যোগেশ চন্দ্র দে, ও পরিতোষ দাস, পাচক সুনীল প্রমুখ বন্ধুগণ একত্রিত হয়ে শহীদ মতিলাল চৌধুরীর চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানাধীন রামজন লেনের বাসভবনে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনারত ছিলেন। আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী আব্দুস সেবাহান এ বাড়িতে ঢুকে তাদের দেখে সঙ্গে সঙ্গে বাসা থেকে বেরিয়ে গুডসহিলে খবর দেয়। তার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই দুই ট্রাক পাকিস্তানী সৈন্যদের সঙ্গে নিয়ে উক্ত সোবহান বাসাটি ঘেরাও করে ফেলে এবং তাদের অপহরণ করে ট্রাকে তুলে গুডসহিলে নিয়ে যায়। পাচক সুনীলকে আটক ও অপহরণ করে আর্মির ট্রাকে তুলে গুডসহিলে নিয়ে যায়। পাচক বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ হওয়ায় তাকে গুডসহিলের নির্যাতন কেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু বাকি ৬ জনকে আটক করা হয়। ছাড়া পাওয়ার কিছুক্ষণ পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী উক্ত আব্দুস সোবহান মতিলাল চৌধুরীর বাসার সামনে সুনীলকে দেখতে পেয়ে সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হওয়ায় প্রমাণ বিনষ্ট করার জন্য তলোয়ার দিয়ে কোপাতে শুরু করে। কিন্তু অপহরণ করে গুডসহিলে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটক করে রাখা সেই ৬ ব্যক্তির আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি। যা থেকে নিশ্চিত ধরে নেয়া যায় যে, তাদের সেখানেই হত্যা করা হয়েছে।  
**অভিযোগ-২**  
১৩ এপ্রিল এ সমস্ত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সকাল আনুমানিক সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে পাকিস্তান হানাদার দখলদার বাহিনীর একদল সদস্য গহিরা গ্রামে হিন্দু অধ্যুষিত পাড়ায় সশস্ত্র অভিযান চালায়। অভিযান চালিয়ে নিরীহ নিরস্ত্র হিন্দুদের ডাক্তার মাখন লাল শর্মার বাড়িতে জড়ো করা হয়। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর উপস্থিতিতে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর সদস্যরা ব্রাশফায়ার করে তাদের হত্যা করে। সেখানে যাদের গুলি করে হত্যা করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন, পঞ্চবালা শর্মা, সুনীল শর্মা, মতিলাল শর্মা, দুলাল শর্মা, আহতদের মধ্যে মাখন লাল শর্মা মাথায় গুলি বিদ্ধ হয়ে মারাত্মক জখম হয়ে ৩-৪ দিন পর মারা যান। জয়ন্ত কুমার শর্মা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে কয়েক বছর পর মারা যান।  
**অভিযোগ -৩**  
১৩ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরী পাকিস্তানী দখলদার সেনাবাহিনীকে নিয়ে ঘটনাস্থল গহিরা শ্রী কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ে আসেন। ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মালিক শ্রী নূতন চন্দ্র সিংহের সঙ্গে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর উপস্থিতিতে পাকিস্তানী সেনারা ৫-৭ মিনিট কথাবার্তা বলে চলে যায়। চলে যাওয়ার আনুমানিক ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী পুনরায় পাকিস্তানী সেনাদের নিয়ে কুণ্ডেশ্বরী ভবনে প্রবেশ করে। ঐ সময় শ্রী নূতন চন্দ্র সিংহ বাড়ির ভিতরে মন্দিরে প্রার্থনারত ছিলেন। আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তাকে মন্দিরের ভিতর থেকে টেনেহিঁচড়ে সামনে নিয়ে আসেন এবং উপস্থিত পাকিস্তানী সেনাদের উদ্দেশে বলে যে, একে হত্যা করার জন্য বাবার নির্দেশ আছে। অতঃপর নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যা করার জন্য আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী উপস্থিত পাকিস্তানী সেনা সদস্যদের নির্দেশ প্রদান করে। সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানী সেনারা কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের মালিক নূতন চন্দ্র সিংহকে ব্রাশফায়ার করে। গুলিবিদ্ধ নূতন চন্দ্র সিংহ মাটিতে পড়ে ছটফট করা অবস্থায় আসামি সাকা চৌধুরী নিজে তাঁকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। সশস্ত্র অভিযান শেষে বেলা আনুমানিক ১০টা সোয়া দশটার দিকে পাকিস্তানী সেনা সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।  
**অভিযোগ-৪**  
১৩ এপ্রিল ১৯৭১ সালে সকাল ১০.৩০ থেকে ১১.৩০ পর্যন্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী স্থানীয় সহযোগীদের সহ পাকিস্তানী দখলদার সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হিন্দু অধ্যুষিত জগৎমল্লপাড়ায় সশস্ত্র অভিযান চালায়। ঘটনার দিন সাকা চৌধুরীর দুই সহযোগী আব্দুল মাবুদ ও অপর একজন জগৎমল্লপাড়ায় সেখানকার হিন্দু নর নারীদের সবাইকে কথিত এক শান্তি মিটিংয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তাদের কথায় বিশ্বাস করে এলাকাবাসী সবাই কিরণ বিকাশ চৌধুরীর বাড়ির আঙিনায় একে একে জড়ো হতে থাকে। তখন তাদের একত্রিত করে বসানো হয়। অতঃপর সাকার উপস্থিতিতে তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এখানে গুলিতে ৩২ নারী-পুরুষ মারা যান ।  
**অভিযোগ-৫**  
একাত্তরের ১৩ এপ্রিল বেলা আনুমানিক একটার দিকে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী কতিপয় অনুসারীদের নিয়ে চট্টগ্রাম জেলার রাউজানের সুলতানপুর গ্রামে হামলা চালায়। সশস্ত্র অভিযান পরিচালনার পূর্বে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী তাদের অনুসারীদের মাধ্যমে সুলতানপুর গ্রামের বণিক পাড়ায় লোকজনদের নিকট পাকিস্তানী দখলদার বাহিনীর প্রশংসা করে কাউকে বাড়ি না ছাড়ার জন্য প্ররোচনা চালায়। স্থানীয় লোকজন পরিপূর্ণ আস্থা স্থাপন না করতে পেরে নারী-শিশুদের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেয়। সেনা সদস্যরা বণিকপাড়ায় প্রবেশ করে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হয়ে সশস্ত্র অভিযান চালিয়ে এলাকার নেপাল চন্দ্র ধর, মনীন্দ্র লাল ধর, উপেন্দ্র লাল ধর ও অনিল বরণ ধরকে একত্রিত করে গুলি করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড- শেষে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরী তাদের অনুসারী ও পাকিস্তানী সেনা সদস্যদের নিয়ে আনুমানিক আধঘণ্টার মধ্যে সুলতানপুর গ্রাম ত্যাগ করে।  
**অভিযোগ-৬**  
একাত্তরের ১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টা থেকে ৫টা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী হিন্দু জনগোষ্ঠীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার জন্য রাউজানের ঊনসত্তরপাড়ায় সশস্ত্র অভিযান চালায়। উক্ত পাড়ায় পাকিস্তানী সেনা ও তাদের দোসররা এলাকার হিন্দু নর-নারীদের স্থানীয় ক্ষিতীশ মহাজনের বাড়ির পেছনে পুকুর পাড়ে শান্তি মিটিংয়ের নামে একত্রিত করে। অতঃপর সাকা চৌধুরীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে পাকিস্তানী সেনারা নিরীহ নিরস্ত্র ও একত্রে বসানো হিন্দু নর-নারীদের ওপর ব্রাশফায়ার করে হত্যা করে। ৫০ জনের লাশ গ্রামবাসী শনাক্ত করে। বাকি ১৯/২০ জনের লাশ গ্রামবাসী শনাক্ত করতে পারেনি। কারণ তাঁরা ছিলেন বহিরাগত। পাকিস্তানী ও তাদের দোসরদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে ঊনসত্তরপাড়ায় আশ্রয় নিয়েছিল।  
**অভিযোগ-৭**  
১৪ এপ্রিল ১৯৭১ সাল। দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানী সেনাসদস্য রাউজান পৌরসভা এলাকায় সতীশ চন্দ্র পালিতের বাড়িতে প্রবেশ করে। সতীশ চন্দ্র পালিত ঐ সময় ঘরের ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে পাকিস্তানী সেনাদের সঙ্গে ইংরেজীতে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলে যে, তাকে মেরে ফেলতে হবে।’ এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সৈন্যরা সাত শ’ চন্দ্র পালিতকে ঘরের ভেতর যেতে বলে। তিনি পেছন ফিরে ঘরের ভেতর প্রবেশ করাকালে পাকিস্তানী সৈন্যরা তাকে গুলি করে হত্যা করে এবং তার লাশ কাঁথা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে তাতে পাউডার ছিটিয়ে আগুন দিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ সৈন্যরা সবাই একসঙ্গে চলে যায়।  
**অভিযোগ-৮**  
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১১টা। চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোজাফ্ফর আহম্মদ তার পুত্র শেখ আলমগীরসহ তার পরিবারের কতিপয় সদস্য প্রাইভেটকারযোগে চট্টগ্রামের রাউজান থেকে চট্টগ্রাম শহরে আসার পথে হাটহাজারী থানাধীন খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি তিন রাস্তার মোড়ে সকাল অনুমান ১১টার দিকে পৌঁছামাত্র আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর সঙ্গে থাকা পাকিস্তানী দখলদার সৈন্যরা তাদের প্রাইভেট গাড়িটি অবরোধ করে শেখ মোজাফ্ফর আহম্মেদ ও তাঁর ছেলে শেখ আলমগীরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে আটক করে স্থানীয় আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়।  
**অভিযোগ-৯**  
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে এপ্রিলের মাঝামাঝি দুটি বড় ট্রাকযোগে পাকিস্তান সেনাবাহিনী চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালীতে আসে। একখানা জীপে করে আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী একই সঙ্গে চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালী থানাধীন সিও অফিসস্থ রাজাকার ক্যাম্পে আসে। ঐ দুটি ট্রাক একই থানাধীন কদুরখিল গ্রামে যাওয়ার সময় মুন্সীর হাটের শান্তিদেব কে ধরে নিয়ে আসে। তাকে থানার উত্তর পাশে বানিক পাড়ায় গুলি করে হত্যা করে। অনতিদূরে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তখন ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন। শান্তির দেবের লাশ ঐ সময় কে বা কারা নিয়ে যায়। ঐ সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও রাজাকারের সদস্যরা বণিক পাড়ার রামবাবুর ঘরবাড়ি, কদুরখিল হিন্দুপাড়া লুটপাট করে।  
**১০ থেকে ২৩ নং অভিযোগ ১নং মন্তব্যে দেয়া হোল  
**

২০১০ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুদ্ধাপরাধের  মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয় ।
