# আগস্ট ষড়যন্ত্র : বার বারই টার্গেট শেখ হাসিনা

- Author: [মাহবুবুল আলম](https://sonelablog.com/author/mahbubulalam/)
- Published: 2019-08-03T05:21:19+00:00
- Updated: 2019-08-03T05:21:19+00:00
- Category: [সমসাময়িক](https://sonelablog.com/category/current_affairs/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%b7%e0%a7%9c%e0%a6%af%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%87-%e0%a6%9f/

---

মাহবুবুল আলম

শেখ হাসিনার সাহসী নেতৃত্ব ও কৌশলের কাছে বার বার পরাভূত হয়ে, জামায়াত, বিএনপি, ও তাদের মদদপুষ্ঠ জঙ্গিগোষ্ঠী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে তাঁকে হত্যার টার্গেট করে পরিকল্পনা করে যাচ্ছে। গোয়েন্দাদের তৎপরতা ও আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি হত্যার টার্গেট থেকে বেঁচে যান। শুধু হত্যা টর্গেটই নয়, এর সাথে সাথে যুক্ত হয়েছে হাসিনাবিরোধী নানাহ অপপ্রচার। সম্প্রতি শেখ হাসিনা ক্যান্সারে আক্রান্ত এমন একটি গুজবও ছড়িয়ে যেয়া হয়েছে।এ গুজন ছড়ানোর দায়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বেশ কয়জনকে গ্রেফতারও করেছে র‌্যাব।

দেশে অস্থিতিশীল ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে ইতোমধ্যেই গুজব রটিয়ে পদ্মাসেতুতে মাথা লাগবে, গণপিটুনিতে হতাহতের হিড়িক ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য আবার দেশ-বিদেশে ষড়যন্ত্রের জন্য সক্রিয় হয়েছে অশুভ চক্র। দেশে অস্থিরতা বাড়াতে, নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে ফের নাশকতার ছক কষছে জামায়াত, শিবির ও বিএনপির মধ্যকার স্বাধীনতাবিরোধী ও জঙ্গীরা। তাদের নাশকতার লক্ষ্যে কেপিআইসহ স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। তাদের টার্গেট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখিয়ে বিদেশী রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। এ সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা। রাজধানীর গুলিস্তান, মালিবাগে কর্তব্যরত পুলিশের ওপর হামলা, পল্টন ও খামারবাড়ি পুলিশ বক্সের সামনে বোমা রাখার ঘটনা ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এসব ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক (জঙ্গী সংগঠন) আইএস। আইএস মনোভাবাপন্নদের সঙ্গে দেশী জঙ্গীদের গোপন যোগাযোগের ইঙ্গিত বহন করছে। শোকের মাসে আবারও নাশকতার ছক কষে অন্ধকারের জঙ্গীরা সক্রিয় হচ্ছে। আর পর্দার আড়াল থেকে দেশী-বিদেশী অশুভ শক্তি কলকাঠি নাড়ছে।

৩টি গোয়েন্দা সংস্থা তাদের সম্মিলিত রিপোর্টে উল্লেখ করেছে যে, চারটি দেশ থেকে এই গুজবগুলো পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে ছড়ানো হচ্ছে। গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্য জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং সরকারকে অস্থস্তিকর অবস্থায় ফেলে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করা। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আজ এই রিপোর্ট লন্ডনে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে দেখা যাচ্ছে যে, পদ্মা সেতুতে মাথা লাগবে এরকম গুজবটি প্রথম ছড়ানো হয়েছিল দুবাই থেকে। উল্লেখ্য যে, দুবাইতে একটি টেলিভিশনের মালিক এবং বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সাবেক বিএনপি নেতা দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করছেন। দুর্নীতির দায় এড়ানোর জন্য তিনি দুবাই অবস্থান করছেন। তার তত্বাবধানে দুবাই থেকে বিএনপি নেতৃবৃন্দের অন্তত ১০০টি ফেসবুক খোলা হয়েছে, যেগুলোতে বাংলাদেশ এবং সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে নানা রকম কল্পিত মিথ্যাচার এবং গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশের পরিস্থিতি ঘোলাটে করা, সামাজিক অস্থিরতা তৈরী করা এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য গুজব স’ন্ত্রাস ছড়ানো হচ্ছে।

দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো, সরকারের লোকজনকে বিভ্রান্ত করা, তাঁদেরকে ব্যতিব্যস্ত রাখা যেন তাঁরা বন্যা, ডেঙ্গুর মত দুর্যোগগুলোর দিকে নজর দিতে না পারে। বরং তাঁরা যেন নানারকম গুজবের পিছনে ছোটে। গুজব সন্ত্রাসের তৃতীয় উদ্দেশ্য হলো যে, গুজব ছড়িয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা যেন সেখান থেকে স্বাধীনতা বিরোধী জামাত-বিএনপি ফায়দা লুটতে পারে। গোয়েন্দা তদন্তে দেখা যাচ্ছে যে, লন্ডন থেকে এই গুজব স’ন্ত্রাসগুলো পরিকল্পনা করা হচ্ছে। লন্ডনে একটি মিনি হাওয়া ভবন তৈরি করা হয়েছে লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার তত্বাবধানে। তারেক জিয়া এই গুজব সন্ত্রাস ছড়ানোর জন্য একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছেন যারা নানারকম গুজব ছড়াচ্ছে এবং এই গুজবগুলো বিভিন্ন দেশে বিএনপির এজেন্টদের মাধ্যমে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশাল মাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। এই গুজব সন্ত্রাসের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করা, জনগণকে অস্থির করে তোলা, তাদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে তোলা। ধারণা করা হচ্ছে, এরফলে সরকারের উপর জনগণের আস্থা কমে যাবে, জনগণ অসহিষ্ণু হয়ে উঠবে এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে যাবে।

আগস্ট মাসেই বার বার সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে জঙ্গীগোষ্ঠী। এই শোকের মাসে ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ড, খুনী চক্র, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে ১৭ আগস্টে দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলের নেতা থাকাকালে তাকে হত্যার চেষ্টায় ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, ’১৭ সালে ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে ১৫ আগস্টের শোক দিবসে জঙ্গী হামলা চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আগের দিন পান্থপথে আত্মঘাতী হয় জঙ্গী সাইফুল ইসলাম। আগস্ট এলেই জঙ্গীরা বার বার সক্রিয় হয়ে ওঠে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেয়া গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জঙ্গীরা বারবার আগস্টকেই টার্গেট করছে। শোকের মাস আগস্টে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে নাশকতা ও নৈরাজ্যের ছককষে তৎপরতা শুরু করেছে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, জামায়াত-শিবির চক্র ও জঙ্গীরা। নেপথ্যে তাদের মদদ দিচ্ছে বিএনপির উগ্রপন্থীরা যাদের বিদেশী অশুভ শক্তির সঙ্গে গোপন যোগাযোগ আছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে তাদের এ তৎপরতায় ইন্ধন যোগাচ্ছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটসহ উগ্র মৌলবাদী ধর্মান্ধ দল ও বিভিন্ন জঙ্গীগোষ্ঠী। ’১৭ সালের ১৫ আগস্টে ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য ও শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে জঙ্গী হামলার চেষ্টা করে পান্থপথের এক হোটেলে আত্মঘাতী হয় জঙ্গী সাইফুল। রাজধানীর পান্থপথে নব্য জেএমবির আত্মঘাতী জঙ্গী সাইফুলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মহত্যার আগে ৩২ নম্বর ও শোক র‌্যালিতে জঙ্গী হামলার ছক কষেছিল। কিন্তু পুলিশী অভিযানের মুখে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয় সাইফুল।

আগস্ট শোক ও বেদনাবিধূর মাস হওয়ায় নানা কর্মসূচী পালন করে আওয়ামী লীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। এই সুযোগটা নিতে পারে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, বিশেষ করে জামায়াত-শিবির যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গীরা। তাদের সহায়তা করতে পারে বিএনপিতে ঘাপটি মেরে থাকা পাকিস্তানপন্থী উগ্র মৌলবাদী ধর্মান্ধ চক্র ও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই স্বাধীনতাযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে ইতোপূর্বেই স্বাধীনতার পক্ষশক্তি ধ্বংসে বারবার ষড়যন্ত্রের নীলনক্সা করছে, যা বাস্তবায়নের চেষ্টা এখনো করে যাচ্ছে।

এই আগস্টেই সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘাতকরা। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে দেশে ভয়াবহ জঙ্গীবাদের উত্থান ঘটে। দেশব্যাপী একের পর হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে। অন্ধকারের এই অপশক্তি এরমধ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় আওয়ামী লীগ সভাপতি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতে গ্রেনেড হামলা চালায়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেই ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় (মুন্সীগঞ্জ বাদে) যুগপৎ বোমা হামলা চালায় নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জেএমবি।

শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বার বার টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে তার ওপর আক্রমন চালানো হয়েছে। যা এখনো অব্যাহত আছে। এ পর্যন্ত ১৯বার শেখ হাসিনা তার বিরোধীদের প্রতিহিংসার কোপানলে পড়তে হয়। ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দায়িত্ব নিয়ে জেলা সফরে গেলে নানা ভাবে শেখ হাসিনার ওপর আক্রমন করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে বেনিফিসিয়ারী দল ও গোষ্ঠীই তখন তাঁর ওপর আঘাত করে। এর পর তাঁর জীবনের উপর হামলা হয় বেশ কয়েকবার। তাঁর ওপর সবচে প্রথম হামলাটি হয় ১৯৮৮ সালে স্বৈরাচারী এরশাদের আমলে। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনমত গঠন ও অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন  ও গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দানে ২৪ জানুয়ারি ৮ দলের জনসমাবেশ সফল করার সর্বাত্মক প্রস্তুতিতে বাঁধা সৃষ্টি করে পুলিশ। সে দিন শেখ হাসিনা সভাস্থলে প্রবেশ করার মূহুর্তে আদালত ভবনের নিচে বিনা উস্কানিতে পুলিশ গুলি চালিয়ে নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করা হয়। জনসভা পন্ড করার উদ্দেশ্যে এক নৃশংস গণহত্যা চালায়। সেদিন এরশাদের পুলিশ এলাপাথাড়ি গুলি বর্ষণ করে এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রায় ২০টি স্থানে একশত রাউন্ড গুলি ও কয়েকশত রাউন্ড টিয়ার গ্যাস সেল নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে চায়। এতে পুলিশের গুলিতে তাৎক্ষণিক ভাবে সীতাকুন্ডু ছাত্রলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন শামীম, আওয়ামী লীগের সাজ্জাদ হোসেন, বিকে দাস, সবুজ হোসেন, কামাল হোসেন, পলাশ সমর দত্ত, কাশেম, হোটেল শ্রমিক লীগের জিকে চৌধুরী, সিপিবির রমেশ বৈদ্য, ছাত্র ইউনিয়নের বদরুল, মান্নান ১৬ জন নিহত এবং শতাধিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত ৫৪ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে আরো ২৭ জন, সব মিলিয়ে পুলিশের গুলিতে মোট ৩৮ জন নিরপরাধ মানুষ নিহত হয় বলে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার খবরে সংবাদ পরিবেশিত হয়। ১৯৮৯ সালের ১০ আগষ্ট রাত সাড়ে বারটায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু বাসভবন ও তার আশেপাশে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বা ভয় দেখানোর জন্য কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও একটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ পাল্টা ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা একটি স্কুটার যোগে পালিয়ে যায়। একই বৎসর ৩০ নভেম্বর ঢাকা মহানগরীর বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এক সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসাবে শেখ হাসিনার উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেখ হাসিনা জনসমাবেশে পৌঁছার আগেই উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন বোমা বিস্ফোরণে আওয়ামী লীগের একজন কর্মী নিহত ও ৫০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। এ হামলাও শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য চালানো হয়েছিল। কিন্তু সমাবেশে পোঁছতে দেরি হওয়াতে ভাগ্যক্রমে এই বোমা হামলা থেকে শেখ হাসিনা বেঁচে যান। এরপর ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরীর একটি আসনে উপনির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলাকালে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়া হয়; কিন্তু সেখানেও শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। সেদিন ভোট কেন্দ্রের সামনে গাড়ি থেকে নামার পর সরকারী দেহরক্ষী ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাঁকে ঘিরে বুতের দিকে এগুতে থাকলে হঠাৎ করেই কাঁঠাল বাগানের দিক থেকে একটি স্কুটারে করে ওয়াহিদুর রহমানের নেত্রীত্বে তিনজনের একটি সন্ত্রাসী দল গুলি করতে করতে এগিয়ে আসে। শেখ হাসিনাকে রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ কর্মী রাজা ও জুলহাস ঝাপিয়ে পড়ে নিজেরা গুলিবিদ্ধ হন। এরপর আবারো শেখহাসিনার ওপর হামলা হয় খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামলে। শেখ হাসিনা ট্রেন মার্চে উত্তরাঞ্চলে গেলে ঈর্শর্দী পৌঁছলে সেখানে শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সম্প্রতি এ মামলার রায়ে কয়েকজনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে।

সকল রাজনৈতিক নগ্নতা ও নানামুখী ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এলে তাঁর নির্বাচনী এলাকা কোটালীপাড়ায় জনসমাবেশ স্থলে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পঞ্চাশ কেজি ওজনের বোমা পুতে রেখে তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বোমা হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনার নেত্রীত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে অস্থিতিশীল করে তোলার পায়তারা করে। এই জন্য বিএনপির  পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল  সেবারও তিনি  অলৌকিক এক হাতের ইশারায় প্রাণে বেঁচে যান। শেখ হাসিনার জনসভার একদিন আগেই দূরনিয়ন্ত্রিত এ বোমাটি উদ্ধার করা হয়েছিল।

আগস্টকেই কেন বার বার টার্গেট করে জামায়াত, বিএনপি ও জঙ্গিরা? এর মূলকারণ বেরিয়ে আসবে ১৯৭৫ সালে সপরিবারে বারে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার কারণ খতিয়ে দেখলেই। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই পাকিস্তানের জন্মমাস আগস্টকে বেছে নেয়া হয় চিহ্নিত গোষ্ঠীটি। ১৫ আগস্ট ৭৫ সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপি সিরিজ বোমা হামলা, ’১৭ সালের ১৫ আগস্টে ৩২ নম্বর ধানমন্ডিতে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য ও শ্রদ্ধা নিবেদনের সময়ে জঙ্গী হামলার চেষ্টার পরিকল্পনাগুলো খতিয়ে দেখলেই বুঝতে কারো আসুবিধা হওয়ার কথা নয়, কেন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগবিরোধী চক্র আগস্ট মাসকে তাদের নাশকতার পরিকল্পনায় বেছে নেয়। তাই ২০১৯ সালের আগস্ট মাসও এর বাইরে নয়, কেননা, শেখ হাসিনাকে সরাতে না পারলে কোনদিনই যে পাকিপন্থীদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে না তা তারা বেশ বুঝে গেছে। তাই এবারও দেশের চারটি গোয়েন্দা সংস্থা এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে।

 

---

Comments: 7 — https://sonelablog.com/%e0%a6%86%e0%a6%97%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%b7%e0%a7%9c%e0%a6%af%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%87-%e0%a6%9f/#comments
