# অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ

- Author: [নীরা সাদীয়া](https://sonelablog.com/author/neera-sadeea/)
- Published: 2018-06-28T11:06:47+00:00
- Updated: 2018-06-28T11:08:47+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/), [গল্প](https://sonelablog.com/category/literacy/story/), [সাহিত্য](https://sonelablog.com/category/literacy/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c-%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c/

---

মিতা ঘুম থেকে উঠে চোখ ডলে আবার বালিশে মুখ গুঁজে শুয়ে পরলো। কদিন যাবত চোখ ভর্তি ঘুম যেন ছাড়ছেই নাহ। এরই মাঝে মা এসে দুটো ধমক লাগালেন, “মিতা….. এই মিতা, ওঠ। তোর বাবা দুদিন আগে যে বায়োডাটাগুলো দিয়েছেন,সেগুলো টেবিলে জমিয়ে রেখেছিস কেন? এগুলো দেখে এবার মতামত দে।তোর বাবা তো আমাকে জিজ্ঞেস করে করে পাগল করে দিচ্ছে। ওহ, আমি আর পারি না।”

 

মিতা হুরমুর করে উঠে বসলো। চোখ থেকে ঘুম চলে গেলো। দ্রুত উঠে হাতমুখ ধুয়ে নিজ টেবিলে এসে বসলো। এই “বিয়ের প্রস্তাব” নামক শব্দ দুটি ওর মাথা চিবিয়ে খাচ্ছে! কী দরকার বিয়ে করার তা সে ভেবে পায় না। হাতের বামপাশে রয়েছে একটি কাগজের স্তূপ,তাতে জমে রয়েছে একগাদা বিবরন,পাত্রের বিবরন। এবার একটা একটা করে সেগুলো দেখে নিতে হবে। প্রথমে প্রথমটা, না দ্বিতীয়টা, নাহ….. তৃতীয়টা তুলে নিলো। তিন সংখ্যাটা মিতার খুব পছন্দ,তাই। বায়োডাটা পড়ে দেখলো, ছেলে একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরী করে, ছেলের আরো দুজন বোন রয়েছে।একজন বড়,অন্যজন ছোট। এটা হাতে নিয়েই মিতা ভাবনার রাজ্যে হারিয়ে গেল।

 

বেশ ভালোইতো, বোনদুটির সাথে গল্প করে, লুডো খেলে আর শপিং করে কেটে যাবে বেলা। কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে গেল, বান্ধবী ইতুর বিবাহিত জীবনের অভিজ্ঞতার কথা!বাবারে! “বড় একটা বোন, ছোট একটা বোন। বড়জন এর যদিও বিয়ে হয়ে যাবে,তবুও কিছুদিন পর পর বাবার বাড়ি আসবে,আর ভাই বৌকে হুকুম জাড়ি করবে।বলবে, আমার মার কষ্ট হচ্ছে, তুমি সংসারের সব কাজ একা করো।মাকে কোন কাজ করতে যেন না দেখি। মাকেই যদি সব করতে হবে তাহলে তোমাকে এনেছেন কেন?” এরপর আবার আছে ননদ। “বৌকে একটা শাড়ি কিনে দিলে বোনকে দিতে হবে দশটা। তারপরো বৌয়ের জন্য পছন্দ করে যেটা আনবে, বোন সেটাই চেয়ে বসবে। বৌ হয়ে শশুড়বাড়িতে জন্মেছো তো মুখতো বন্ধ রাখতেই হবে, নইলে বলবে, ছোট মন! বৌ হতে হলে আবার ইয়া বড় মন থাকতে হবে। নিজের পছন্দের কিছুই থাকতে পারবে না, সবাইকে সব বিলিয়ে দিতে হবে, আর সারাদিন মুখবন্ধ করে সব কাজ করে যেতে হবে।”

 

না বাবা, থাক এটা! এই ভেবে মিতা লটারীর মত করে আরেকটা বায়ো তুলে নিল। এটাতে আবার পাত্র একজন ব্যাংকার পাত্রের দুটি ভাই। দুজনেই বড় এবং পাত্র সবার ছোট। মিতা আবার ভাবতে শুরু করলো,

 

এটা বেশ। যাদের কোন মেয়ে নেই, তারা একটা মেয়ে পেলে প্রচুর আদর করবে। পরক্ষনেই আবার ভাবলো, তা কি করে হয়?জিনিয়ার কথা মনে পড়লো। পাত্রের বড় দুই ভাই নিশ্চই বিয়ে করে বউ নিয়ে এসেছেন। সুতরাং মেয়ের অভাব তাদের পূরণ হয়ে গেছে। এখন ছোট বউ হয়ে গেলে কি আর হবে? বড় দুই বৌ সারাক্ষণ মাথার ওপর ছড়ি ঘোরাবে! থাক, এটাও বাদ।

 

এরপর পেল আরেকটা। স্তূপের ভেতর থেকে এটার একটু কোণা বের হয়ে ছিলো। সেটাই টেনে বের করলো। এটাতে দেখা গেলো, ছেলে একজন প্রভাষক। তারা একভাই, একবোন। বোনটার বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে। এটা নিশ্চই ভালো হবে। তারপরেই মনে পড়লো বান্ধবী কোনালের অভিজ্ঞতার কথা। সারাদিন অফিস শেষে কোনাল ও তার বর বাড়ি ফেরে। রাতের খাবার খেয়ে দুজনেই নিজ নিজ প্লেট ধুয়ে টেবিল গুছিয়ে রাখতে গেলো, তাই দেখে শাশুড়ি বলে উঠলো, “আমার একটা মাত্র ছেলে। তার যদি খাবার পর নিজের বাসন নিজেকেই ধুতে হয়, তাহলে তুমি আছো কি করতে?” এক মায়ের এক ছেলে হলে বুঝি এমনটাই হয়?

 

মনে পড়লো, সেদিন দীনা বলছিলো, “বাড়ির সকল কাজ করার সময় সবাই বলবে, এটা তোমার সংসার, তোমাকে দায়িত্ব নিয়ে সামলাতে হবে। আবার কোন অধিকার খাটিয়ে বাড়ির ব্যপারে সিদ্ধান্ত নিতে গেলে বা নিজের কোন অতিথিকে শশুড়বাড়িতে রাখতে গেলে তখন জনে জনে সবার অনুমতি নিতে হবে। এমনকি অনুমতি ছাড়া বাবার বাড়িতেও যাওয়া যাবে না।যাবার পর বাবার বাড়িতে কদিন থাকবো, তাও তারাই ঠিক করে দেবে।নিজের স্বামীর দেয়া টাকায় নিজের হার্টের চিকিৎসা করাতে গেলেও শশুড়বাড়িতে পই পই করে টাকার হিসেব দিতে হবে। তারা যদি দয়া করে চিকিৎসার অনুমতি দেয় তাহলে চিকিৎসা হবে, নয়ত সমাধি রচনা করে তাদের ছেলের ঘাড় থেকে নামতে হবে।বৌকে হতে হবে সুপার ওমেন, রোগী হলে চলবে না।এসব যখন ঘটে, তখন নিজেকে মনে হয় উদ্বাস্তু কিংবা ক্রীতদাসী! ”

 

“আচ্ছা, বৌ যত শিক্ষিত, গৃহকর্মে নিপুণা, কর্মজীবী যাই হোক না কেন,শশুড়বাড়িতে তার স্থানটা কি ছেলের সহধর্মিণী নাকী ঘুটে কুরোনী?তার নিজের কাজ কেউ করে দেবেনা, কিন্তু তাকে সবার কাজ করে দিতে হবে! সবাই হাত পা গুটিয়ে আয়েশ করার জন্যই কি বাড়িতে বৌ আনে? কী আজব এ সমাজ, আজব এ রীতি। আবার এসব মেনে নিতে না পারলেই, মেয়েটির মন ছোট, কিচ্ছু শেখেনি, বেয়াদব! এই তাহলে বিবাহিত জীবন? কিসের টানে কিসের প্রয়োজনে তাহলে একটা মেয়ে নিজের বাবা মাকে ছেড়ে অন্যের বাড়ির গৃহকর্মী হতে যাবে?”

রুশার এই কথাগুলো এতক্ষণ মিতার দুকানে ইয়ার ফোনের মত বাজছিলো!

 

অবশেষে মিতা টেবিলের ওপর গৃহকর্মী হবার সকল প্রস্তাব, উদ্বাস্তু হবার সকল দলিলপত্র ছুঁড়ে ফেলে দিলো। আর ভাবতে লাগলো, “এ পৃথিবী আমার নয়, আমাকে এক্ষুনি এখান থেকে পালাতে হবে।”

 

কিন্তু পালাবে কোথায়?

---

Comments: 19 — https://sonelablog.com/%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c-%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%9c/#comments
