# অসহায়দের উপর মিথ্যে মামলা ও পরিণাম।

- Author: [রিতু জাহান](https://sonelablog.com/author/mounata/)
- Published: 2019-01-30T13:34:53+00:00
- Updated: 2019-02-02T14:10:47+00:00
- Category: [একান্ত অনুভূতি](https://sonelablog.com/category/misc/personal/)
- URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2/

---

আইনের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে যেমন বড় বড় রুইকাতলা বের হয়ে যায় তেমনি আইনের জালে অনেক সময় বেকসুর লোকও আটকা পড়ে। আমরা সাধারণ মানুষ আইন আদালতের কথা শুনলেই আৎকে উঠি। উঠারই কথা। কারণ, শরীরে একটা রোগ হলে তা হয়তো সেরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বা শরীরের কোনো অঙ্গ পঁচে গেলে তা কেটেও হয়তো বেঁচে থাকা যায়। আর না সারলেও ভোগে শুধুমাত্র রুগি। কিন্তু আইনের জালে আটকা পড়লে সেখান থেকে বের হওয়া মুশকিল। আর এতে ভোগে পুরো একটা পরিবার। রোগে ভুগতে থাকলে মানুষের সহানুভূতি পাওয়া যায় কিন্তু কোনো সঠিক কারনে বা বিনা কারনে আইনের আওতায় আসলে সে ব্যাক্তি ও তার পরিবার পুরো সমাজের চোখে একপ্রকার অচ্ছ্যুতই হয়ে যায়।

একটা ঘটনা দিয়ে আলোচনাটা শুরু করা যেতে পারে।

পাবনার এক বাসায় আমি ভাড়া থাকতাম। আমি মানে তিনি থাকতেন। আমি মাঝে মাঝে যেতাম। দুইতলার একটা ফ্ল্যাট বাসা। দোতলায় বাড়ির মালিক বৌদির সাথে আমার বেশ ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। খু্বই সংসারী এক পরিপাটি নারী যাকে বলা চলে। স্বামী, দুই মেয়ে, শাশুড়ী ও দেবর নিয়ে পরিপূর্ণ এক সংসার তার। এতোবড় সংসারে কাজের সহকারী ছাড়া নিজে পুরো সংসার সামলাতে গিয়ে বাইরের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হওয়া একটু কষ্টসাধ্যই বটে। তাও যদি বাচ্চারা ছোটোছোটো হয়।

 

তার দেবরের সাথে পাশেরই এক মেয়ের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একরকম নিন্মশ্রেণীরই বলা চলে। আমি কিন্তু অর্থনৈতিক দিক থেকে হিসেব করে বলি নাই। বলেছি তাদের পারিবারিক আচার আচরনের কারনে। সহজ ভাষায় উচ্ছুন্যে টাইপ। একদিন ঐ মেয়ে তার দেবরের রুমে এসে ডেটিং করার সময় বৌদি তা দেখে ফেলে এবং বৌদি একরকম মেয়েটিকে ধমক দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

সবথেকে বড় কথা বৌদি একদম উচ্চস্বরে কথা বলেনি। শুধুমাত্র একটা ধমক দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। কারণ, মানসন্মান ও লোক জানাজানি হওয়ার ভয়ে। আমি তখন সেখানে উপস্থিত ছিলাম। মেয়েটিও কম যায় না! সে পরের দিন তার মায়ের সাথে থানায় গিয়ে মামলা করে। আর নারী সংক্রান্ত এমন সব মামলা মিথ্যা কি সত্য তা যাচাই করার আগেই নিতে হয়। আর এ আইনটি হলো এমন যে কোনো প্রকার স্বাক্ষীর দরকার হয় না। সে ভিকটিম অর্থাৎ মেয়ের অভিযোগই যথেষ্ট। আর মেয়েটি শারাীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কারনে মেডিকেল রিপোর্টও ওদের পক্ষে চলে আসে।

যাইহোক মামলা হলো মানে এখন কার্যকর এর পালা। যথারীতি পুলিশ এসে বৌদিসহ তার দেবরকে এ্যারেস্ট করে নিয়ে গেলো। আমি আবার ঘটনার পরের দিনই চলে আসি শশুরবাড়িতে। আসলে তখন আমি শশুরবাড়িতেই থাকতাম। তাই মামলা করা ও এ্যারেস্ট করার সময় আমি ওখানে ছিলাম না। নতুবা এ কাজটা হয়তো সহজ হতো না। অন্তত বৌদির মতো মানুষকে এ্যারেস্ট করাটা ও তার বিরুদ্ধে মামলাটা নেয়া।

যাইহোক মামলাটা এরকম ছিলো যে, মেয়েটি বাসার সামনে দিয়ে যাচ্ছিলো আর বৌদি তার চুলের মুঠি ধরে মুখ চিপে জোর করে তার দেবরের ঘরে নিয়ে আসে। আর তার দেবরের হাতে সে নির্যাতিত হয়!! যা একেবারেই বানোয়াট। সত্যি, আমি যদি সেখানে উপস্থিত না থাকতাম তবে হয়তো আমিও তাদের ফাঁসি চাইতাম।

আর মামলাটা তথ্যপ্রযুক্তির আইনেও চলে আসে। কারণ, মেয়েটির মোবাইলে ও ছেলেটির মোবাইলে তারা তাদের প্রেমের ভিডিও আপলোড করে। যা তাদের উভয়ের ইচ্ছাতেই হয়েছিলো। মেয়েটি তাই মামলাতে উল্লেখ করে। যথারীতি ছেলেটির মোবাইলে ওসব একান্ত ছবিগুলো পেয়ে যায়।

মামলাটি তাই আরো পাকাপোক্ত হয়।

এ মামলাটিতে কিছুতেই বৌদির জামিন হচ্ছিলো না। তার দেড় বছরের দুধের বাচ্চাটির যে কি অবস্থা তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি বাচ্চাটির কান্না দেখে হু হু করে কেঁদেছি। আশেপাশের মানুষ কেঁদেছে। আর ওর মায়ের জেলখানায় কি অবস্থা তা আসলে মা হিসেবে বুঝতে পারি কিছুটা।

 

এবার আসি জেলখানায় এরকম নীরিহ ঘরের ভদ্র মেয়ে বা মহিলারা কীভাবে থাকতে পারে। জেলখানার পরিবেশ কেমন মোটামুটি তা আমরা সকলেই জানি। ছোটো একটা রুম। সেখানে শোয়ার সামান্যতম ব্যাবস্থা নেই। একজন মানুষ কোনোরকম যদিও শুতে পারে পাশ ফেরার উপায় নেই। বালিশ তো নেই। বাথরুমে একজন গেলে কোনোরকম বাথরুম সারার আগেই লাইনে দাঁড়ানো মানুষগুলো চিল্লাতে থাকে। কেনার পর থেকে গায়ে দেয়া কম্বলগুলো কখনোও ধোয়া হয়েছে কিনা তা সন্দেহ। সে এক দুর্বিসহ দিনই বলা চলে।

জেলখানায় শুধু খারাপ মানুষই থাকে না অনেক ভালো মানুষও যায়।

প্রায় চার মাস জেলে থাকার পর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে বৌদির জামিন হলো।

একপর্যায়ে কোর্টে মেয়ে পক্ষের সাথে একরকম মিটমাট হওয়ার পরে সে মামলা থেকে বৌদি রক্ষা পায়। তবে তার তিল তিল করে গড়ে তোলা বেশকিছু গয়না টাকা পয়সা জমি শেষ হয়ে যায়। আজকের তার এই ভালো অবস্থানে আসার পিছনে যথেস্ট পরিশ্রম ও ত্যাগ করতে হয়েছে।

কিন্তু পরিশ্রম করে হয়তো সে সব সম্পদ আবারো ফিরে পাবে৷ কিন্তু মানসম্মান? তা কি করে ফিরে পাবে? অবশেষে চির অভিমানে তারা তাদের বাকি সম্পত্তি বিক্রি করে এদেশ ছেড়ে চলে যায় ইন্ডিয়া।

কিন্তু এটা কি সমাধান হলো? যে দেশে যার জন্ম, যে দেশে বেড়ে ওঠা সব ছেড়ে ছুড়ে চলে যেতে হলো অন্য একটি দেশে। সে দেশেও কি পারবে সে সহজে সবকিছু মেনে নিতে মানিয়ে নিতে? পারবে না। ইন্ডিয়ার মতো দেশে বাংলাদেশিদের সেরকম হয়তো ভারো কিছ করার মতো থাকে না। কারণ, জন্মভূমি মানেই জন্মভূমি।

আমরা অনেক সময় দেখি প্রাপ্ত বয়ষ্ক একজন নারী বা কোনো দুই সন্তানের মা যখন কোথাও থেকে প্রতারিত হয় সে একটা মামলা ঠুকে দেয় যে তাকে ফুসলিয়ে ওমুক যায়গা নিয়ে গিয়ে এতোদিন ধরে পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। আসলে কি বিষয়টা তাই? মোটেও না। ফুসলিয়ে কথাটির মধ্যেই তো মিথ্যা লুকানো আছে। হ্যাঁ দিতে পারে প্রতারণার মামলা। কিন্তু প্রতারণা আসলে কিসের? যে মহিলা স্বামী সন্তানকে ছেড়ে অন্য একটি লোকের সাথে চলে গেলো সে কি করে প্রতারণার মামলা করতে পারে!

একজন মানুষ বিনা বিচারে দিনের পর দিন জেল খেটে বের হয়ে এসে সে কি পারে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে?

আর উচ্চ আদালতে যদি একটি মানুষের সে অপরাধ যদি সত্যিই প্রামণিত না হয় তবে কেনো নিন্ম আদালত ও সে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কোনো কৈফিয়ত চাওয়া হয় না?

তবে হ্যাঁ, এক্ষেত্রে অনেকেই প্রচুর টাকা পয়সা খরচ করে উচ্চ আদালতে পার পেয়ে যায়। এর আরো একটা কারণ, আছে আর তা হলো ততোদিনে স্বাক্ষী পাওযার ব্যাপারটা। মামলার আলামত সঠিকভাবে সুরক্ষিত থাকার ব্যাপারটাও এখানে একটা বড় কারণ।

আমরা সাধারণ নাগরিক হিসেবে চাই সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ হোক। হোক আইনের সঠিক ব্যাবহার।

সকলকে শুভকামনা।

রিতু

কুড়িগ্রাম।

 

---

Comments: 13 — https://sonelablog.com/%e0%a6%85%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%a5%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2/#comments
