# অলমোস্ট লাইক দ্য ব্লুজ

Author: নাজমুস সাকিব রহমান
Published: 2021-07-17
Category: কবিতা
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%85%e0%a6%b2%e0%a6%ae%e0%a7%8b%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a7%81%e0%a6%9c/

![Almost like the blues Font | dafont.com](https://www.dafont.com/img/illustration/a/l/almost_like_the_blues.png)

> ভূমিকা : আমার প্রথম বইয়ের নাম ***‘রাউলা’*** (২০২০)। ছোট্ট একটা কবিতার বই। রকমারিতে পাওয়া যায়। সেই বইয়ের পাঁচটি কবিতা এখানে আছে। এগুলো মূলত মিউজিক্যাল। আমি সিরিজটির নাম দিয়েছি ***‘অলমোস্ট লাইক দ্য ব্লুজ’***। পরেও অবশ্য বেশ কিছু মিউজিক্যাল লেখা হয়েছে। সিরিজটি নিয়ে আমার কিছু পরিকল্পনাও রয়েছে। জানি না, কবে সেগুলো বাস্তবে রূপ পাবে।

**১. ব্লুজ**

দুপুরবেলায় গান শোনা নফল। গান  
শুনি―  
মার্ক নফলার কিংবা এরিক ক্ল্যাপটনের  
পুরোনো কোনো অ্যালবাম বের করে  
ব্লুজের দিকে ঝুঁকে পড়ি।  
যেন হারিয়ে যাওয়া দিন। সন্ধ্যার  
আগে-আগে গার্লস স্কুলের আশেপাশে  
থাকতে চাওয়া।  
আমপাতার আধাঁর সবুজ ঘিরে হেলে  
থাকা পাহাড়। একটা হট ডগ, কোকের  
ক্যান, আর মার্লবোরোর না খোলা নতুন  
প্যাকেট।

**২.** **হোম সার্ভিস**

> ‘Tune ishq ka naam suna hai—  
> hamne ishq kiya hai’
> 
> **—*Anand Bakshi***

কিশোর কুমার মূলত একটা হাওয়াই শার্ট—  
তারে যে কোনো সময় পরা যায়। তারে পরলেই  
শচীনকর্তার ডিরেকশন, লতা মুঙ্গেশকরের দিদি  
হয়ে বউ-সাপোর্ট। তারে পরলেই বনবাতাসি গুলজার;  
পিছুপিছু পঞ্চম আর … আমি।  
জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি তোলার আগে  
এতসব না-ভেবে, একটা হাওয়াই শার্ট নিতে গিয়ে  
কিশোর কুমারকে কিনে ফেলেছিলাম।  
তারপর থেকে শার্টটাকে লন্ড্রিতে দিতে পারি না —  
ফ্যান হিসাবে আমাকেই একা-একা  
কিশোর কুমার  
ধুতে হয়।

**৩.** **পিংক ফ্লয়েড**

> ‘We’re just two lost souls  
> Swimming in a fish bowl,  
> Year after year’
> 
> **—*Pink Floyd***

হুট করে কিচিরমিচির শব্দ শোনা গেল।  
বাধাগ্রস্ত হলো বিবাহিত পুরুষের হাঁটার  
গতি। আকাশে তাকিয়ে দেখা গেল  
কোনো গাছে পাখি নেই। তবু কিচির-  
মিচির শব্দে পৃথিবী আক্রান্ত। পাশেই এক  
কোচিং সেন্টারের ছুটি। কয়েকজন  
কিশোরী বেরিয়ে আসে মুহূর্তে। এর  
ফাঁকে জেনে গেছে অবিবাহিত একজন।  
কয়েকটি মেয়ে এক হলে কিচিরমিচির  
শব্দ হয়।

**৪. সেলসম্যান**

> ‘ও চাঁদ সামলে রেখো জোছনাকে  
> কারো নজর লাগতে পারে’
> 
> **—*পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়***

চাঁদ উঠলে মান্না দের আমাকে মনে পড়ে। তার  
একটা গান আমি তিন লাইন গাইতে পারি। মান্না দে  
আমাকে তিন লাইনের সুযোগ দিয়েছেন; এতে আমি  
কৃতজ্ঞ থাকি। তিনি আধুনিক গানের রকস্টার। ওই  
তিন লাইনই তার ফাঁকি। আমি মেয়ে হলে তার কপালে  
কাজলের কালো টিপ লাগিয়ে দিতাম। কিন্তু  
আমি তো মেয়ে না, ছেলে হয়ে জন্মেছি। আমি  
তাকে বলে ফেলেছি―এই যে রকস্টার, আপনি  
ছেলেদের এতো টিজ করেন কেন? এই জন্মে তো  
কফিহাউজের সেলসম্যানের কাজ করছেন, আগের  
জন্মে গে ছিলেন নাকি?

**৫. ক্র্যাক**

> There is no God in Heaven  
> And there is no Hell below  
> So says the great professor  
> Of all there is to know  
> But I’ve had the invitation  
> That a sinner can’t refuse  
> And it’s almost like salvation  
> It’s almost like the blues  
> *—**Leonard Cohen***

সে বলল, লিওনার্দ কোহেন মারা গেছে।  
আমি বললাম, লিওনার্দ কোহেন! কে উনি?  
কোনো উত্তর এলো না।  
সে তার গান ছাড়ল। কিছুক্ষণ কাঁদল।  
আমি তাকে সান্ত্বনা দিলাম।  
অথচ সান্ত্বনাটা আমারই বেশি  
প্রয়োজন ছিল।  
তার কাছে লিওনার্দ কোহেন মাত্র মরেছে,  
আর আমার জন্যে তিনি মাত্র জন্ম নিলেন।  
প্রাচীন দালানের মতো গায়কী তার।
