# অবদমন নয়, পারস্পারিক সহযোগিতাই সুন্দর দাম্পত্যের চাবিকাঠি!

Author: মারজানা ফেরদৌস রুবা
Published: 2016-02-02
Category: একান্ত অনুভূতি
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a6%a6%e0%a6%ae%e0%a6%a8-%e0%a6%a8%e0%a7%9f-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%b9%e0%a6%af%e0%a7%8b/

[![received\_10206882356390056](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/02/received_10206882356390056-300x210.jpeg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/02/received_10206882356390056.jpeg)

মেয়েরা নিজেদের সৃজনশীল বিকাশে কতোটা অবদমিত থাকে শুধুমাত্র সংসারকে টিকিয়ে রাখার জন্য, বাস্তব জীবনে খুব খুব কাছে থেকে একজন মানুষকে না দেখলে নিজেও অনুভব করতে পারতাম না।

আমি যখন তাঁর সাথে পরিচিত হই, তখন সে নিতান্তই একজন সাধারন হাউজ ওয়াইফ। দুটো সন্তান মানুষ করা আর সংসার যাপনই তাঁর মূখ্য কাজ। বাসায় শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় পরিজনকে আদর-আপ্যায়নে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখতাম। পরিচয় পর্বেই জেনেছিলাম, আগে জব করলেও বাচ্চাদের প্রয়োজনে ছেড়ে দিয়েছে।

জানি না আমি মানুষটা কেমন! ছাত্রজীবন থেকেই কোন না কোন কাজে নিজেকে জড়িয়ে রাখতে পছন্দ করতাম। অযথা আড্ডা/গসিপ আমাকে টানতো না। সে সময় খুব সেলাই/ডিজাইনিং এগুলোর নেশা ছিলো। পড়াশুনা যখন প্রায় শেষের পথে, ঢুকে পড়লাম এক কোচিং সেন্টারে পড়াতে। এরপর চাকুরী। যাহোক, ধান ভানতে শীবের গীত গেয়ে লাভ নেই।

২০০৩ এ যখন বাড়ি পরিবর্তন করে আমি নতুন বাড়িতে উঠি, অখানেই সমবয়সী এক ভদ্রমহিলার সাথে আমার পরিচয়। প্রায় ১১ বছর সে বাসায় আমি ছিলাম। ৬০ টি ফ্ল্যাট নিয়ে বিশাল এপার্টমেন্টে একমাত্র তাঁর সাথেই ছিলো আমার গভীর আত্মীক সম্পর্ক। অন্যদের সাথে হাই-হ্যালো, সামাজিক যোগাযোগ থাকলেও অজানা কারনে সুযোগ পেলেই একটু সময় কাটানোর মন চাইলে আমি প্রথমে তাঁর ফ্ল্যাটেই ছুটে যেতাম। সেও আসতো।

[![sonarbangla\_1396177730\_1-unhappycoupleCS\_450x297](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/02/sonarbangla_1396177730_1-unhappycoupleCS_450x297-300x198.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/02/sonarbangla_1396177730_1-unhappycoupleCS_450x297.jpg)

গত ২০১৪ সালের কোন একসময় জানতে পারি তাঁর দাম্পত্যজীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। এর কিছুদিন পর আমি সে ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে আসি। অনেক ঘনিষ্ঠতা থাকলেও দাম্পত্য কোন ব্যাপার নিয়ে আমাদের কখনো আলাপ হতো না। সেকারনেই হয়তো ব্যাপারটা জানার পর তাঁর সাথে আমার দু-একবার দেখা হলেও আমি এ আলোচনায় যাইনি।

অথচ, আজ সে নারীকেই দেখি কি সাহিত্যাঙ্গন, কি সংস্কৃতি অঙ্গন সব জায়গাতেই সে দৃপ্ত পদচারণায় মুখর!  
আমি বলছি না যে, দাম্পত্যই তাঁর সৃজনশীল প্রকাশের একমাত্র অন্তরায় বরং আমি বলতে চাইছি দাম্পত্য টানাপোড়নজনিত সমস্যাই হয়তো তাঁকে তাঁর নিজেকে প্রকাশ করা থেকে বিরত রেখেছে। আজকের তাঁকে আমি অতীতের তাঁর সাথে মেলাতে পারি না। কেবলই ভাবি, এতো কাছে থেকে দেখা মানুষটি এতোটা সমৃদ্ধ!  
আর যদি এমনই হয়, তো বলবো এই টানাপোড়নই হয় নারীকে অবদমন করে রাখে আর নাহয় বাধা অতিক্রম করতে সম্পর্কের সুতো ছিঁড়তে বাধ্য করে।

সে ছাড়াও, আরো একজন নারীকে খুব কাছে থেকে দেখছি দাম্পত্য টিকিয়ে রাখার জন্য কতো রকমের কম্প্রোমাইজ করে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কতো অসহনীয় সময় সে পার করছে।

কাজেই, অবদমন নয়, পারস্পারিক সহযোগিতাই সুন্দর দাম্পত্যের চাবিকাঠি।
