# অনেক দিনের পরেই যেন যোজনকাব্য

Author: নুরুন্ননাহার শিরীন
Published: 2013-09-23
Category: একান্ত অনুভূতি, এদেশ, কবিতা, বিবিধ
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%95-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%87-%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a6%95/

অনেক প্রিয় ছবির সংগ্রহ, সঙ্গীত, পঙক্তিমালা মাঝেমাঝেই বড়ো কাব্যিক করে  হৃদয়। হৃদয়জ পঙক্তিঘোর অকরুণ নৈরাজ্য ভেদ করেই যেন রঙিন পাল ওড়ায়,  বাংলার রূপালী নদীর মাঝিমাল্লার সনে একাত্ম হয়ে। তখন নৈঃশব্দের সকল নীরবতা, সকল চুপ হওয়া একাকার জলের মতো কবিতাময় হয়। গানের ভাষায়  বাঙ্ময় হয়। যেন বা যোজন জাগ্রত এক অপার আশ্চর্য প্রহর। সেই প্রহরে জীবনমরণ তুচ্ছ অগ্রাহ্য করা শব্দাকাশের জলতরঙ্গ বাজতে থাকে। বঙ্গজ সেই চিরন্তনের কাব্যধারা যেন বা গান। হ্যাঁ আমি তারে গানই বলি। লোকে যা বলুক না, আমার গান বলতে বিষম ভালোলাগে। তখন নিজেরও যাতনাভোলা প্রিয় ছবি ও কথাজালে  ভুবনজয়ী সময় কাটে। তারই একখানা সবচে’ প্রিয়তম ছবিটি ফাইলে সংগৃহিত ছিলো, দেখতে গিয়ে যখন তাড়িত হোলাম বাংলার চিরন্তনের তুমুল সবুজ আর রূপালি জলের আহ্বানে, তখনই অনেক দিনের অনেক কথাজালে আবদ্ধ পঙক্তিঘোরও মনে পড়েই গেলো। এবঙ প্রিয় গানও এলো হৃদয় ছাপিয়ে  যোজনকাব্যসম! অগত্যা সোনেলা ব্লগে বসেই সেই আপ্লুত জলতরঙ্গের দোলায় ভেসে অনেক আগের রচিত কিছু পঙক্তি শেয়ার করার কাঙ্ক্ষা জেগেছে। যেন পাতাল ছুঁয়ে যেতেযেতেও –

“মাঝি নাও ছাইড়া দে / ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে”

গানের দে-দোল দে-দোল দোলা! সেইসঙ্গে নিজের যতকিঞ্চিত ভাবের কথা! যদ্দুর মনে পড়ছে – “কাগজের ডানা” শিরোনামের গ্রন্থভুক্ত আমার কিছু শব্দাকাশের ওড়াউড়ি, আবার লিপিবদ্ধ করছি তারে –

**নতুন তৃষ্ণায় ইদানিং আমি একাএকাই অন্তিম হাসি!  
ভোরে জাগিতেই দেখি –  
চিলতে আকাশমণি টগবগ করিতেছে –  
তৃষ্ণায় ভাসিয়া যায়যায় আর কি!  
দেখিয়া বিষম সুখ পাই!  
পৃথিবীটা নষ্ট হইতেছে বলিয়া কি  
দিনরাত্তির কাঁদিয়া বেড়াইবো নাকি!  
অনেক কাঁদিয়া জানিয়াছি উহাতে কোনও ক্ষতিবৃদ্ধি নাই!  
যাহারা উন্মাদনৃত্যে বিষাইছে বায়ু নিভাইছে আলো –  
কান্না তাহাদিগকে করে না স্পর্শ, অপরদুঃখদিনে তাহারা অদ্ভুত ঝলোমলো!  
তো, বীতশ্রদ্ধ বলিয়া, যাহা আমারই তাহারই জন্য কথাজালে বাঁধি ভাই!  
চিলতে আকাশফাটা রৌদ্রজলের কবিতা – ইহার অধিক সুখে কাজ নাই!  
তাই ইদানিং একাএকাই আনন্দে থাকি ভাই!  
একাএকাই নদী ও নৌকার দারুণ পাল উড়াইয়া ভাসিয়া যাওয়া দেখিয়াই –  
অদেখায় আদি বাংলার চিরকালের কবিতা ও গানের গন্ধ পাই!  
তখনই ত্ম্রসিদ্ধ তাবত ঋষিদিগকে চিতকার করিয়া বলিতে চাই –  
আহারে সাধুর দল, দেখিয়াও দেখিতে পান না ভাই!  
জীজিবিষাময় জীবনকাব্যের জন্য আদৌ কোনও সাধনার প্রয়োজন নাই!  
মরিতে-মরিতে জীবন্ত আনন্দ কিনিয়া এই যে ফেরা, অধিক কি আর চাই!  
এইতো আমার আদিগন্ত পাতাল অবধি ঠাঁই!  
এই না চাহিতে পাওয়া প্রাণান্ত ডানা!  
হউক সে কাগজের, হউক না কিঞ্চিত রক্তাক্ত-দুমড়ানো, তথাপি সে ডানা!**

**(\*স্মৃতির খেরোখাতার পঙক্তিমালা নতুন করে লিখতে গিয়ে খানিক সংযোজিত নতুন শব্দাবলি এসেই গেলো, পুরনো যারা আমার “কাগজের ডানা”-র পাঠক, আশাকরি অপরাধ নেবেন না, যেহেতু আমারই লিখিত\*)**

**আশ্বিন ১৪২০ বঙ্গাব্দ।।  
**

[![](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2013/09/Bangladesh-মাঝি-নাও-ছাইড়া-দে-ও-মাঝি-পাল-উড়াইয়া-দে.jpg)](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2013/09/Bangladesh-মাঝি-নাও-ছাইড়া-দে-ও-মাঝি-পাল-উড়াইয়া-দে.jpg)

বাংলার এ চিরন্তন রূপালী নদীর জলে রঙিন পাল ওড়ানো নৌকা ও মাঝিমাল্লার ছবিটি কাব্য জাগায় প্রাণে, গানও জাগে –
