# অনূর্ধ্ব-১৬ এএফসি নারী ফুটবলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবং পরবর্তী কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা

Author: সোনেলা রোদ্দুর
Published: 2016-09-09
Category: একান্ত অনুভূতি, সমসাময়িক
Tags: অনূর্ধ্ব-১৬ এএফসি নারী ফুটবলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, এদের প্রতি অন্যায় আচরন
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%85%e0%a6%a8%e0%a7%82%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%ac-%e0%a7%a7%e0%a7%ac-%e0%a6%8f%e0%a6%8f%e0%a6%ab%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%80-%e0%a6%ab%e0%a7%81/

![4](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/09/4.jpg)ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা এএফসি বাছাই পর্বে চ্যাম্পিয়ন। এরপরেই থাইল্যান্ডের চুড়ান্ত পর্ব, চুড়ান্ত পর্বে বাংলাদেশ সহ আটটি দল। ফুটবল পাগল এদেশের মানুষ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফুটবলারদের ক্রমাগত ব্যর্থতায়  
ফুটবল খেলা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। দেশের মানুষ যে ফুটবল খেলে এ কথা প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম। ফুটবলের স্থান দখল করে নিয়েছে ক্রিকেট। কিন্তু নারী ফুটবলাররা দেশের ফুটবল পাগল মানুষকে কিছুটা হলেও ঝাঁকি দিয়েছে। বাছাই পর্বের সমস্ত খেলায় প্রবল প্রতাপে জয় ছিনিয়ে নিয়ে চ্যাম্পিয়ন।  
![krishna](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/09/krishna.jpg)আমার বিবেচনায় দেশের ফুটবল ইতিহাসের সেরা অর্জন এই এটি। এর পূর্বে অনুর্ধ ১৪ মেয়েদের খেলায় সাফ চ্যাম্পিয়নও হয়েছে আমাদের দেশ।  ছবি ২ টা ,\* আনন্দিত সমস্ত দেশবাসি। টুর্নামেন্টে আমাদের মেয়েরা এমন ভাবে খেলেছে ভাবাই যায় না। জড়তাহীন ভাবে আমাদের মেয়েরা এমন ফুটবল খেলছে , ডান বাম পায়ে সমান কিক নিয়ে গোল দিতে পারছে এটি না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। [এ কোন দেশের মেয়েরা ফুটবল খেলছে! দেখে অবাক হতেই হবে।](https://www.youtube.com/watch?v=Emu3MM0n2IE)  

এই সাফল্যের জোয়ারে ভাসছে দেশ। অভিনন্দন জানাচ্ছি অনুর্ধ ১৬ নারী ফুটবলারদের চ্যাম্পিয়ন হবার জন্য এবং আমাদের এমন আনন্দের জোয়ারে ভাসানোর জন্য -{@

ফুলের বাগানে সর্পঃ  
\*\* বিজয় পরবর্তী কিছু ঘটনায় মনে আনন্দের চেয়ে দুঃখ স্থান করে নিয়েছে। টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণকারী বিদেশী খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে অত্যন্ত উন্নত হোটেলে, খাবার খেয়েছে উন্নত খাবার। আর আমাদের নারীদের রাখা হয়েছে ক্যাম্পে, তাদেরকে ক্যান্টিনের খাবার দেয়া হয়েছে।  
\*\* টানা দু’বার এএফসি অনূর্ধ্ব-১৪ চ্যাম্পিয়নশিপের গৌরব অর্জনের পর এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বেও অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে যেসব ফুটবল কন্যারা তাদের কপালে পুরস্কারের বদলে জুটেছে তিরস্কার! তাদেরকে বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়েছে লোকাল বাসে। তাদের কপালে কোন রিজার্ভ করা গাড়ি জুটল না, ছোট একটি মাইক্রোবাসও জুটল না। ঢাকা থেকে ধোবাউড়াগামী লোকাল বাস নিলয় পরিবহন এ তাদের বাড়ি পাঠান হল। সকাল ১০ টায় গাড়ি ঢাকা থেকে ছেড়ে গন্তব্যে পৌছাল বিকেল তিনটায়। প্রচন্ড গরম, দুপুরে না খেয়ে মেয়েগুলো এভাবেই ফিরেছে বাড়িতে।  
![3](http://sonelablog.com/wp-content/uploads/2016/09/3.jpg)পথিমধ্যে একটি মেয়ের টয়লেটে যাওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু অসভ্য, অমানুষ এই মেয়েদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছে, বাজে আচরন করেছে। ড্রাইভার সহ কিছু যাত্রি এই আচরনের প্রতিবাদ করলে তাদের সাথেও খারাপ আচরন করা হয়েছে। [ভিডিওতে দেখুন দেশকে জিতিয়ে দেয়া মেয়েদের অসহায় মুখের লাঞ্চনার বর্ণনা।](https://www.youtube.com/watch?v=Yv5yV2V_kz4&feature=youtu.be)\*\* মেয়েদেরকে লোকাল বাসে করে বাড়িতে অভিভাবক বা বাফুফের কোন কর্মকর্তা ব্যতীত বাড়িতে পাঠানো এবং মেয়েদের সাথে খারাপ আচরনের প্রতিবাদ আসতে থাকে বিভিন্ন অনলাইন এবং সামাজিক মাধ্যম সমূহে। প্রচন্ড সমালোচনার মুখে বাফুফে একটি হাস্যকর বক্তব্য দেয়। বক্তব্যে বলা হয়, মেয়েরা এসি বাসে চলতে পারেনা, এতে তারা অভ্যস্ত নয়। তাই তাদের লোকাল বাসে পাঠান হয়েছে। কত হাস্যকর যুক্তি, এই মেয়েরা নেপালে খেলেছে অনুর্ধ ১৪ টুর্নামেন্ট। বিমানে কি এসি ছিলনা? এরা আগামীতে থাইল্যান্ড যাবে চুড়ান্ত পর্ব খেলতে। থাইল্যান্ডে কি বাসে করে পাঠান হবে? নাকি বিমানের এসি বন্ধ করে পাঠান হবে?  
\*\* ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি।  
অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল টিমে খেলছেন গারো পাহাড়ের কোলঘেঁষা গ্রাম কলসিন্দুরের ৯ ফুটবলার। এএফসি অন‍ূর্ধ্ব-১৬ বাছাইপর্বে অপরাজেয় থেকে  বাড়ি ফিরেছেন গোলাম রব্বানী ছোটনের শিষ্যরা। কিন্তু বাড়ি ফেরার একদিন পরেই সেই আনন্দ যেন ফিকে হয়ে গেছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর গ্রীষ্মকালীন ফুটবল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিতে কুমিল্লা যাচ্ছে কলসিন্দুর উচ্চ বিদ্যালয়। এই স্কুলেরই ছাত্রী এই নয় জন ফুটবলার। স্কুলের শরীরচর্চা শিক্ষক চাপ দিলেন সবাইকে স্কুলের হয়ে গ্রীষ্মকালীন ফুটবল প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে খেলার জন্য। মেয়েরা বললো যে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর তাদেরকে সম্বর্ধনা দেয়া হবে ঢাকায়, এরপর তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে, তাদের পক্ষে স্কুলের হয়ে খেলা কিভাবে সম্ভব? ব্যাস আর যায় কোথায়। একজন খেলোয়াড়ের পিতাকে জুতা পেটা করা হল শরীর চর্চা শিক্ষকের নেতৃত্বে। অন্য সব অভিভাবকদের স্কুলে ডেকে হুমকি দিয়ে মুচলেকা নিয়ে মেয়েদেরকে নিয়ে যেতে বলা হল, স্কুলে যেন তারা আর না আসে। এই সমস্ত সোনালী মেয়েরা এখন চরম শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। যে স্কুলের নামই আমরা জীবনে জানতাম না, সে স্কুল আজ পরিচিতি পেয়েছে এই ৯ জন মেয়ের কারণে, সে স্কুলের আচরন এমন!

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঐ শরীর চর্চা শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক কেন? একে চুড়ান্ত ভাবে বরখাস্ত করে চরম ভাবে বিচার করা হোক। ১৭ সেপ্টেম্বরের সম্বর্ধনায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন। ক্রীড়া প্রেমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী, বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে দিয়েছে যে সমস্ত মেয়েরা তাদেরকে যথাযথ সন্মান দেয়া হোক, তাদেরকে দেশের সম্পদ বিবেচনায় সরকারী খরচে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে লেখা পড়া এবং ফুটবল খেলার সুযোগ করে দেয়া হোক। এরাই একদিন বড় আসরে আমাদের দেশের জন্য আরো বড় সাফল্য বয়ে নিয়ে আসবে।
