# অজ্ঞতার চাদরে ঢাকা সচেতনতাকে জাগ্রত রাখুন

Author: তৌহিদুল ইসলাম
Published: 2021-04-24
Category: সমসাময়িক
URL: https://sonelablog.com/%e0%a6%85%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%b8%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%a8/

আপনার আশেপাশের কিছু মানুষকে হাজার চেষ্টা করেও আপনি যেমন সচেতন করতে পারবেন না তেমনি কিছু মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছে বর্তমানে করোনায় যা কিছু হচ্ছে তা সরকারের কারসাজি।

তাদের একাংশ মনে করে দেশে করোনায় যত মৃত্যু হচ্ছে আসলে তারচেয়ে সরকার বাড়িয়ে বলছে বেশী এবং আরেক অংশ মনে করে করোনা টেস্টের ফলাফলে আক্রান্ত না হয়েও অনেককেই পজিটিভ দেখিয়ে সংক্রামনের হার বেশী দেখানো হচ্ছে।

খুব ছোট্ট একটা অংশ মনে করে হেফাজতিদের গ্রেফতার করতেই সরকারের এই লকডাউন নাটক। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বাজার-ঘাট এবং গণপরিবহন বন্ধ রাখা অহেতুক। ভারতপ্রেমী এ সরকার, বাংলাদেশের জনগণের দুঃখকষ্ট কি করে বুঝবে?

এসব কথা যারা অনেকেই বলে, মনেমনে পোষণ করে তারা কিন্তু কারো সামনে এসব আবার লজ্জায় প্রকাশ করতেও পারেনা। কারন দেশে সচেতন নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। কিছু বললে পাছে নিজেরা নির্বোধ প্রমাণিত হতে হয়!

কেউ এধরনের কথা বললে আমিও শুনে যাই, প্রতিউত্তর করিনা। ফেসবুকে এরকম পোষ্ট দেখলে এড়িয়ে যাই। যাদের নিজেদের বুঝ থেকেও নাই তাদের আর বলেও লাভ নাই।

এদের বক্তব্য- করোনা যার হবার তার এমনিতেও হবে। ডাবল মাস্ক আর সাবানের ফেনায় নিজেকে চুবিয়ে রাখলেও হবে। আপনাকে সচেতন থাকতে নিষেধ করেছে কে? লক্ষ্য করলে দেখবেন, এসব মানুষ আসলে কোনো না কোনোভাবে কারও ভুল মতাদর্শে বিশ্বাস স্থাপন করে আছে।

তবে কঠিন ভাষায় বলি, আপনি আক্রান্ত না হয়ে এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকলে সরকারের লাভ কিছুই নাই। বেঁচে থাকলে ফেসবুকে সরকার বিরোধী কথা কপচানো ছাড়া আপনাকে দিয়ে অন্তত এই করোনাকালীন সময়ে দেশ জনগনের কোন উপকার হয়নি আর হবেওনা।

বরং আপনি আক্রান্ত হয়ে মরে গেলে দেশের, সরকারের, এই পৃথিবীর অপূরণীয় ক্ষতি। একটি প্রাণ যখন ঝরে যায় তার পরিবার, সমাজে যে শুন্যতা তৈরী হয় সরকার তা ফিরিয়ে দিতে অপারগ। দেশের মানবসম্পদ হুমকীর সম্মুখীন হয়।

একটি শিশুর অকাল মৃত্যু মানেই অপার সম্ভাবনাময় একটি মেধার অপমৃত্যু এটা বুঝতে হবে। করোনায় একেকটি মৃত্যু মানেই বিশ্বমানবতার দর্পণে নতজানু প্রতিফলনে দাঁড়াতে হয় সরকারকেই। আপনাকে আক্রান্ত বা মৃতের হার বেশী দেখিয়ে সরকারের কি লাভ বলতে পারেন?

মানছি, অপরিপক্ব ব্যর্থতাও আছে। তবে কেউই ভুলের ঊর্ধ্বে নন। করোনাকালীন সংকটে পড়েনি পৃথিবীতে এমন একটা দেশ দেখাতে পারবেন না। যেসব দেশ সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে বিশ্বাস করেন তাদের জনগন ভুল মতাদর্শে পরিচালিত নয়। সভ্য নাগরিকরা নিজেদের জ্ঞান, বিবেক বুদ্ধিতে টিকে আছে।

জীবনযাপনের তাগিদে আমাদের আয়-রোজগার করতে বাইরে যেতেই হবে। বেঁচে থাকতে হলে জীবনযাত্রার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই চালু রাখতে হবে এটাও ঠিক। তবে সচেতনও হতে হবে আমাদের নিজেদেরকেই।

দলমত নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে আপনি আমি রাষ্ট্রের সম্পদ। নিজের প্রয়োজনেই এদেশের সরকারের দায়ভার থাকে আমাদেরকে সচেতন করার। করোনায় আক্রান্ত আর দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে সরকার রাজনীতি করবে, আপনাদের মত এমন নীচু হীনমন্য মানসিকতা সরকারের নেই।

সরকার এতটা নির্দয় নয় বলেই করোনায় কারো মৃত্যু হলে যেন কবরের জায়গার সঙ্কটে তার পরিবারকে পড়তে না হয় সেজন্য আগে থেকেই কবর খুঁড়ে রেখেছে। আপনি নিজে সচেতন থাকবেন নাকি করোনাকে বন্ধু ভেবে বুক ফুলিয়ে জনসমাগমে মিশে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেন সেটা আপনার অভিরুচি।

জীবন মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার হাতে। যারা প্রিয়জন, পরিজন হারিয়েছেন তারাই জানেন এর মর্মব্যথা। তবে প্রার্থণা করি, করোনায় মৃত্যু হয়ে আর যেন কেউ কবরে না যায়।

কোনদিন যে কেউ না আবার বলে বসেন- কবরে স্বাভাবিক মৃত্যুবরণকারী লাশের দাফন দিয়ে সরকার বলছে এরা করোনায় মৃত! এই সরকার অমানবিক সরকার। আপনাদের মুখ দিয়ে এমন কথা বের হওয়াও বিচিত্র নয়।

শেষ বাক্যটি পর্যন্ত পড়েছেন জেনে কৃতজ্ঞ হলাম। এসব লেখা পড়ার মত সময় আমাদের হাতে নেই। তবে আপনি না পড়লেও বারবার লিখে যাবো। সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব পালন না করলে একদিন প্রজন্মের সামনে কোন লজ্জায় মুখ দেখাবো বলতে পারেন?

অনলাইনে সরকার, জনগন কারোরাই তোষামোদ বা বিরোধীতা করতে আসিনি। এসেছি আপনাদের সচেতন করতে।

\[ছবি- নেট থেকে\]
