সোনেলা ঘর

শুন্য শুন্যালয় ১৩ নভেম্বর ২০১৫, শুক্রবার, ০৭:০৭:০৪অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৪১ মন্তব্য

কখনো চাইনি, এ ঘরটা ডুপ্লেক্স ঝাঁ চকচকে প্রাসাদ হয়ে উঠুক। চোখ ঝলসানো ঝাড়বাতির আলোকে চোখগুলো টনটনে করে বলে উঠুক, উহ কত্তো সৌখিন এ বাড়ির মালিক। আরো অনেক কিছুই মনে আসবে তখন। আমার এমন বাড়িতে ঢুকেই প্রথম মনে আসবে এ বাড়ির আনাচে কানাচে কিছু অসুন্দর ছায়া ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোথাও চাঁপা পড়ে আছে কঙ্কাবতীর কান্না। না, চাইনি এমন, চাইওনা এমন।
আমার একটা কুড়ে ঘর চাই। টিনের চালা টা একটু নীচু থাকবে, মাথাটা নিচু করে ঘরে ঢুকতে গিয়ে চোখে এসে লাগবে এলানো কাঠমল্লিকা গাছের ঝাপটা। ঘরে ঢুকেই হয়তো কখনো গরমে হাঁস ফাঁস করবো, মন্দ কি। টিনের চালায় বৃষ্টির শব্দ শুনতে গেলে উত্তাপ কে ভালো যে বাসতেই হবে। ভালোবেসে ফেলবো সে উত্তাপ, প্রেমিকের হাত ছোঁয়ার মতো করেই।
তালপাখার বুঝি আর চল নেই তেমন? কে বলেছে? আমি যে গেঁয়োই থাকতে চেয়েছি আজীবন। আমি বিদ্যুতের আলোর জন্য হাপিত্যেশ করে পাওয়ার হাউজ মুখি হতে চাইওনা কখনো। তালপাতা আর হারিকেনের কুপিই সই।
ঝড় আসবে? আসুক না। প্রতিটি কালবোশেখি, আশ্বিনী ঝড়ে আমি মৃত্যুর ভয় পেতে চাই। বিজলি যেমন চমকাবে, তা মিলিয়েও যাবে। অই বিজলীর চুম্বক আলোতে আমি আকাশ কে ফালা ফালা করে ভেঙ্গে যেতে দেখেছি। তাই এ ঘর ভেঙ্গে পড়ার ভয় নেই আর। শুধু তোমাকে চাই, তোমাকেও চাই আর তোমাদের। মেঘলা দিনে ঝালমুড়ির ঝালে ফু ফু চোখের পানি ঝরবে আর গল্প হবে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত। গান গাইবো হারে রে রে রে রে, আমায় ছেড়ে দেরে দে রে, তাল দেব হাতে অথবা পায়ে।
যারা জেনারেটরে আলো জ্বালাও, তারা দূর হও। এই শান্ত গোল পাতার ছাউনি, অন্ধকার আর আগুনমুখো ড্রাকুলায় ভয় পায়না আর। শুধু তোমাদের চাই, যারা ভালোবাসে ভালোবাসায়, ঘৃণা আর প্রতিহিংসায় না।

৬১৭জন ৬১৫জন
0 Shares

৪১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ