লা বিয়েত্রা

নীলাঞ্জনা নীলা ৯ আগস্ট ২০১৬, মঙ্গলবার, ০৭:০৩:১৬পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি, কবিতা ৪৬ মন্তব্য
বিষণ্ণ শুভ্রতা...
বিষণ্ণ শুভ্রতা…

খ্রীষ্টমাস ট্রি যখন সাদা বরফে ঢেকে যায়, লা বিয়েত্রা তোমায় খুব মনে পড়ে। তোমার ঠোঁটের চুরুট আভিজাত্যকে পূর্ণতা দিতো গলিপথ থেকে রাজপথ মাড়িয়ে সাদা ঘোড়ার গাড়ী। শৈত্যপ্রবাহে যখন আমার কাঠের বাড়ী ঠকঠকিয়ে কাঁপতো, তোমায় ভাবতাম আমি। কেন জানো? তোমার নি:সঙ্গ আভিজাত্যকে আমি ভালোবেসে ফেলেছিলাম। কখনো সাহস হয়নি বলবার;
কারণ বাবা বলতো অলক্ষ্মী আমি, আর মা অসহায় চোখে আমায় দেখতো।
তারপর যতো ধরণের অভিশাপ আছে, সবই আমার গা সওয়া হয়ে গিয়েছিলো।
হারানোর বড়ো ভয় ছিলো তোমাকে লা বিয়েত্রা, তবুও কিছুতেই পারিনি তোমাকে এড়িয়ে যেতে।
কতোবার তোমার চলার পথে দাঁড়িয়ে থেকেছি নিজস্বতা বিসর্জন দিয়ে। জানো, কতো প্রার্থনা করতাম! একটিবার যদি ঘোড়াটা তোমার থেমে যেতো!

চুরুট আমার খুব অপছন্দ, ইচ্ছে হতো ওটা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে এই ঠোঁট তোমার ঠোঁটে ছোঁয়াবো।
পৃথিবীতে কোথাও শান্তি নেই, যুদ্ধের সাইরেণ বাজার শব্দ শুনি কেবল। আততায়ীর পায়ের শব্দও আজ নি:শব্দ হয়ে আসে। কে জানতো একদিন আমি আর তুমি ঠিকই এক উত্তপ্ত গ্রীষ্মে ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়াবো সমাজ-সংসার ভেঙ্গে! চারদিকের সবুজ আদর বিলোবে হাওয়ার দোলায় চঞ্চল পাতা উড়িয়ে, নীল ওই আকাশ চেয়ে দেখবে আমাদের এই একত্রিত হওয়ার দৃশ্যকে!! কখনোই কি ভেবেছি? ওই আকাশ জানে, দেখেছে সব—
কাঠের ঘরে শীতের কাঁপুনি, আগুণ নিভে যাওয়া, ভেঁজা কাঠ কেটে এনে শুকানোর বৃথা চেষ্টা আর,
তোমার জন্য একটুকরো প্রতীক্ষা।

বরফ গলে যখন রঙচঙে পাতাদের হাসিতে ভরে যাচ্ছিলো চারদিক, তুমি পথে পা ফেললে। সেদিন আমি তোমায় চিনতেই পারিনি, ঠিক সামনে এসে দাঁড়ালে। লা বিয়েত্রা আমি ওক গাছের শূণ্যতা মাখিয়েই তো শ্বাস নিচ্ছিলাম। সেদিন কেন দাঁড়ালে? যদি এসেছিলেই, তবে কেন চলে গেলে? আচ্ছা যুদ্ধ যারা করে, ঘরের বাইরের সকলকেই কেন শত্রু ভাবে? আমরা তো ভালোবাসার ফুল ফোঁটাতে চেয়েছিলাম! বাবা যে আমায় অলক্ষ্মী বলতো, আসলেই সত্যি।

আমার পুরোনো পৃথিবী তছনছ করে দিয়ে এখন ওই মৃত্যুপুরীতে কেমন আছো? একদিন প্রিয় বন্ধু বলেছিলো, “পেয়ে হারানোর চেয়ে না পেয়ে হারানো অনেক শান্তির।”

লা বিয়েত্রা ভালো থেকো না-ফেরার দেশে।

উড়ে যাওয়া অজানায়...
উড়ে যাওয়া অজানায়…

হ্যামিল্টন, কানাডা
২২ জুলাই, ২০১৬ ইং।

** প্রথম ছবিটি গতবছরের তুষারপাতের ভেতর তোলা।
** দ্বিতীয় ছবিটি গতকাল আমার ছেলে নভোনীল তীর্থ তুলেছে।

৫৭৬জন ৫৭৫জন
0 Shares

৪৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ