রেসিপি – এক

নীলাঞ্জনা নীলা ১২ আগস্ট ২০১৬, শুক্রবার, ০৩:৩৪:৫৮পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৫৬ মন্তব্য

জাপানিজ নিরা শাক ঃ-

বড়ো এবং লম্বা ঘাসের মতো দেখতে নিরা শাক। এই শাক চায়েনিজ দোকানে পাওয়া যায়। তবে এই শাক না পেলে পালং শাক দিয়েও এই ভর্তা তৈরী করা যায়।

নিরা শাক...
নিরা শাক...

উপকরণ ঃ নিরা/পালং শাক, কালোজিরা, শুকনো লঙ্কা, রসুন, ধনেপাতা, সয়াবিন তেল (ভাঁজার জন্য), সরিষার তেল (মাখানোর জন্য), লবণ, হলুদ(অল্প)।

শাকটা ধুয়ে পরিষ্কার করে অল্প সময় জল ঝরিয়ে নিতে হবে। ফ্রাইং প্যানে সয়াবিন তেল দিয়ে গরম হলে প্রথমে শুকনো লঙ্কা, তারপর অল্প কালোজিরা দিতে হবে। কালোজিরা দিয়েই অল্প একটু লবণ ছিটা দিতে হবে। তাহলে কালোজিরার ঘ্রাণ বের হবে। তার মধ্যে দুই কোয়া রসুন ছেঁচে নিয়ে ওই তেলে দিয়ে অল্প ভাঁজা ভাঁজা করে নিতে হবে। এরপর নিরা/পালং শাক তার মধ্যে দিয়ে দেবেন। অল্প একটু হলুদ ছিঁটে, আন্দাজ পরিমাণ লবণ দেবেন। শাক সেদ্ধ হয়ে হাল্কা ভাঁজা ভাঁজা হয়ে গেলে ্নামানোর সময় ধনেপাতা দেবেন। এখন ব্লেন্ডার কিংবা পাটাপোতায় বেটে নিন, তারপর সরিষার তেল ছড়িয়ে দিন। হয়ে গেলো নিরা/পালং শাকের ভর্তা। 🙂

বাঁধাকপি ভর্তা...
বাঁধাকপি ভর্তা…

বাঁধাকপি ভর্তা ঃ-

উপকরণ ঃ বাঁধাকপি (কুচিকুচি করে কাটা), কালোজিরা, শুকনো মরিচ, জিরা গুঁড়া, লবণ, ঘিঁ।

প্যানে ঘিঁ দিন। গরম হলে শুকনো মরিচ আর কালোজিরা ফোঁড়ন দেবেন। তারপর কুচি কুচি করা বাঁধাকপি ঢেলে দিয়ে ভাঁজুন। ওহ অল্প একটু জিরা গুঁড়া আর অবশ্যই লবণ দেবেন। তারপর হাল্কা আঁচে ঢেকে দিন। বাঁধাকপি তার নিজের জলেই সেদ্ধ হয়ে গেলে মাখা মাখা অবস্থায় রাখুন। তারপর ব্লেন্ড অথবা শিলপাটায় পিষে নিন। হয়ে গেলো বাঁধাকপি ভর্তা। তখন আবার একটু ঘিঁ আর শুকনো মরিচ দিয়ে দিন। সুন্দর গন্ধ বের হবে।

বাটন মাশরুম ভর্তা...
বাটন মাশরুম ভর্তা…

বাটন মাশরুম ভর্তা ঃ-

উপকরণ ঃ ছোট্ট সাদা মাশরুম, পেঁয়াজ কুচি (বড়ো পাঁচটা পেঁয়াজ), আস্ত জিরা, জিরা গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, কারি পাউডার (মুরগী মাংসের পাউডার), লবণ, সয়াবিন তেল(ভাঁজার জন্য), সরিষা তেল (মাখানোর জন্য), শুকনো লঙ্কা, কাঁচামরিচ, ধনেপাতা।

মাশরুম ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখলেই চলবে। চুলায় ফ্রাইং প্যানে তেল দিন। তেল ফুঁটে উঠলে তার মধ্যে আস্ত জিরা দিয়েই লবণ ছিঁটা দিন। তারপর শুকনো লঙ্কা ফোঁড়ন দিন। এবারে আস্তে আস্তে পেঁয়াজ ছাড়ুন। পেঁয়াজ হাল্কা বাদামী হলে ওর মধ্যে মাশরুম ঢেলে দিন। এবারে জিরা গুঁড়া, কারি পাউডার, লবণ পরিমাণমতো দিয়ে কষতে থাকুন। মাখামাখা হয়ে গেলে ওর মধ্যে ধনেপাতা দিয়ে দিন। তারপর ব্লেন্ড নয়তো পাটাপুতায় বেটে নিন। সবশেষে কুচিকুচি করে কাটা কাঁচামরিচ, ধনেপাতা এবং সরিষার তেল ঢেলে দিন।

মাছ ফিলে ভর্তা...
মাছ ফিলে ভর্তা…

মাছ ফিলে ভর্তা ঃ-

উপকরণ ঃ- যে কোনো কাঁটা ছাড়া মাছ, পেঁয়াজ কুচি (পাঁচটা বড়ো পেঁয়াজ কুচি), রসুন কুচি (চার কোয়া কুচিকুচি কাটা, আস্ত জিরা, আদা বাটা (৩ চা’ চামচ), জিরা গুঁড়া, ধনিয়া গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, মাছের কারি পাউডার, লবণ, কাঁচামরিচ কুচি, সয়াবিন তেল (ভাঁজার জন্য), সরিষা তেল ( মাখানোর জন্য), ধনেপাতা।

তেল গরম হলে তার মধ্যে আস্ত জিরা দিয়ে লবণ ছিঁটে দিন। জিরার ঝাঁঝ বের হলে রান্নার ঘ্রাণ সুন্দর হয়। পেঁয়াজ কুচিও ছেড়ে দিন ওই তেলে। হাল্কা বাদামী হলে রসুন দিন, এবং সবশেষে আদা বাটা। সব ভাঁজা হয়ে গেলে তারই মধ্যে মাছ ছেড়ে দিন। হাল্কা ভেঁজে ওরই ভেতর জিরা-ধনিয়া-হলুদ-কারি পাউডার-লবণ ছেড়ে দিয়ে ভাঁজতে থাকুন। ভাঁজা হয়ে গেলে, হাল্কা আঁচে ঢেকে রাখুন। মাছের জল ছাড়বে, আবার ওই জলেই ভাঁজবেন। মাছ সেদ্ধ হয়ে গেলে কাঁচামরিচ কুচি, সরিষার তেল ও ধনেপাতা দিয়ে মেখে নিন। মাছ ভর্তা আমি সাধারণত হাতেই মাখি গ্লাভস পড়ে।

পাবদা-সর্ষের মিতালী...
পাবদা-সর্ষের মিতালী…

পাবদা-সরিষা রান্না ঃ-

উপকরণ ঃ পাবদা মাছ, পেঁয়াজ বাটা, কালো সরিষা বাটা (সরিষা বাটার সময় কাঁচামরিচও দিয়ে বাটতে হবে), হলুদ, লবণ, কাঁচামরিচ, সরিষার তেল।

পাবদা মাছ খুব ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিয়ে জল ঝরাতে হবে। জল যখন শুকিয়ে যাবে, পাবদা মাছে হলুদ-লবণ দিয়ে মেখে হাল্কা ভাঁজতে হবে। তারপর ওই তেলে পেঁয়াজ বাটা দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করতে হবে। পেঁয়াজ বাদামী হয়ে এলে সরিষা বাটা দিতে হবে। তারপর এক এক করে হলুদ, লবণ দিয়ে মাখা মাখা হলে মাছগুলো এক এক করে আস্তে আস্তে শুইয়ে দিতে হবে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আন্দাজমতো জল দেবেন যাতে মাছ নামানোর সময় মাখামাখা থাকে। তারপর হাল্কা আঁচে ঢেকে দিন। মাছ সেদ্ধ হয়ে জল অনেকটাই টেনে এলে ওর মধ্যে কাঁচামরিচ এবং সরিষার তেল দিয়ে নামিয়ে দিন। হয়ে গেলো পাবদা সরিষা ভাঁপে। আমি অবশ্য ফ্রেশ মাছ হলে পেঁয়াজ ব্যবহার করিনা।

ঝিঙে পোস্ত...
ঝিঙে পোস্ত…

ঝিঙ্গে পোস্ত ঃ-

উপকরণ ঃ ঝিঙ্গে টুকরো টুকরো করে কাটা(লম্বা করেও কেঁটে নিতে পারেন), পোস্তদানা বাটা (Poppy seeds), হলুদ, লবণ, তেজপাতা, পাঁচফোঁড়ন, শুকনো লঙ্কা, কাঁচামরিচ।

তেল গরম হলে এক এক করে যথাক্রমে শুকনো লঙ্কা, তেজপাতা, পাঁচফোঁড়ন দিন। ফোঁড়নের ঘ্রাণ বের হলে কাটা ঝিঙ্গেগুলো তেলে ছেড়ে দিন। পরে অল্প হলুদ এবং লবণও দিন। তারপর নাড়াচাড়া করে নিয়ে হাল্কা জ্বালে ঢেকে দিন। হাল্কা সেদ্ধ হলে পোস্তবাটা ঢেলে দিয়ে নাড়াতে থাকুন। আমি আরেকটা কাজ করি, অল্প দুধ ঢেলে দেই পোস্ত মেখে গেলে। সবশেষে কাঁচামরিচ দিয়ে নামিয়ে দেই।

**আজ এই কয়টি পদের রেসিপি দিলাম। রান্না করে খেয়ে দেখুন কেমন হলো! আপনাদের সকলের স্বাদের উপরেই নির্ভর করবে আমার পরবর্তী রেসিপি। সত্যি নেয়ার সদ্বসাহস আছে, তাই আশা করবো সেই সত্যিটুকুই পাওয়ার। ওহ বাসার জন্য রেঁধেছিলাম, তাই ডেকোরেশন করিনি। আপনারা সুন্দর করে সাজাতে পারেন। রেসিপির নীচে কয়েকটি লাইন দিলাম। ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে কেউ যদি যেতে চান, তাহলে যোগাযোগ করুন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। ২০২৩ সালে প্রথম চারজন যাচ্ছে, তবে ওয়ান ওয়ে এই যাত্রায় পৃথিবীকে আর দেখা যাবেনা। আগেভাগেই জানিয়ে রাখলাম।

ইচ্ছেগুলো সুস্বাদু ফলের মতো পেকে যায়
অথচ তাও অপূর্ণ স্বাদ নিয়ে বিস্বাদের ভেতর চলতে থাকে জীবন
এখনও তুমি খাদ্যের সন্ধানে নিঃশ্বাস!
জানোনা ভেঁজালের ভেতর আজকাল বিক্রী হয়
বেঁচে থাকার জন্যে যা কিছু প্রয়োজন।
খাঁটি দ্রব্যাদিও আছে।
এভাবে চেয়ে আছো কেন? বলছি তো দাঁড়াও!
তোষামোদকারীরা পাকাপোক্ত অবস্থান নিয়ে একেবারে সর্বোচ্চ স্থানে।
আর সবচেয়ে নিম্নস্থানে জলের অবস্থান।
এবারে বলো এ পৃথিবীতে এখনও থাকতে চাও?
তা নইলে এখনও সময় আছে মঙ্গলগ্রহে একটা খুপড়ি ঘর ভাড়া করার,
ওখানেই হবে শুরু এবং সমাপ্তি।

মঙ্গল গ্রহে ঘর-বসতি...
মঙ্গল গ্রহে ঘর-বসতি…

হ্যামিল্টন, কানাডা
১১ আগষ্ট, ২০১৬ ইং।

৮২৫জন ৮২১জন
0 Shares

৫৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ