মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ১০ (শেষ পর্ব)

নীহারিকা ২৭ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার, ০৩:৫২:১০অপরাহ্ন ভ্রমণ ২১ মন্তব্য

আজ মালয়েশিয়াতে আমাদের শেষ দিন। দুপুর ১২টায় আমাদের হোটেল চেক আউট। একটু দেরি করেই সকাল ৮.৩০ এর দিকে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে ব্রেকফাস্ট করতে চলে গেলাম। ব্রেকফাস্ট করে রূমে এসে ব্যাগ গুছাতে লেগে গেলাম। এদিকে দেখি কর্তা এ ক’দিন ধরে যা যা কিনলাম তার রিসিটগুলো এই ব্যাগ, সেই ব্যাগ, মানিব্যাগ, পকেটের চিপা-চাপা থেকে বের করে গোছাচ্ছে। এতক্ষণে মনে পড়লো, কাল রাতে ড্রাইভার ভাই বলে দিয়েছিলেন যে আমরা যা যা শপিং করেছি তার সব রিসিট গুছিয়ে এয়ারপোর্টে GST Refund (Goods & Service Tax) বুথে যোগাযোগ করলে জিনিসপত্র কেনার সময় রেখে দেয়া ট্যাক্স ট্যুরিস্টদের ফেরত দিয়ে দেয় সরকার। আমরা শুনে বিরাট খুশি। কি সিস্টেম!!! যাহোক দুজন মিলে রিসিট গোছাতে গোছাতে দেখি সবথেকে দামী জিনিসের রিসিটটাই পাওয়া যাচ্ছে না। তা হলো কর্তার আংটি আর আমার চেন-লকেট এর রিসিট। মন খারাপ করে সব গোছগাছ শেষে তৈরি হয়ে নিলাম। আজকের প্ল্যান হলো বিকেল ৪ টায় রওনা হবো পুত্রাজায়ার উদ্দেশ্যে। পুত্রাজায়া ঘুরে সেখান থেকে সরাসরি যাবো এয়ারপোর্ট। কিন্ত ৪টার আগ পর্যন্ত কি করা যায়। দুপুর ১২টার দিকে চেক আউট করে লাগেজ সব হোটেলেই জমা দিয়ে রাখলাম। ওরাও বেশ হাসিমুখে টোকেন দিয়ে লাগেজ জমা রেখে বললো এখন শহর ঘুরে ফিরে লাঞ্চ করে বিকেলে এসব নিয়ে যেও, অসুবিধা নেই। কিছুক্ষণ লবিতে বসে থেকে ভাবছি এত সময় কি করবো। এদিকে আমার কর্তার যে বন্ধু আমাদের সংগে গিয়েছেন, উনার এক পরিচিত চাচা যে কিনা মালয়েশিয়ায় কাজ করেন উনি সকাল থেকে ফোন করছেন উনার বাসায় যাবার জন্য। কিন্ত আমরা ঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলাম না কি করবো। সেখানে গেলেও ৪টার আগে আবার এসে পড়তে হবে। ওরা কথা আমি ওদের বললাম হোটেলের সামনেই এক বাঙালী স্যুভেনীর এর দোকান থেকে ঘুরে আসি। দোকানে গিয়ে দেখি এক ২৫-২৭ বছরের এক ছেলে দোকান চালাচ্ছে। কথা প্রসংগে বললো বাড়ি বরিশাল। আরো অনেক কথা শেষে টুকটাক জিনিসপত্র কিনে এসে দেখি সেই আংকেলকে দেখতে যাবে ফাইনাল করেছে। এবার আমরাতো রাস্তা চিনি না। ট্যাক্সি কিভাবে ঠিক করবো ঠিকানা ক্লিয়ার না। তখন সেই সেলসম্যান ছেলেটি ঠিকানা বুঝে আমাদের এক ট্যাক্সি ঠিক করে দিলে আমরা রওনা হলাম। প্রায় ৩০ মিনিট পর পৌছলাম এক এলাকায়। আমি ঠিক জায়গাটার নাম মনে করতে পারছি না। শহরতলী বলা যায়। আবাসিক এলাকা একদিকে আরেকদিকে দোকানপাঠ, হোটেল ইত্যাদি। শুনলাম এখানে নাকি প্রচুর বাংলাদেশি থাকে। তবে প্রায় সবগুলো এপার্টমেন্টই পুরোনো পুরোনো। আমরা পৌছে দেখি আংকেল রাস্তায় অপেক্ষা করছেন। কুশলাদি বিনিময়ের পরেই বললেন চলো সবাই দুপুরের খাবার খেয়ে আসি পরে কথা হবে। আমি কিছুটা অবাক হলাম যে কেন বাইরে খেতে বলছেন। পরে জানলাম উনার পরিবার দেশে থাকে তাই। আমরা অনেক মানা করা সত্বেও জোর করে খাবার হোটেলে নিয়ে গেলেন। তারপর যে কি অবস্থা! উনি মনে হচ্ছে দেশি লোক পেয়ে পাগল হয়ে খাবারের অর্ডার দিতে লাগলেন। হাজার মানা করা সত্বেও গরু, সবজি, ডাল, ইলিশ মাছ, দই এসব দিয়ে খাওয়ালেন। তারপর নিয়ে গেলেন তার বাসায়। বাসা না বলে মেস বলাই ভালো। বাংলাদেশি কয়েকজন ছেলে মিলে সেই ফ্ল্যাটে থাকেন। বাসায় এনে আবার জুস, আম দিলেন খেতে। উনি বার বার আফসোস করছিলেন যে আমরা কেন সকালে উনাকে কনফার্ম করিনি, করলে উনি নিজে রান্না করে খাওয়াতেন আমাদের। আমরা আসলে উনার আতিথেয়তার চোটে খুব লজ্জা পাচ্ছিলাম আবার দেশি লোক পাওয়ায় উনার যে উচ্ছ্বাস সেটাও উপভোগ করছিলাম। যাহোক বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে উনিই আবার ট্যাক্সি ঠিক করে দিলে ২.৪৫ নাগাদ আমরা উনার থেকে বিদায় নিয়ে বেরিয়ে এলাম। এত খাওয়া খাইয়েছেন আংকেল যে ৩.৩০ নাগাদ হোটেলে পৌছে কারো আর নড়াচড়ার উপায় নেই। উপরন্ত উনি আরেকটি বড় জুসের বোতল, পানির বোতলও দিয়ে দিতে চাচ্ছিলেন আমাদের। আমরা কোন রকমে মাফ চেয়ে ওগুলো রেখে এসেছি। যাক, হোটেলে এসে এখন লবীতে বসে থাকা ছাড়া উপায় নেই। বার বার মনে হচ্ছিলো একটা বিছানা পেলে ভাতঘুমটা বেশ হতো। পুত্রাজায়া যাবার গাড়ি আসার কথা ৪ টায়। আমরা এই ফাকে কর্তার সিমের অবশিষ্ট কিছু টাকা দিয়ে দেশে কথা বলে, মোবাইল গুতিয়ে সময় কাটাতে লাগলাম। সময় আর কাটে না। এভাবে ৪.১৫ পর্যন্ত অপেক্ষার পরও গাড়ি না আসাতে জানা গেলো রাস্তায় নাকি সেদিন অনেক জ্যাম তাই দেরি হচ্ছে। ৪.৩০ নাগাদ গাড়ি চলে এলে আমরা আমাদের ব্যাগপত্র নিয়ে একেবারে রওনা হয়ে গেলাম পুত্রাজায়ার উদ্দেশ্যে। হোটেল থেকে বের হয়ে শহর ছাড়িয়ে যখন ছুটছিলো গাড়ি কি যে অপরূপ সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য। সামনে দুরে পাহাড়, ডানে, বায়ে পাহাড় আর মাঝে মাঝে উঁচু উঁচু বিল্ডিং। মনে হচ্ছিলো কোথায় যে চলে যাচ্ছি। যাবার পথে ড্রাইভার/গাইড অনেক কিছু ব্রিফ করছিলো আমাদের। আমরা শুনছিলাম। প্রায় ঘন্টাখানেক পর আমরা দেখলাম নদীর উপরে সুন্দর সাদা এক ব্রিজ। বলা হলো এই ব্রিজটাকেই নাকি পুত্রাজায়ার গেট বলা হয়। সেখানে নেমে তাকালাম পুত্রা মসজিদের দিকে। কি অপরূপ দৃশ্য। যেন মনে হচ্ছে সবুজে মসজিদটি পানির উপর ভাসছে। সেখানে দাড়িয়েই দেখলাম রাস্তা ধরে সামনে গেলেই সব সরকারি অফিস। উঠে পড়লাম গাড়িতে। গাড়ি চলতে লাগলো পুত্রা মসজিদের মুল ফটকের দিকে। গাড়ি চলতে চলতে দেখি ঠিক রাস্তা বরাবর সবুজ গম্বুজবিশিষ্ট আরেকটি খুব সুন্দর বিল্ডিং গাছপালার ফাক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে। ড্রাইভার বললেন এটাই নাকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম। মসজিদের সামনে গাড়ি পার্ক করে নেমে এলাম আমরা। কর্তা চলে গেলো মসজিদের ভেতর নামাজ পড়তে। আমি মসজিদ চত্বরে ঢুকে ঘুরে দেখতে লাগলাম। খেয়াল করলাম অনেক বিধর্মী মেয়েরাও ঢুকছে তবে তাদের গেট থেকে বোরকা দিচ্ছে খোলা পা আর মাথা ঢাকবার জন্য। তারা ভেতরে ঘুরে ঘুরে দেখছে, ছবি তুলছে। ভেতরে আবার কিছু দোকানও আছে স্যুভেনির এর। ভেতর থেকে বাইরে এসে বিশাল একটা গোল চত্বর। মাঝে মাঝে পিলার বসানো ল্যাম্পপোস্টের মত। অনেক দেশি-বিদেশি লোকজন ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি ঘুরতে ঘুরতে কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম সেই জায়গায়। এর মধ্যে হঠাৎ এক বয়স্ক ভদ্রলোক আর ভদ্রমহিলা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কোথা থেকে এসেছি। বাংলাদেশের নাম শুনে বললেন উনারা তুরস্ক থেকে এসেছেন। বাংলাদেশে যাবেন বেড়াতে। পর্যটন এলাকাসমূহ সম্পর্কে জানতে চাইলে আমি তাদের ব্রিফ করলাম। শেষে ভদ্রলোক বলছেন আমার কাছে বাংলাদেশী টাকা আছে কি না উনি দেখবেন। নেই শুনে হতাশ হয়ে বিদায় নিলেন। এদিকে কর্তা আর আসেন না। আমি গাড়িতে এসে বসার অনেক্ষণ পর দেখি উনি আসছে। বললেন নামাজ শেষে আমাকে খুঁজে না পেয়ে নিজেই ঘুরে দেখে এসেছেন জায়গাটা। এদিকে সন্ধ্যা প্রায় হয় হয়। আমাদের ফ্লাইট রাত ৯.৩০. এখুনি এয়ারপোর্ট রওনা না হলে দেরী হয়ে যাবে। এয়ারপোর্ট আসতে আসতে মন খারাপ হচ্ছিলো। যাক সন্ধ্যার সাথে সাথেই পৌছলাম এয়ারপোর্ট এ। বোর্ডিং পাস নিয়ে কর্তার সেই বন্ধু বলে চলেন ম্যাকডোনাল্ডসে যাই। কর্তা-আমি বিরক্ত যে দুপুরের খাবারই হজম হয়নি এখন ক্যাম্নে খাবো? যাহোক নাছোড়বান্দা ভদ্রলোক আমাদের জন্য বার্গার অর্ডার করলেন। একটু পর এলো বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই আর ইয়া বড় গ্লাসে কোক। খেয়াল করে দেখি আরও দুটো বার্গার বেশি। কেন? সেই ভাই করুণ দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে বলেন, ভাবী ছোট ভাইয়ের জন্য দুটো বার্গার নিলাম আপনি একটু কষ্ট করে আপনার ব্যাকপ্যাকে নিয়ে নেন। আমার তো মাথায় হাত কয় কি! বলে হাতে নিলে ইমিগ্রেশনের ওখানে ফেলে দিবে। আমাদের হাতে এম্নিতেই এক পানির বোতল আর কোকের বোতল যা আসার পথে কিনেছিলাম। আমার ব্যাকপ্যাকে মিরিন্ডার ছোট এক ক্যান। অবশেষে ব্যাকপ্যাকে দুই বার্গার আর হাতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নিয়ে ইমিগ্রেশনের লাইনে দাড়ালাম। কর্তার হাত খালি। সে কিছু নিবে না হতে। বিরক্ত। কর্তার বন্ধুটি দুহাতে পানি আর কোকের বোতল নিয়ে পার হয়ে গেলো। এবার আমার পালা। আমিও ঢুকে গেলাম। অপেক্ষার এক পর্যায়ে কর্তা বললো GST Refund বুথ থেকে ঘুরে আসি। আমি পেছন পেছন গিয়ে অন্য দোকানগুলোতে ঘুরে আবার এসে বসলাম। অপেক্ষা করছি এমন সময় দেখি ৭/৮ জন বাংলাদেশি হুজুর সাথে আরো লোকজনের হাউকাউ। বিষয় হলো কাজ দেবে বলে তাবলীগ এর কথা বলে ৩ লাখ টাকা নিয়ে এক ছেলেকে ওই হুজুরদের একজন মালয়েশিয়া এনেছে ১ দিন আগে। এয়ারপোর্ট একে ঢুকতে দেয়নি। আজ ওকে ফেরৎ পাঠাচ্ছে দেশে এর মধ্যে আবার ওই হুজুর আসাতে বাকি লোকেরা তাকে চেপে ধরেছে টাকা দেয়ার জন্য। নাহলে পুলিশ ডাকবে এই ভয় দেখিয়ে কিছু টাকা আদায় করা হলো। পুরা দেশি কাহিনী। কেউ কেউ বলছে একেতো এইখানে কিছু করা যাবে না, ঢাকায় ল্যান্ড করেই আচ্ছামত মাইর দেয়া লাগবে। আমি খুব মজা নিয়ে ঘটনা দেখছিলাম। ১ ঘন্টা দেরি করে ডাক পড়লে বিমানে চড়ে বসলাম। আমাদের সামনের সিটের ভদ্রলোক ঢাকায় কাউকে ফোনে বলছে যে প্লেন ১ ঘন্টা দেরি, এখন ফ্লাই করবে। বার বার এনাউন্স করার পরও উনি সহ অনেকে ফোনের মোড চেঞ্জ করছেনই না। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে দুনিয়ার যত কথা সব বিমানে উঠে মনে হয়েছে। যাহোক কেবিন ক্রুদের বেশ কয়েক মোলায়েন অনুরোধের পর এসব বন্ধ করে প্লেন আকাশে উড়লো। খুব ক্লান্ত ছিলাম তাই ঘুমানোর চেষ্টা করছি। এর মধ্যে খাবার চলে এলো। বিরিয়ানি। বিরিয়ানি আমার খুব পছন্দের খাবার হলেও কেন যেন খেতে ভালো লাগলো না। ২/৩ চামচ খেয়ে রেখে দিয়ে দিলাম ঘুম। ঘুমাই-জাগি, আবার ঘুমাই। এ করে করে শুনলাম ঘোষণা করা হচ্ছে যে আমরা ঢাকায় ল্যান্ড করতে যাচ্ছিই। সবাই প্রস্তুত। প্লেন ল্যান্ড করা মাত্রই সেই সামনের ভদ্রলোকের আবার ফোন শুরু। “হ্যালো, হ্যা এইমাত্র প্লেন থামছে। না আমরা এখনো বিমানেই বইসা আছি। না চেক করলাম নেটওয়ার্ক পায় কি না। হ্যা তুমি বাইরেই অপেক্ষা করো।” এই আলাপ শুনতে শুনতে সবাই দেখি প্লেনের দরজা খোলার আগেই জিনিসপত্র নামিয়ে দরজার মুখে ভীড় করে দাড়িয়েছে। আমরা তখনও বসে আছি যে ভীড় কমলে নামি। কিন্ত সময় বয়ে যাচ্ছে দরজা আর খুলে দিচ্ছে না। ১০ মিনিট/১৫ মিনিট পার হয় দরজা খুলে না। ভীড় গ্রুপ ততক্ষণে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিয়েছে। যাহোক, প্রায় ২০ মিনিট পর দরজা খোলা হলে নেমে এলাম। তারপর আবার লাগেজ বেল্টে দাঁড়িয়ে আছি কিন্ত ব্যাগ আর আসে না। প্রায় আধা ঘন্টা পর ব্যাগ পেয়ে আলহামদুলিল্লাহ বলে বের হলাম এয়ারপোর্টের বাইরে। কর্তা উবারের গাড়ি ডাকলে রওনা হলাম বাসার উদ্দেশ্যে। আসতে আসতে ভাবছিলাম পুরো ট্যুরের কথা….

(সমাপ্ত)

*** ভালো থাকুক সোনেলা। ভালো থাকুক সোনেলার প্রিয় মানুষেরা।

আগের পর্ব পড়ুন:

মালয়েশিয়া ভ্রমণ কাহিনী ৯/ মালয়েশিয়াতে কয়েকদিন ৯

 

৭৩৬জন ৭৩৫জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

  • ছাইরাছ হেলাল

    শেষ পর্ব বললেই-তো শেষ হয়ে যায় না!! শেষ বলতে কিছুই নেই, আবার শুরু করুন যা যা বলা হয়নি
    সে-গুলোকে খুঁজে আবার শুরু করে দিন, আমাদের এত দিনের পাঠাভ্যাস আপনই দুম-দাম করে শেষ করে দিতে পারেন না!
    GST Refund (Goods & Service Tax) থেকে কত পেল ভাসুর তা কিন্তু বলেন-নি!!

    এই মসজিদটি আমার খুব পছন্দের জায়গা, অনেক সময় কাটিয়েছি এখানে, ছবি-ও সুন্দর তুলেছেন।

    ভ্রমণের প্রথম লেখাটি থেকে এই আপাত শেষ লেখাটির লেখন-শৈলি অনেক পার্থক্য বয়ে এনেছে, আপনই নিজে আবার পড়ুন,
    তবে হ্যাঁ, ভাল লিখেছেন বলে হাওয়া যেমন দিচ্ছি না, তেমন লিখে ফাডাইলাইছেন তাও বলছি না!! অবশ্যই আমরা আলো দেখতে পাচ্ছি।

    মাইয়ালোকে এত্ত খাইতারে আগে জানতাম না;

    ঈদ মোবারক।

    • নীহারিকা

      শেষ মানে শেষ, মানে সমাপ্ত, The End. আপনারাতো বিশ্ব ভ্রমণ করেও কিছু শুনাইলেন না, আমি এক মালয়েশিয়া ভ্রমণ করে আর কত শুনাই?
      ভাসুর মনে হয় ৪০০০টাকার মত ফেরত পেয়েছিলো GST Refunds থেকে।
      পুত্রাজায়া মসজিদের সোন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি। কর্তার খুব ইচ্ছে ছিলো এই মসজিদে সে নামাজ পড়বে, কিছুটা সময় কাটাবে। উনি তা পেরেছেন।
      খাওনের লিস্ট এত লম্বা হলে কি হবে, আমি কিন্ত তেমন কিছুই খাই নাই। শুধু ইলিশটা মজা করে খেয়েছিলাম। এত বড় ইলিশের পেটি দেশে দেখি না।
      লেখার কথা কি বলবো, আমি এমন মানুষ যে পেটে বোম ফুটালেও লেখা আসে না। সেই মানুষকে শুধু উৎসাহ দিয়ে দিয়েই আপনারা ১০ টি পর্ব লিখিয়ে নিলেন। এর সমস্ত কৃতিত্ব আপনাদেরই।
      সকল ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন ভাই।
      ভালো থাকবেন।

  • মৌনতা রিতু

    এতো খাওয়া! বিছানা বালিশ বোগল দাবা করে নিলে ভালোই হইতো। কিন্তু বসে বসেও তো ভাত ঘুম দিতে পারতেন।
    মসজিদে ঢোকার ব্যবস্থাটা বেশ মজা লাগলো। এতো দামি জিনিসের ট্যাক্স রিসিট হারাইছেন! টাকা পাইছিলেন?
    দারুন সব ছবি তুলেছেন। খুবই সুন্দর উপস্থাপন হইছে। আসলেই সত্যি বলছি, আমি অনেক ভ্রমণ কাহিনী পড়েছি এতো চমৎকার বর্ণনা কোথাও পাইনি।
    পরের কোনো গল্পের অপেক্ষা। মনু নিমিত হইছি কইলাম।

    • নীহারিকা

      বিছানা পাইলে আর পুত্রাজায়া দেখা হইতো না শিওর। কর্তা মনে হয় ৪০০০ টাকার মত ফেরত পাইছিলো যদিও আমারে কিছু দেয় নাই 🙁

      ভ্রমণ কাহিনী লেখার অভিজ্ঞতা আমার একদমই নেই। শুধু তাই না, লেখারই অভিজ্ঞতা নেই। আমার ভেতর থেকে কোনো লেখাই আসে না তবে আপনাদের উৎসাহেই কেমন ১০টি পর্ব লিখে ফেললাম। আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমারও খুব ভালো লাগছে। ৯ নং পর্বটি পড়বেন, সেটা লিখতে আমি খুব মজা পেয়েছি। আশাকরি আপনারও ভালো লাগবে।

      অনেক অনেক ধন্যবাদ।

  • মিষ্টি জিন

    পুত্রাজায়া আমার খুব পছন্দের একটা জায়গা। ছোট একটা নতুন শহর। ছিমছাম ছবির মত গোছানো ।
    পুত্রা জায়ার মসজিদে আমার নামায পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল।
    ন্যাম বিল্ডিং মানে যেখানে ন্যামের মিটিং হয় সেটাও পুত্রাজায়ায়।
    ছবি গুলো খুব সুন্দর হয়েছে।
    শ্রমিকদের টাকা মেরে খাওয়া এটা কমন ব্যাপার। প্রচুর দালাল ছডিয়ে ছিটিয়ে আঁছে এখানে সেখানে। এদের কত যে কান্না দেখেছি আর দেখছি।
    যার বেশ সুন্দর করে ভ্রমন কাহিনি শেষ করলেন। এবার নতুন কিছু লেখা শুরু করুন।

  • শুন্য শুন্যালয়

    শেষ হয়ে গেলো? বিনা পার্মিশনে এমন লেখা শেষ হয় ক্যাম্নে? আমি যে আপনার লেজ ধরে ধরে মালয়েশিয়া দেখে বেড়াচ্ছিলাম, এতো তাড়াতাড়ি শেষ বেড়ানো শেষ হইলে কেমুন লাগে কন চাই?
    আমাদের দেশের কোন মসজিদে এমন সিস্টেম আছে কি? আমাদের ঢাকা তো মসজিদের শহর।
    হ্যাঁ হ্যাঁ এই পর্বটা বাঁকি ভ্রমণকাহিনীকারদের মতো হইছে, খানা খাদ্য :p
    সুন্দর করে গুছিয়ে লেখা প্রথম থেকে এই পর্যন্ত। সত্যি বলছি মালয়শিয়া গেলে এই পোস্ট ধরে ধরে ঘুরে বেড়াবো। কিছু বাঁকি থাকলে বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়া আরেক পর্ব কিন্তু লেখাই যায়। 🙂

    • নীহারিকা

      ট্যাকাটুকা শ্যাষ হইয়া গেলে থাকি ক্যাম্নে? কেউ ট্যাকাটুকা পাডাইলে আর দুইদিন বেশি থাইক্যা আইতাম।
      আমাদের দেশের মসজিদ এভাবে পর্যটকদের দেখানোর কথা ভাবাই যায় না, বিশেষ করে মেয়েদের। আগে থেকেই দূর দূর করে তাড়াবে।
      আর সত্যি কইতাছি, আমি কিন্তক বেশি কিছু খাই নাই।
      মোটামুটি সবই লিখে ফেলেছি, বিশেষ কিছু বাকি নেই মনে হয় (শুধু উনার সাথে ঝগড়াঝাঁটির ঘটনাগুলা বাদে) 🙂

      • শুন্য শুন্যালয়

        হে হে আসল কাহিনী বাদ দিয়ে বলছেন কিছু বাঁকি নেই? আমিতো ঝগড়াঝাঁটিই ভালা পাই, তাইতো ভাবতাছিলাম কি জানি মিসিং :p
        আল্লাহ্‌ পয়সা কুনো ব্যাপার? আওয়াজ দিলেই পারতেন, খালি মানিব্যাগ নিয়া হাজির হই যাইতাম 😀

  • জিসান শা ইকরাম

    শেষ কেমনে হয়? আপনি বলেছিলেন ভ্রমনের খরচপাতি নিয়ে একটা পোস্ট দিবেন। একজন নতুন ভ্রমনকারী যাতে আপনার লেখা পড়ে খুব সহজেই মালয়েশিয়া যেতে পারেন।
    সে পোস্টে থাকতে পারে ভিসার খরচ, কোন ট্রাভেল এজেন্সীর মাধ্যমে গেলে এজেন্সীর নাম, ঠিকানা, ফোন নাম্বার, প্যাকেজের বিস্তারিত বিবরন। নিজেরা বিমান ভাড়া, হোটেল খরচ ইত্যাদি।
    শিরোনাম হতে পারে- মালয়েশিয়া ভ্রমন : প্রাথমিক তথ্য।
    সেই পোস্টে আগের ১০ পোস্টের লিংক।
    আপনার এমম একটি লেখা বছরের পর বছর মানুষ পড়ে উপকৃত হবে।
    খাওয়া দাওয়া পর্ব, প্রবাসের মানুষের আন্তরিকতা, পুত্রাজায়ার বর্ননা, এয়ারপোর্টে হুজুরকে ধরে সেমি প্যাদানি বেশ ভালভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন।
    মালয়েশিয়ার প্রায় সমস্ত মসজিদকেই দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিগনত করেছে সে দেশের সরকার। অন্য ধর্মের প্রচুর দর্শক মসজিদ দেখতে যান।

    আপিনি ভ্রমন কাহিনী ভাল লেখেন।
    শুভ কামনা।

    • নীহারিকা

      খরচ বা ভ্রমণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য নিয়ে একটি পোস্ট দেয়া যায় তবে তথ্যগুলো আমি এখনো সঠিক জানিনা। যেমন এজেন্সি, ভিসা, বিমান ভাড়া, হোটেল ভাড়া ইত্যাদি ইত্যাদি আমার কর্তার কাছ থেকে জেনে লেখার চেষ্টা করবো।
      শিরোনামটি কিন্ত বেশ পছন্দ হয়েছে। শিরোনামটির লোভেই এখন আমার তথ্যগুলো যোগাড় করতে হবে 🙂
      আমাদের দেশেও অনেক সুন্দর সুন্দর মসজিদ আছে কিন্ত সেগুলোর দায়িত্বে যারা তারাতো মসজিদে নামাজ না পড়ে বেড়াতে গেলে দৌড়ানি দিবে।
      ভ্রমণকাহিনীর প্রশংসা আপনার মুখে শুনে অন্য এক ভ্রমণ কাহিনী লেখার ইচ্ছে হচ্ছে। সেটা ছিলো সেন্টমার্টিন্স, কক্সবাজার ও বান্দরবান ট্রীপ। আমি খুব এনজয় করেছিলাম।
      দেখা যাক কি হয়।

  • ব্লগার সজীব

    প্রতিটি পর্ব পড়েছি আপু। খুবই ভাল উপস্থাপনা করতে পারেন আপনি। মালয়েশিয়া ভ্রমণ পিয়াসীদের চাহিদা মিটাবে আপনার এই সিরিজ লেখা। প্রিয়তে নিয়ে রাখলাম আপু। ঈদ মোবারক -{@

  • ইঞ্জা

    মচ্চি, মুই মচ্চি।
    ও দাদী, এমন কইরা কেম্বে একটা ভ্রেমুন কাহিনী লিইক্ষালাইলেন, এতো চুন্দর লেহা কেম্বে শেষ করি লাইলেন ;(
    আসলেই দাদী, খুব সুন্দর লেখা, খুব ভালো লাগলো।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ