received_10208245905437930

womenchapter- এ জনৈকা লেখিকা জেসিকা ইরফানের একটি লেখা পড়ে আমার মাঝে কিছু প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি অপি করিম বিয়ে করেছেন। আর তাই ছিলো তাঁর লেখাটির বিষয়বস্তু।

★ লেখিকা এক জায়গায় বলেছেন, বিয়েটা কি খুব জরুরী কিছু? তিনবার ট্রাই না করলে কি চলতো না?
তার এ কথা শুনে আমার মনে হয়েছিলো, বোধহয় তিনি লিভ টুগেদারকেই সাপোর্ট করছেন। তা না হলে, তরুণী অপি করিমকে নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করবেন কেনো?

★আবার বলছেন, আমরা নারীরাও যে মানুষ, পুরুষের সমান মানসিক শারীরিক সব ব্যাপারেই আমাদের সমান ভূমিকা, সমান চাইবার বা না চাইবার অধিকার আছে।
আমার প্রশ্ন, যদি থাকেই তবে বিরোধিতা কেনো?

★আবার তিনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের দিক তুলে ধরে বলেছেন, যদি কোন মানুষের দৈহিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকে তবে তাকে বিয়ে করতে বলা হয়েছে।
মনে করি, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের এ নির্দেশনাটি সম্ভবত পুরুষদের উদ্দেশ্য। তবুও বলা যায়, দৈহিক ও মানসিক দুই দিক থেকেই তো অপি করিম এই নির্দেশনার আওতায় পড়েন। অর্থনৈতিক সামর্থ্য এর কথা না হয় আনলামই না।

★আরেক জায়গায় বলেছেন, আমার মনে হয় না একজন কর্মজীবী মেন বা উইমেন সঙ্গীর জন্য বিয়ে করেন। বর বা বউ কি সত্যিই সঙ্গী হতে পারে? যার সাথে দেওয়া নেওয়ার সম্পর্ক হয়, সে কী করে ভালো সঙ্গী হবে?
তাইলে জীবন চলার সঙ্গী হিসাবে মানুষ কাকে পাশে চাইবে? বন্ধু? সমাজ বা ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি কি তা সমর্থন করবে? মানুষ তো এমন একটা প্রাণী যে সঙ্গী ছাড়া বাঁচতে পারে না।

★আরো এক জায়গায এটাও বলেছেন, বাঁচতে হলে আমাদের সমাজকে তোয়াক্কা না করে পারা যায় না। সমাজের কতগুলো ভ্যালুজ আছে এবং এগুলো মানুষের ভালোর জন্যই।
তাঁর এ কথার পিঠে আমার প্রশ্ন, তিনি আসলে কি বলতে চাইছেন? অপি করিম বিয়ে করে সামাজিক কলঙ্ক তৈরী করেছেন? এমন কিছু করেছেন যে সমাজের ভ্যালুজে আঘাত পড়েছে?

তরুণী অপি করিম কেনো? ৭০ বছরের বৃদ্ধাও যদি জীবনের প্রয়োজনে বিয়ে করেন তাহলেও তো সমাজের ভ্যালুজে কোন আঘাত পড়বে বলে মনে হয় না। বিয়ে তো একটা স্বতঃসিদ্ধ ধর্মীয় এবং সামাজিক আচার।

লেখাটি পুরোপুরি পড়ে আমি রীতিমতো অবাক হয়েছি ’বিয়ে’ নামক ধর্মীয় এবং সামাজিক আচার সম্পর্কে তাঁর ভাবনার ধরন দেখে।

সবশেষে তিনি যা বললেন, ঠিক সেখানেই আমার (?) চিহ্ন দেখা দিয়েছে। আর তারপরই আমি এ লেখাটি লিখার সিদ্ধান্ত নেই।

তাঁর মতে, বিয়ে সিস্টেমটাই এসেছে উত্তরাধিকারী সঠিকভাবে নির্ধারণের জন্য। অর্থাৎ সঙ্গী নির্বাচনকে এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি, প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে সন্তানদের। সুতরাং শুধু ভালো সঙ্গীর জন্য বা আপনার সক্ষমতার প্রমাণ দেওয়ার জন্য বিয়ে না করে সুস্থ স্বাভাবিক সন্তান সমাজকে উপহার দেওয়ার জন্য বিয়ে করুণ।

প্রশ্ন, মুসলিম ধর্ম মোতাবেক তাহলে তালাকের নিয়ম রাখার কারণ কি?
হ্যাঁ, সন্তান উপহার বিবাহিত নারী-পুরুষের বংশধারা এগিয়ে নেয়ার একটা কারণ হতে পারে। কিন্তু বিয়ের একমাত্র কারণই কি সন্তান উপহার?
দুনিয়াতে প্রাণীজগতে দুটো চাহিদা বিদ্যমান। ক্ষুধার চাহিদা আর জৈবিক চাহিদা। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ ছাড়া আর সব প্রাণীই অবাধে এ দুটো চাহিদা নিবারণ করতে পারে। ‘আশরাফুল মাখলুকাত’ মানুষই একমাত্র প্রাণী যারা ক্ষুধার চাহিদা অবাধে নিবারণ করতে পারলেও জৈবিক চাহিদা নিবারণ অবাধে করতে পারে না। ধর্ম এবং সমাজ এজন্য কিছু বিধিবদ্ধ নিয়ম নির্ধারণ করে দিয়েছে। সমাজকে সুশৃঙ্খল পথে পরিচালিত করার নিমিত্তে ‘বিয়ে’ নামক সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমে নারী-পুরুষ একত্রে জীবন যাপন করে। আবার ধর্ম এবং সমাজই ‘তালাক’ এর মাধ্যমে সঙ্গী পরিবর্তনেরও সুযোগ করে দিয়েছে।
না, তাঁর লিখা পড়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি তিনি লিভ টুগেদারকে সমর্থণ করছেন কি করছেন না। তিনি হয়তো ভাবছেন, অর্থনৈতিক সামর্থ্যবান একজন নারী কি পুরুষ ছাড়া চলতে পারতো না? পারতো। কিন্তু মানুষ যেহেতু সঙ্গী ছাড়া বাঁচতে পারে না, অন্যদিকে তিনি একজন তরুণী, কাজেই তাঁর একজন সঙ্গীর প্রয়োজন হতেই পারে।
সব মিলিয়ে লেখিকার পুরো লেখাটা আমার কাছে কেমন যেনো খাপছাড়া মনে হয়েছে।

৭১৫জন ৭১৩জন
0 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ