বর্তমান সময়ে ডেঙ্গু একটি আতঙ্কের নাম। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে ডেঙ্গু মহামারীর আকার ধারণ করতে পারে। ইতিমধ্যে ডেঙ্গু সবগুলো জেলায় বিস্তার লাভ করেছে। হাসপাতালগুলো রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। মৃত্যুর হারও এ বছর বেশি। ডেঙ্গু মশা বাহিত রোগ। স্ত্রী এডিস মশার মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। একসময় বলা হতো এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে প্রজনন ঘটায়। এবং এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা এডিস মশা এখন ময়লা পানিতেও ডিম পাড়ে। এ মশা দিনের পাশাপাশি রাতের বেলায় ও কামড়ায়। বুঝা যাচ্ছে এডিস মশা টিকে থাকার জন্য অভিযোজন প্রক্রিয়ার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।

বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রকট ভাবে দেখা যায় ২০০০ সাল থেকে। তখন ঢাকা শহরের মধ্যে এ রোগের সীমাবদ্ধ ছিল বলে একে ঢাকা ফিভারও বলা হতো। গত কয়েক বছর যাবত এর প্রভাব সারা দেশে বিস্তার লাভ করতে থাকে।

ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য, প্রশাসন নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। তথাপি এ রোগ বিস্তার লাভ করেই যাচ্ছে। ডেঙ্গুর হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে, এডিস মশার প্রজনন বন্ধ করতে হবে। এরজন্য প্রথমত প্রয়োজন জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি। এখন বর্ষা মৌসুম। প্রতিদিনই কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। আর বৃষ্টির পানি বিভিন্ন খানাখন্দকে জমে থাকে। যা এডিস মশার বংশ বৃদ্ধির জন্য অভয়ারণ্য।

সত্যি কথা বলতে কি আমরা কেউ এ ব্যাপারে সচেতন নই। ভাব খানা এরকম ওটাতো আমার দায়িত্ব নয়। আবার কেউ এগিয়ে আসলে, পিছনে কেউ ইন্ধন দিবে এটা সরকারি কাজ। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে সমাজ ও দেশের প্রতি কিছু কর্তব্য থাকে। সেটা মানতে নারাজ। আমার নিজের ঘাড়ে যখন পড়ে, তখন নড়ে চড়ে বসি। বিপদ আসলে সকলের একসাথে কাজ করা প্রয়োজন। এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র বন্ধ করতে পারলে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

আজ সুস্থ আছি বলে, কাল আমি, আপনি বা আমাদের পরিবারের কেউ অসুস্থ হবে না। একথা বলতে পারি না। চলুন সচেতন হয়। কোথায় যেন পানি জমে না থাকে, এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেই। পরিবারের সকলকে সুস্থ রাখতে সহযোগিতা করি। আমার আপনার সচেতনতা ডেঙ্গু প্রতিরোধে অনেকটা সহায়ক হবে।

৫৪০জন ৪৫৩জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ