চিঠি…”মমি”

মনির হোসেন মমি ৯ আগস্ট ২০১৬, মঙ্গলবার, ০৯:৩০:৫২অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি, বিবিধ ২৯ মন্তব্য

অন্তরে পুঞ্জিভুত বিষ
মুখে বললে ভালবাসি
ভালবাসার পবিত্রতাকে
করলে,অহংকারে
কেটে কুচি কুচি”

tana-bristi-3-620x330জীবনের ধাপ চারটি প্রথমতঃ শিশু,কিশোর এবং যৌবন আর কারো কাছে বিরক্তি কেউ বা অনেক কষ্টে জীবন কাটান সেই বৃদ্ধ কালটা নাই বা বললাম।শিশুকালটি কারো স্মৃতিতে জেগে থাকে কারো বা মুছে যায় আর কিশোরের উদ্দীপনা সবারই মনে থাকার কথা যদি স্মৃতি শক্তি দুর্বল না হয়।আর যৌবনের কোন স্মৃতিই ভুলবার কথা নয়।
তখনকার কথা বলছি যেই যুগে মোবাইল ছিল না মনের ভাব প্রকাশ করতে একমাত্র চিঠিই ছিল এর বাহন।সেই চিঠি লিখতে কত যুবক যুবতি যে রাতের পর রাত পার করেছেন কেবল সেই জানেন আর তখনার অনুভূতির ইমেজটি মনে কতটা সূখকর ভাব দোলা দিতো তা কেবল হিরো হিরোইনরাই জানেন।তখন মনে হতো জগতের সকল সুখ বুঝি ঐ ললনার মিষ্টি হাসিতেই।আর এখন একটা বয়সে বুঝি এ সবিই মিথ্যে পার্থিব চাকচিক্যের অলংকার যা সময়ের স্রোতে ভেসে আসা এক একটি জীবনের অধ্যায়।

 এ সময়ে মনের দিক দিয়ে ধীরে ধীরে অনেক পরিবর্তন আসে।যদি ফ্যামিলির কেউ নিজের প্রিয়তমা বা প্রিয়কে কেউ কিছু মন্দ বলেন তবে মন তা মেনে নিতে পারে না হউক তা জন্মদাতা কেউ।কারো কোন উপদেশই কানে সয় না হউক তার ভবিষৎ জীবনের জন্য ভালো উপদেশ তবে এর কু-ফল পাওয়া যায় যখন,তখন বুঝতে পারেন “মুরুব্বিদের কথা ভাসি হলেও ফলে।সেই সব প্রেমের কারনে প্রেমিক যুগলরা বাপ দাদাদের দেয়া সুন্দর নামটি পরিবর্তন করতেও দ্বিধাবোধ করেন না।তেমনি একটি ঘটনা নিয়ে একটি চিঠি আসে যেখানে নাম পরিবর্তনের ঈঙ্গিত বিদ্যমান।

প্রিয়, -{@
আমার অন্তরে অন্তর তুমি
নিঃস্বাসের বিশ্বাস
ভাল বেসে হয়েছি তোমার
কবু হবো নাকো পর
দিলেম এই আশ্বাস।
বৃষ্টি ভেজাঁ এমন দিনে কেমন আছো?মুষল ধারে বৃষ্টিতে ভিজলাম,দুটি হাত ছড়িয়ে আকাশের পানে মুখ তুলে বৃষ্টির ফুটোকে মুখগহবরে নির্গত করছি আর

ertetভাবছি…এ সময় যদি তুমি পাশে থাকতে।ভেজাঁ শাড়ির আচলেঁর তলে ভালবাসার উষ্ণতার পরশ নিতাম।ভিজেঁ একাকার দুজনেই,বাহু বন্ধনে জলে টইটুম্বর বিলের জলে রং ধনুর সাতটি রংয়ে ভাল লাগার ছবি আকতাম।তুমি জানো,পৃথিবীতে আমি দুটি জিনিসকে খুব ভালবাসি, এক তুমি আর এক হলো এই মুষল ধারায় বৃষ্টিকে।
মন যখন অশান্ত থাকে কোন কাজে মন বসে না খোজে ফিরি বৃষ্টি আর তোমাকে।বৃষ্টি হলো রোমান্টিজমের মনকে সতেজ করার মহাঔষধ আর তুমি হলে সেই ঔষধ প্রয়োগকারি ডাক্তার।যখনি বৃষ্টির ফুটার স্পর্শে গায়ের ন্যুয়ে পড়া পশম উঠে দাড়ায় মনে হয় তখন তোমার জাদুর হাতের  স্পর্শ পেলাম।
তোমার মনে আছে,একদিন দুজনে ছাদে আকাশ ফেটে তখন প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছিল সাথে সূর্য্যের যত রৌদ্র ছিল তাও পৃথিবীতে আছড়ে পড়ছিল,আমি যখন আনন্দে বাধন হারা হয়ে গ্রাম্য প্রবাদ বলছি “রোদ হচ্ছে বৃষ্টি হচ্ছে খেক শিয়ালের বিয়ে হচ্ছে”তখন তুমি বললে…এ আবার কে রে বাবা!আমি বললাম এ হচ্ছে তুমি।তুমি তখন মুচকি হেসেই বললে,”চলো তবে কাজী অফিসে”।সে দিন মনে অনেক অনেক আনন্দ লেগেছিল কেননা “স্বপ্ন বুঝি দোয়ারে কাড়া নেড়ে গেল।
এই যা কেরোসিনের হারিকেনের আলো নিভু নিভু যে কোন সময় এর মৃত্যু হতে পারে তাই আর দেরী নয় এখনি চিঠির অন্তনিহিত তাৎপর্য্য ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।নিজেদের নিরাপত্তার খাতিরে দুজনের নামের পরিবর্তনটা খুবই দরকার ছিল।তবে ভেবে পাচ্ছি না কি নামে ডাকবো তোমায়।প্রায়তো এক মাস ভেবে ভেবে অবশেষে একটি নাম খুজে পেলাম।বলতে পারো নামটি কি?“মমি”আমার জান।বলতে পারো এ তো মিশরের পিড়ামিড…হ্যা তা ভাবলেও ভাবতে পারো কারন তুমি আমার হৃদয়ে এই পিড়ামিড হয়ে বেচে থাকবে অনন্তকাল আমৃত্যু।এই নামটিতে আরো একটি অর্থ বহন করে যার কারনে এই নামটিকেই আমি বেছে নিয়েছি কিন্তু এর উত্তর আমি বলবো না তা তোমাকেই খুজে বের করতে হবে।
আরো অনেক কিছুই লেখবার ইচ্ছে মন উতলা কিন্তু উপায় নেই রাফের ছেড়া পৃষ্টায় সময় পার হয়তো কিছুক্ষণের মধ্যেই মসজিদের মোয়জ্জিন ফযর নামাজের আযান দিবেন।ভাল থেকো। ইতি
তোমার দেয়া নামের অপেক্ষায়। -{@

নিয়তির কি পরিহাস,যা চাই তা ভুল করেই চাই আর যা পাই তাও ভুল করেই পাই।মমি নামটি রাখার কারন খুজে বের করা আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।সেই তার হিষ্টোরিটা পরবর্তীতে জানিয়ে দেয়।দুজনের নামের প্রথম অক্ষর।সে দিন থেকে এই নামটি আমার জীবনের সাথে মিশে যায় যা বর্তমানে মিল।

ধন্যবাদ সবাইকে। -{@

৬৬২জন ৬৬২জন
0 Shares

২৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ