এ হত্যাগুলো রাজনৈতিক নয় সাংস্কৃতিক

আলমগীর ৫ নভেম্বর ২০১৫, বৃহস্পতিবার, ০২:০৭:৩৪অপরাহ্ন সমসাময়িক ১১ মন্তব্য

ভূমিকা :

আজ ০৪-১১-২০১৫ তারিখে সকাল নয়টা পর্যন্ত কোন বাংলাদেশি টিভি চ্যানেলগুলোতে কোন প্রকার ব্রেকিং নিউজ দেখতে পেলাম না। কোন প্রকার ব্রেকিং নিউজ না দেখে দিন-শুরু করতে পারা মানে একটু ভালভাবেই শুরু করা। তাছাড়া আজকে যতটুকু সংবাদপত্র পড়েছি তাতে এখনও পর্যন্ত ব্রেকিং নিউজ হবার মত কোন নিউজ পায়নি। এটা টিভি চ্যানেল ও সংবাদ মাধ্যমের জন্য একটু মাথা ব্যথার কারণ বটে। তবে আমরা যারা অতি সাধারণ জনগণ, যাদের দেশের স্বার্থ নিয়ে খুব একটা ভাবনা থাকেনা, আবার দেশের দুরবস্থাকে কেন্দ্র করে সুবিধা পাবারও সুযোগ থাকেনা তাদের জন্য দিনের শুরুটা ভাল তাতে কোন সন্দেহ নেই।Killer তবে কয়েকদিনের খুনো-খুনির প্রেক্ষাপট খুব একটা ভাল থাকার সুযোগ দিচ্ছে না। একের পর এক যখন ব্লগারদের হত্যা করা হচ্ছে তখন পারিবারিক সেন্সরশীপ থাকুক অথবা ভীরুতা থাকুক সবকিছুকে উপেক্ষা করে লেখার একটা তাগিদ এমনিতেই চলে আসে। অন্যথায় বিবেকের কাঠগড়ায় নিজের মনুষ্যত্বের ফাঁসি অবধারিত। সেখানে জীব-তাত্ত্বিক ঝুঁকি কিছুটা না হয় নিলাম। যদিও অতিশখের প্রেম থেকে সৃষ্ট শখ অর্থাৎ লেখার শখে নেতিবাচক কোন কিছু লিখতে হোক সেটা আমি কখনও চাইনা। অবশ্যই ভীরুতার সর্বোচ্চ শৃঙ্গে আহরণ করায় আমার লেখা-লেখিতে ঝুঁকি কিছুটা কম থাকে। অন্যদিকে স্ত্রী’র প্রহরতার কারণে লেখাগুলো আমার জন্য নিরাপদও। সঙ্গত কারণেই সমাজ সংস্কৃতি পরিবর্তনে আমার লেখগুলোর ভুমিকা মোটা-মুটিভাবে নিষ্ক্রিয় বলা যায়। কিন্তু যখন শুধুমাত্র ভিন্ন মতের কারণে এতগুলো মানুষ হত্যা করা হচ্ছে তার জন্য সর্বোচ্চ নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে লিখতে হলেও কিছু একটা লেখা উচিৎ। তাই সামান্য এই প্রচেষ্টা….।

 

ব্লগার ও নাস্তিক

যাদেরকে হত্যা করা হয়েছে তারা মুলত (হুমায়ুন আজাদ ব্যতীত)সকলেই ব্লগার বা/এবং লেখক। ব্লগার শব্দটি প্রাচীন ধর্মীয় শাস্ত্রবিধির প্রতি অন্ধ বিশ্বাস শ্রেণীর বদৌলতে ইতিমধ্যে একটা ব্র্যান্ডিং ভ্যালু পেয়ে গেছে। একই সাথে তাদের বদৌলতে ব্লগার আর নাস্তিক শব্দ দুটি এখন একই কক্ষপথে ঘোরা-ঘুরি করছে। সেই কক্ষপথের বাজারজাতকরণের দায়িত্বেও আছেন ঐ বিশেষ শ্রেণীর বিশ্বাসীগণ। যদিও এটা নিয়ে নাস্তিক বা ব্লগার কারওর মাথা ব্যথা নেই। হুমায়ুন আজাদ, অনন্ত বিজয় দাশসহ, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অভিজিৎ রায়, আরিফ রায়হান দ্বীপ, জাফর মুন্সি, রাজীব হায়দার শোভন, জগৎজ্যোতি তালুকদার ও জিয়াউদ্দিন জাকারিয়াসহ নিহত মানুষগুলো বিশেষ শ্রেণীর দৃষ্টিতে নাস্তিক বা/এবং ব্লগার।

 

একশ বিশ কোটিতে দশ জন

উল্লেখ্য ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা, রাজনৈতিক মতাদর্শ, পেশা বয়স প্রায় সবকিছুতেই ভিন্নতা রয়েছে। সম্ভবত শুধুমাত্র অবিশ্বাসের ক্ষেত্রে কিছুটা অভিন্নতা রয়েছে। সেটা হলো ধর্মীয় অবিশ্বাস, যার সাথে এই শ্রেণী মানুষের মতে পার্থিব ও পরলৌকিতার কোন সম্পর্ক নেই। তবে যদি পরলৌকিক কোন সম্পর্ক থেকেই থাকে সেই দায় তো র্ধম অবিশ্বাসীদের, ধর্ম বিশ্বাসীদের নয়। তাহলে বোঝায় যায় শুধুমাত্র একটা বিশেষ বিশ্বাসের কারণেই এতগুলো হত্যাকান্ড। যদি সেটাই হয়ে থাকে তাহলে সারা বিশ্বে এখন যত সংখ্যক মুসলমান আছে প্রায় তত সংখ্যক ধর্মে অবিশ্বাসী মানুষও রয়েছে। ধর্মে অবিশ্বাসীগণ প্রায় সকলেই ধর্মে বিশ্বাসীগণকে কটু কথা বলে থাকেন যেমনি ভাবে ধর্মে বিশ্বাসীগণ অবিশ্বাসীগণের ক্ষেত্রে করে থাকেন। যেহেতু অবিশ্বাসীগণ ধর্ম বিশ্বাসের কারণে কোন বিশ্বাসীকে খুন বা হত্যা করেনা সেহেতু তাদের নিয়ে খুব একটা কিছু বলার থাকে না। কিন্তু অনেক বহু ক্ষেত্রে দেখা গেছে বিশ্বাসীগণ কর্তৃক অবিশ্বাসীগণকে খুন করা হয়েছে। যদি বিশ্বাসহীনতার কারণে খুনই করতে হয় তাহলেতো খুনীদের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। তাদেরকে প্রায় একশত বিশ কোটি লোক খুনের দায়িত্ব নিতে হয়। একশত বিশ কোটির মধ্যে মাত্র নয় দশজনকে খুন করা এটা বোধ হয় চরম দায়িত্ব-জ্ঞানহীনতা।

 

খুন গুলো কেন?

কেন খুনগুলো হচ্ছে সেটা বুঝতে শুধু মাত্র রাজনীতিবীদদেরই কষ্ট হচ্ছে আর কারও নয়। তাই কারণে অকারণে রাজনীতিবীদগণ এই খুন গুলোর দায়িত্ব একে অপরের ঘাড়ে চাপাচ্ছে। উপরের অনুচ্ছেদের আলোকে এইটুকু বলা যায় খুনগুলো কোনভাবেই শুধুমাত্র রাজনীতির মত সঙ্কীর্ণ কারণে হচ্ছে না। এর পেছনে রয়েছে বৃহত পরিসরের ধর্মীয় কারণ। ধর্ম আর বিশ্বাস যেহেতু সম্পূরক শব্দ সেহেতু এই সকল হত্যার পেছনে বিশ্বাস শব্দটীও ঘোরা-ঘুরি করছে। বিপদটা এখানেই। ধর্মের যৌক্তিকতা আর ধর্ম বিশ্বাসের যৌক্তিতা দু’টি ভিন্ন বিষয়। ধর্মের যৌক্তিকতা বিজ্ঞান যুক্তি এসব বিষয় দিয়ে খন্ডন করার চেষ্টা করা যেতে পারে বা করতে পারে কিন্তু ধর্ম বিশ্বাস ব্যাপারটা মনোবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্কযুক্ত বৈজ্ঞানিক বিষয়। অতএব যে বিশ্বাসের সাথে মনোবিজ্ঞান জড়িত সেই বিশ্বাসে অধিভুক্ত মানুষগুলো হয় চরম অসাম্প্রদায়িক হবে অথবা চরম সাম্প্রদায়িক হবে এবং আমরা হতেও দেখি তাই অথবা হওয়ার গল্পগুলি শুনি সেই রকম। এই চরমপন্থার কারণেই মূলত হত্যাগুলো হচ্ছে। হত্যার বিষয়টির সাথে দেশীয় রাজনীতির কতটুকু সম্পর্ক আছে সেটা জানি না তবে এর সাথে আন্তর্জাতিক রাজনীতির যে একটা সম্পর্ক সেটা স্পষ্ট বোঝা যায়। তবে বিষয়টির সাথে দেশীয় রাজনীতির সম্পর্ক ঘটনা ঘটার পূর্ববর্তী সময়ের সাথে সম্পর্ক থাকুক বা না থাকুক ঘটার পরবর্তী সময়ের সাথে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িয়ে যায় এবং তা যাচ্ছে।

 

হত্যাসমূহ বন্ধের উপায় কি?;

‘বিচারহীনতায় ‍খুনগুলোর প্রধান কারণ বা খুনিদের বেপরোয়া করে তুলছে’-খুন হওয়া ঘটনাগুলোর ঘটার পরে গণমাধ্যমগুলোতে এই জাতীয় বাক্য বা বিচারহীনতা শব্দটি অনেকবার এসেছে। যাদের মুখ থেকে বাণীগুলো এসেছে তাদেরকে আবার সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবি ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়। যেহেতু বিশেষায়িত ভদ্রলোকগণ এই রকম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাণী প্রদান করে জীবিকা নির্বাহ করেন সেহেতু ওনারা বু্দ্ধিজীবি সে বিষয়ে কোন সন্দেহ থাকে না। তাদের সেই জীবিকা অর্জনে যাতে কোন প্রকার প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি না হয় মন্তব্য করার সময় ওনাদের সে ব্যাপারে যথেষ্ঠ সজাগ দৃষ্টি রাখতে হয়। দৃষ্টি রাখতে গিয়ে মূল সমস্যা এড়িয়ে যাওয়া সেটাও বুদ্ধিদীপ্ত বাণীর পরিচয়ই বটে। কিন্তু আমার যেহেতু জীবিকা অর্জনের দায়বদ্ধতা নেই সেহেতু আমার সঠিক মন্তব্য করতেও কেন সমস্যা নেই। আমার মতে এই ধরনের ঘটনা পুন:পুন ঘটন হয়তো কঠোর ও সঠিক বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে কিন্তু কোন ভাবেই স্থায়ীভাবে বন্ধ হবার সম্ভাবনা নেই। পূর্বের অনুচ্ছেদে ঘটনা ঘটার কারণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে; এই সকল হত্যার ঘটনার সাথে যে সকল কারণ জড়িত রয়েছে সে সকল কারণ কোন ভাবেই শাস্তির মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাছাড়া বিশ্বব্যাপি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখুন শাস্তির কঠোরতা অপরাধ প্র্রবণতা বা মানসিকতা খুবই সামান্য হ্রাস করে থাকে। বরং হিতে বিপরীত হয়ে থাকে। শাস্তির কঠোরতার কারণে অপরাধীরা শাস্তি এড়ানোর নানান কৌশলও রপ্ত করে থাকে এবং অপরাধের ঘটনা সংঘটনের জন্য নানান কৌশলে সংঘবদ্ধ হয়ে থাকে। এর ফলে কখনও কখনও নিরপরাধ মানুষগুলোও অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। তাহলের সমাধানের উপায় কি?

 

 

সমাধানের উপায়

যেহেতু হত্যাগুলো ধর্মীয় সংস্কৃতি কারণে করা হচ্ছে সেহেতু সমাধানের একমাত্র স্থায়ী উপায় হলো- অপরাধ সংঘটনের কারণসমূহের উদ্ঘাটন এবং তা স্বমূলে উৎপাটন। মানুষকে ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে মুক্ত করে আত্মিক বা Spiritual করে গড়ে তোলা যেতে পারে। একজন শিশুর বেড়ে উঠার সময় ধর্মীয় কুসংস্কারচ্ছন্ন জপ না শুনিয়ে silent praying বা নৈতিক ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করা যেতে পারে। তা না হলে পরবর্তীতে আমি, আপনি, ওনি বা যে কারওর মাধ্যমে দশ সংখ্যাটি এগার, বার, তের ইত্যাদি সংখ্যায় পৌঁছাতে পারে।

 

সকলকে ধন্যবাদ

 

 

৪৮১জন ৪৮০জন
0 Shares

১১টি মন্তব্য

  • নীতেশ বড়ুয়া

    আপনারা এই ধরনের পোস্ট লিখে কি প্রমাণ করতে চাইছেন? দেশে ব্রেকিং নিউজ আসলেও সমস্যা, না আসলেও তা নিয়ে কথা বলতে হবে!

    ব্লগার কি? যেভাবে টানছেন সেভাবে তো মনে হয় ব্লগার মানেই আলাদা কিছু একটা জিনিষ! সেই পুরনো লেজ টানাটানি শুরু করলেন-নাস্তিক, আস্তিক আর ব্লগার ইস্যু!

    Just pissed off from all these taglines

    • আলমগীর

      আপনি আপনার মন্তব্যে কি বোঝাতে চাইছেন আমি বরং ভাল বুঝতে পারছিনা। মনে হচেছ আপনি অহেতুক আমাকে হার্ট করতে চাইছেন। ব্রেকিং নিউজ মানেই তো প্রাই সবই খারাপ খবর, তাহলে ব্রেকিং নিউজ সমস্যা নয় কেন?

      ‘ব্লগার কি? যেভাবে টানছেন সেভাবে তো মনে হয় ব্লগার মানেই আলাদা কিছু একটা জিনিষ! সেই পুরনো লেজ টানাটানি শুরু করলেন’-আপনি যে অনুচ্ছেদকে ইঙ্গিত করে এই কথাগুলো বলেছেন সে বিষয়ে আমি আমার মতামত জানাইনি, বরং আমি যাদেরকে ইঙ্তি করে কথাগুলো লিখেছি তাদের পারসেপশান তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। অনুগ্রহপূর্বক আপনি একটু মনযোগসহকারে পড়লেই ভালভাবে বুঝতে পারবেন।

      আপনার জ্ঞানের গভীরতা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই কিন্তু আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হয়েছে পড়ার সময় আপনার Concentration এর ঘাটতি ছিল।

      আমি আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ার নিমিত্তে Clarification দেওয়ারর জন্য প্রতি মন্তব্য করলাম। কোনভাবেই আপনার সাথে দ্বন্দ্বে জড়ানোর জন্য নয়।

      -{@ আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। (3

  • আবু খায়ের আনিছ

    লেখাটা মনযোগ দিয়েই পড়েছি কারণ আগেই কমেন্টসটা দেখে ফেলেছিলাম।

    এই বিষয়টা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে, অনেকেই অনেক কথা বলেছে। অধিকাংশ লেখাতেই শুধু সমস্যার কারণগুলো এসেছে, আপনিও তার বাইরে যান নি। ব্যাতিক্রম কেবল আপনি শেষে সমাধান দিয়েছেন? কিন্তু সেই সমাধান কতটা সময় উপযোগী তা ভাবার বিষয়।
    ধর্মীয় কুসংস্কার মুক্ত হয়ে নৈতিকতা শিক্ষার কথা বলেছেন সমাধান এর এক পর্যায়ে? সীমিত ধমীয় জ্ঞান থেকেই বলছি ধমীয় কুসংস্কার দূর করতে হলে ধর্ম কেই ভালো করে জানতে হবে। সেটা যে ধর্মই হোকনা কেন।
    আপনি এই ধর্মীয় কুসংস্কার শব্দটা দুইবার ব্যবহার করেছেন। আমি বলছি, গৌতম বুদ্ধা,যিশু,মোহাম্মদ, শ্রী কৃষ্ণ বা যাদের কথাই বলেন না কেন এরা কিন্তু ধর্মের মাঝেই মুক্তি খুজে পেয়েছেন আর সেটাই প্রচার করেছেন।
    সমস্যার শুরু যেখান থেকে সেখান থেকেই সমাধান করতে হবে। তা না হলে ভুল হবে।
    ছোট্ট করে একটা কথা বলি, অপরাধীর সাথে ধর্মকে সংযুক্ত করাটা মুর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়।

    তর্ক করা বা আক্রমণ করার জন্য নয়, নিজের সীমিত জ্ঞান থেকে কথাগুলো বললাম।

    • আলমগীর

      আপনার মন্তব্য পড়ে বুঝতে পারছি আপনি লেখাটা সত্যিই মনযোগ দিয়ে পড়েছেন। শেষে কথা প্রথমে বললে বলতে হয় আপনি আক্রমণ করে মন্তব্য করেনি। আপনার ভদ্রোচিত দ্বিমত পোষণের উচিত্য নিয়ে আমার কোন দ্বিমত নেই।

      সীমিত ধমীয় জ্ঞান থেকেই বলছি ধমীয় কুসংস্কার দূর করতে হলে ধর্ম কেই ভালো করে জানতে হবে। সেটা যে ধর্মই হোকনা কেন।–আপনার এই বাক্যের সাথে আমিও একমত। কিন্তু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে চোখ-কান খোলা রেখে জ্ঞান অর্জন করলে সমস্যা থাকেনা কিন্তু এর ব্যতিক্রম হলে সমস্যা বাড়ে।

      গৌতম বুদ্ধা,যিশু,মোহাম্মদ, শ্রী কৃষ্ণ বা যাদের কথাই বলেন না কেন এরা কিন্তু ধর্মের মাঝেই মুক্তি খুজে পেয়েছেন আর সেটাই প্রচার করেছেন।—এই বা্ক্য সম্পর্কে ছোট মন্তব্য করে শেষ করা একদমই সম্ভব নয়। তবু ছোট্ট করে বললে বলতে হয় আমি যতটুকু পড়েছি তাতে মনে হয়েছে-যিশু খ্রীস্ট আর ক্রিশ্চিয়ানীটি এক নয়, গৌতম বৌদ্ধা কোন ধর্ম প্রবর্তক ছিলেন না তবে মানুষের মুক্তির জন্য সবচেয়ে সুন্দর কাজ করে গেছেন, কৃষ্ণা বিষয়ে বই স্টকে আছে এখন পড়া হয়ে উঠেনি, মোহাম্মদীয় সুফিজমটা অনেক সুন্দর কিন্তু এক্ষেত্রে সুফিজমকে ছড়িয়ে জিহাদীজমটাই বোধ হয় বেশি ছড়ানো হয়েছে আর সমস্যার ব্যাপকতা তখনই শুরু হয়েছে। তবে সার্বিক বিষয়গুলো বুঝতে হলে আমাকে এখন অনেক অনেক পড়তে হবে। আপনার অসাধারণ মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

      • আবু খায়ের আনিছ

        বৌদ্ধ ধর্মে জীব হত্যাই মহা পাপ, সেখানে মানুষ ত আরো পড়ে। ক্রিশ্চান আর মুসলিম কাছাকাছি কিন্তু মানুষ হত্যা উভয় ধর্মই সমর্থন করে না।
        সুফিজম কে জিহাদীজম টা ছড়ানো হয়েছে বেশি মেনে নিলাম। এখন আমাদের দ্বায়ীত্বটা কি? ধর্মকে দোষারুপ করা নাকি তাদের এই ভুল ভ্রান্তিগুলো দূর করা? আগেও বলেছি ধর্মকে দোষারুপ করা মূর্খতা ছাড়া আর কিছু নয়। সুতরাং এদের ভুল ভ্রান্তিগুলো দূর করাই শ্রেয়।
        আরেকটা কথা, প্রতিকার নয় প্রতিরোধ হোক এটাই সবার কাম্য। অপরাধীর শাস্তি হওয়ার চেয়ে বেশি জুরুরি অপরাধ না হতে দেওয়া। -{@ ধন্যবাদ আপনাকে। (y)

  • শুন্য শুন্যালয়

    আপনার লেখাটি মন দিয়ে পড়লাম ভাইয়া। কিছুটা সহমত এবং কিছু দ্বিমত আছে। হত্যাগুলো রাজনৈতিক নয় এটা মানিনা। সমসাময়িক এইসব হত্যাকান্ডের পূর্বেও আমাদের দেশে বাংলা ভাই এর জন্ম হয়েছিল, একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটেছে। এবং এইসব জংগীরা কোন না কোন ইস্যুতে এসব করতে থাকবেই। কেন করবে সেই কারনটা যত তাড়াতাড়ি বুঝতে পারি ততই মঙ্গল। ধর্ম বিশ্বাস আর অবিশ্বাস কোনভাবেই এইসব হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছেনা। যদি তাই হতো তাহলে পাকিস্তানে শিশু বহনকারী বাসে কিংবা স্কুলে শতশত মৃত্যুর কারন ঘটতোনা। আবার আমাদের দেশের মতো আধা শিক্ষিত মানুষদের কাছে স্পিরিচুয়াল বা ধর্মের বাইরে গিয়ে শিক্ষা দেয়াও অসম্ভব বলে মনে করি। এইসব জংগী বা হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে পরিবারের বাইরেও সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে আমাদের দেশের ইমাম বা ধর্ম প্রচারকারীরা। তারা যখন ইনফ্লুয়েন্স করে মানুষ কে বিপথে নিচ্ছে, সুপথেও তারা পারবে।
    আর নৈতিক ধর্মের বিকল্প আসলেই নেই, এতে সহমত পুরোপুরি। আপনাকে ধন্যবাদ ভাই।

    • নীতেশ বড়ুয়া

      আসলে যতোদিন এই ‘ব্লগার’ নামের অতিমানব জাতীয় প্রাণী আলাদা করে চর্চিত হবে, এই চর্চার সাথে আমরা যতোদিন আস্তিক, নাস্তিক সম্পর্কিত পোস্ট দেবো ততোদিন হত্যা, হত্যার চেষ্টা, নৈতিকতার অবক্ষয় চালু থাকবে।

      এ নিয়ে যতোই চর্চা করছি এইসব আস্তিক নাস্তিক আর ব্লগার ট্যাগ ব্যবহারে ততোই ক্ষিপ্ত হচ্ছে চারিদিক।

    • আলমগীর

      হত্যাগুলো রাজনৈতিক নয় এটা মানিনা।–আপনার কথাও সত্য হতে পারে।
      ধর্ম বিশ্বাস আর অবিশ্বাস কোনভাবেই এইসব হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছেনা। যদি তাই হতো তাহলে পাকিস্তানে শিশু বহনকারী বাসে কিংবা স্কুলে শতশত মৃত্যুর কারন ঘটতোনা। আপনি সত্য আর আমি ভুল প্রমাণিত হলেই ভাল হবে।

      আবার আমাদের দেশের মতো আধা শিক্ষিত মানুষদের কাছে স্পিরিচুয়াল বা ধর্মের বাইরে গিয়ে শিক্ষা দেয়াও অসম্ভব বলে মনে করি।—যদি রাতা-রাতি কোন বিপ্লব ঘটানোর কথা ভাবা হয় তাহলে আপনার কথা সত্য কিন্তু আমি সেইরকম কিছু বলিনা। ভাল পরিবর্তন যদি করতে চাই এখন থেকে শুরু করে আগামী দুই প্রজন্ম সময় ব্যয় করতে হবে। শুরু না করলে তো হলো না।

      তারা যখন ইনফ্লুয়েন্স করে মানুষ কে বিপথে নিচ্ছে, সুপথেও তারা পারবে।–তবে সুপথে আনলে খুব ভাল হয়।
      সুন্দর মন্তব্যর জন্য ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ