সময়ের ডানা দেখা যায়না । যতোই আমরা ছুটতে থাকি , মনে করি অনেক দূরে এগিয়ে গেছি । আসলে আমরা সকলেই একই জায়গায় , সময় শুধু বদলে যায় । একটা গল্প না বললে নয় ।
ঈশ্বর একজন মানুষকে সুযোগ দিলেন , তার কি কোনো প্রশ্ন আছে কিছু জানার ? যার উত্তর জানলে পর জীবনের অনেক কঠিন সমস্যা পাড়ি দিতে কষ্ট হবেনা ।
মানুষটি বললো , “হে ঈশ্বর শুধু কি একটি প্রশ্ন করতে পারবো ? অনেকগুলো কি করা যাবেনা ?”
ঈশ্বর তখন বললেন , “প্রশ্নের পিঠে যদি প্রশ্ন রাখতে পারো , মানে আমার উত্তরে যদি কোনো প্রশ্ন তৈরী হয় , তাহলে একাধিক প্রশ্ন করায় কোনো বাধা নেই ।”
মানুষটি শুনে খুব খুশী হলো । স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো ।
ঈশ্বর বললেন , “কি হলো প্রশ্ন করো , আমি উত্তর দেবো ।”
মানুষটি জিজ্ঞাসা করলো , “সমগ্র মানব জাতির জন্যে তুমি কি এমন চমক তৈরী করেছো , যার জন্যে তোমাকে সবাই খোঁজে ?”
ঈশ্বর হেসে বললেন , “আমি পরিবর্তন এনেছি । একটি শিশু জন্ম নেয় , তারপর সে শৈশবকালের আনন্দ নেয় । কিন্তু যেই বিরক্তি এসে যায় , তখন সেই শিশু বড়ো হয় , এভাবে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে । একসময় আবারও শিশু হয়ে যায়। সেই শিশুত্ত্বে একাকীত্ত্ব গ্রাস করে। তখন জীবনের পরিক্রমা শেষ হয় ।”
মানুষটি তখন আবার বললো , “এমন করে কি পাও তুমি ? তাদের সারাটি জীবন যদি শেষই হয়ে যাবে , তাহলে কেন জন্ম ?”
ঈশ্বর আবারও হাসলেন এবং বললেন , “মানব জাতি অনেক লোভী । তাদেরকে সুশিক্ষা দিতে চাই ,কিন্তু তাদের কিছুতেই সেই জ্ঞান হয়না । তারা আজকের আনন্দ উপভোগ না করে আগামীকালের কথা ভাবে । তারা সুসাস্থ্যের কথা না ভেবে অর্থের পেছনে ছোটে । অর্থ যখন হয় , তখন তাদের সেই শক্তি থাকেনা আনন্দ করার । এতোটাই ভবিষ্যতের পেছনে দৌঁড়ুতে থাকে যে ভুলে যায় বর্তমানটাই সব । একসময় তারা না পায় সুন্দর বর্তমান , না ভবিষ্যত । এই ভবিষ্যত যে তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করাবে , সেটা মানুষ মনে রাখেনা ।”
মানুষটি এবার প্রশ্ন করলো , “তুমি কেন জেনেও মানব জাতিকে ফেরাও না ?”
ঈশ্বর বললেন , “মা যে শিশুকে জন্ম দেয় , তাকে ছোট থেকেই শিক্ষা দিয়ে যায় , যেনো মিথ্যে না বলে , অন্যায়ের প্রতিবাদ করে । সেই শিশু কি আদৌ শোনে ? যারা শোনে তারাই উপভোগ করে জীবন । আর তো কোনো প্রশ্ন নেই । নাকি আছে ?”
মানুষটি বললো , “তুমি বলে দাও কি শিক্ষা দিলে শিশুরা প্রকৃত মানুষ হবে ?”
ঈশ্বর বললেন , “ওদেরকে ভালোবাসতে শেখাও । যে তাকে ভালোবাসে , তার আবেগের সম্মান যেনো দেয় । কখনো যেনো কাউকে অবহেলা না করে । কখনো যেনো কারো সাথে কারুর তুলনা না করে , ক্ষমা করতে শেখাও ।”
মানুষটি এবার প্রশ্ন করতে গেলেই ঈশ্বর বললেন , “দেখেছো তোমায় বলেছিলাম একটি প্রশ্ন করতে , কিন্তু তোমার ঝুলিতে অনেক অনেক প্রশ্ন । মানুষের লোভই তাকে পতিত করে একেবারে নীচের দিকে । সময়ের তাড়া আছে । যে মানুষ সময়কে ছুঁতে চায় সে পড়ে যায় , সে জয়ী হতে পারেনা । শুধু চাওয়া আর চাওয়া । কি পেলাম , না পেলাম সেসবের হিসেব কষা । হে মানব সবশেষে একটি কথাই বলবো , কোনো কিছুর আশা করে কাউকে কিছু দিওনা । তবে তুমি যদি পেয়ে যাও , তখন বিনিময়ে তোমার আবেগটুকু তাকে দিও । আর জীবনে ওটাই পাওয়া । সময় তোমায় কি দিলো , কি দেবে সেসব ভাবতে যেওনা । তুমি দিয়ে যাও ।”
মানুষটি আবারও বলতে গেলো , ঈশ্বর থামিয়ে দিয়ে বললেন , “ওই যে দূরে কি দেখছো তুমি ? সবুজ বৃক্ষ । আমি ওই বৃক্ষের শুকনো পাতা ঝরতে দেখছি । একই দৃশ্য দুজন দু’ভাবে দেখে । সময়ও এমন । একই সময়ে ঘটে যাচ্ছে জন্ম এবং মৃত্যু ।” ঈশ্বর এটুকু বলেই অদৃশ্য হলেন ।

গল্পটি কেমন লাগলো ? কেন বললাম এই গল্পটি ? সময়ের পেছনে আমরা কিভাবে ছুটতে থাকি । আশা বাড়তে থাকে , আর আমরা আরোও পাবার জন্যে দৌঁড়ুতে থাকি । তাই তো এতো না-পাওয়ার যন্ত্রণা ভোগ করি আমরা । আবার পাশাপাশি সাময়িক আনন্দও । সময়ের স্রোত একেকটি কূলে আছড়ে পড়ে । যেমন আমাদের এই ব্লগ সোনেলার জন্ম দু’ বছর সময়ের স্রোতে ছুটে চলছে অবিরাম গতিতে । কেউ কিছু আশা করে কি লিখছি আমরা ? নামী-দামী হতে নাকি আনন্দ বিলোতে ? আনন্দই আনন্দকে টানে । ঈশ্বরের একটি কথা বলে আজকের এই লেখাটির ইতি টানবো… “কি পেয়েছিলে , কি পাচ্ছো , আর কি পাবে সেটা ভাবতে যেওনা । কাজ করে যাও , দিয়ে যাও উজাড় করে । বিনিময়ে কি পাবে সেসব চিন্তা না করাই শ্রেয় ।”

আমি বলি কি সোনেলা ব্লগ কিছু পাবার আশায় তৈরী হয়নি । কেবলই দিয়ে যাচ্ছে , আর মনকে ভরিয়ে দিচ্ছে অফুরান আনন্দে । শুভ বর্ষপূর্তি আমার প্রিয় সোনেলা…
হ্যামিল্টন , কানাডা
২ ৪সেপ্টেম্বর , ২০১৪ ইং ।

৪২৮জন ৪২৮জন
0 Shares

৩২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ