ইয়াম্মি ইয়াম্মি

বনলতা সেন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪, বুধবার, ০৭:১৬:৪১পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৫৮ মন্তব্য

*বুনো,শুনছো
**হু
*হু কী?
**শুনছি
*ঠিক বলছো
**হু
**জানালায় কী ! ভে-ত-রে এসো।
*কথার কী ছিরি! আজকাল যা হয়েছো না !
**হু
*আবার হু? নাছরিনের সাথে কী এমন ফুসুর-ফাসুর?
**আরে নাহ্,এদিকে এক মহা কাণ্ড বেধেছে।যাক্ যা বলছিলে,বল এবার।
*ভাবছি,তোমার কাছে বলা ঠিক হবে কিনা,তোমার যা পেট-পাতলা। কোথায় কখন কী বলে ফেল।
**নাহ,কোথাও বলব না।
*বলবে না তা তো হরহামেশাই বল,বলার সময় আর এ কথা মনে থাকে না।
**তাতে সমস্যা কী?
*সমস্যা কিছুই না,শুধু মান-ইজ্জতের ফালুদা হবে।
**ফালুদা হলে সমস্যা কী? ফালুদা খেতে আমি খুব পছন্দ করি।ঐ যে সেবার পুরোন ঢাকায় ফালুদা খেতে গিয়ে নাছরিনের সেই মহাকাণ্ড বাঁধানোর গল্প, আহারে তোমাকে বলা হয়নি ! টানা দু’দিন হেসেছি। গায়ে মাথায় ফালুদা নিয়ে পড়িমরি সে কী দৌড় সেই ছেলেটির,কোন দিকে না তাকিয়ে।গায়েপড়া ভাব থাকলেও দেখতে মন্দ ছিল না।
*যাও,তোমার সাথে কথা নেই।
**কেন?আমি আবার কী করেছি?
*আমি এলাম একটি মজার গোপন কথা তোমাকে বলতে, তুমি নিজের গল্প বলতে শুরু করে দিলে? না তোমাকে বলা ঠিক হবে না।আমার মনে হচ্ছে তুমি বলে দেবে অন্যদের,তা আমি নিশ্চিত। কথা শুরু হলে তো তোমার হুশ-জ্ঞান থাকে না।
**যাও,এবারে তোমার নাক ধরে বলছি কোথাও কখনও মনের ভুলেও এই গোপন কথা বলব না।কস্মিন কালেও না।
*সত্যি বলছ? তিন সত্যি কর। নাক ছুঁয়ে বলতে হবে না। কী যে করনা আজকাল!
**সত্যি সত্যি সত্যি। হল এবার?
*হয়েছে,তবে সাবধান করে দিচ্ছি,বাঁশের বারি যেন মাথায় দিতে না হয়।
**এ দেখছি মহা জ্বালা।তা মাথায় কি এখনই ক্রাশ হেলমেট বা শিং লাগিয়ে নেব?
*ইয়ার্কি হচ্ছে?
**নাহ্।বল এবার,ইয়াম্মি ইয়াম্মি হবে তো?
*হবে হবে,সব হবে।শোন,তোমার আগেই ওখানে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠ ঘনিষ্ঠতা।
**তা আর জানিনে,আমি ও তো ওর কাছেই তোমার কথা শুনি এবং তারপরই ইয়ে হয়ে যায়।
*কী না কী বল মাথা-মুণ্ড। বাদ দাও। নাছরিনের গল্প বল।
**ফালুদার গল্পটি বলব?
*না,এটি এখন থাক,অন্য একটি বল।
**সে তো হাজার রজনীর গল্প,কোনটা রেখে কোনটা যে বলি।আচ্ছা একটি মারামারির গল্প বলি। একবার হয়েছে কী জান,দু’টি ছেলে পথে যেতে যেতে আমাদের ইভ টিজিং করছিল।জানইত আমি দেখতে শুনতে তেমন নই,নাছরিন মাশাল্লা ভালই হামটি-ডামটি হৃষ্ট-পুষ্ট,হি-হি—-।তাই টিজিং এর লক্ষ্য সে ই। আচ্ছা আগে তোমার ইয়াম্মি গল্পটি শুনে নেই।
*আচ্ছা,বলছি,মন দিয়ে শোন। সেবারে ঘুরতে গেলাম  এর সাথে অমরাবতীতে  ………না না,আগে কুম্ভ মেলারটি বলি……

**কী!!!!!!!!? কী বললে!!!!!? দাঁড়াও দাঁড়াও,একটু হেসে নেই,হা…হা…হা…………হি হি ……..নাঙ্গা সন্ন্যাসী ?……………বল বল তাড়াতাড়ি।
*এ দেখছি মহা দুষ্টু। যাই ভাগি এবার।(বলে ফেললে খুব ভুল হয়ে যেত,নাছরিনের সাথে গলাগলি করে হাসির যে ফোয়ারা ছোটাবে তাতে স্বর্গ-মর্তের অলি-গলি ও বাদ যে যাবে না তা ভাল করেই বুঝতে পারছি,বাতাসের কানাকানির কথা নাই বা বললাম।)
**দু’মুঠো নরম জুঁইয়ের সুবাস নিয়ে ফিরে এসো,যেমন এসেছো তুমি আগেও।

ভোরের হৃদয়ে সুগন্ধের সোনালী ঝলক।
—————————————————-

এসো,
নিভৃত ভোরের জ্যোৎস্নায় হাঁটু গেড়ে বসে
শিশির ভেজা দু’জোড়া মুগ্ধ চোখে ধ্যানী আকাশ দেখি।
বিশুদ্ধ অনাহারে প্লাবন ভালোবাসায়
অমরাবতীতেই তোমাকে চাই,
কুম্ভের মেলায় নয়।(জিবে কামড়ের ইমো হবে)

হে আমার অবিনাশী বান্ধব
বিষের বাঁশি নিয়ে এসো,
বাজাব দু’জনে মিলে,বাজব দু’জনে
পারুল বকুলের নকশিকাঁথায়
গভীর বনভূমের বিলাসী স্রোতে ।

১০৮ টি নীলপদ্ম ছাড়াই ভোর কথা দিয়ে কথা রেখেছে।
========================================================================================
ছিনতাইয়ের দায় নিতে পারব না। কেউ ইচ্ছে করলে সোনার শিকলে বেধে রাখার চেষ্টা করে দেখতে পারে,কাজ হবে বলে মনে হয় না। তবে বাঁশের ভয় থেকেই যাচ্ছে।
মন থেকে আসা শব্দগুলো লিখতে পারলাম না। বিকল্পে সত্যি ভাব প্রকাশ করা কঠিন।দায় কাউকে না কাউকে নিতেই হবে।

৫১৫জন ৫১৬জন
0 Shares

৫৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ